1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৬:০২ অপরাহ্ন

অতিরিক্ত ঘুম! সমস্যা নয় তো?

ঘুমাতে কে না ভালোবাসে? সারাদিনের ব্যস্ততার পর রাতে শান্তির ঘুম আসবে- এটা তো সবারই চাওয়া! সুস্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই, তা আমরা সবাই-ই জানি। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশি ঘুমালে শরীরের কী কী ক্ষতি হতে পারে, সেগুলো জানেন কি? অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে মানুষ যেমন নানারকম শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগে, ঠিক তেমনি অতিরিক্ত ঘুমও আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হইয়ে দাঁড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপিং ফাউন্ডেশন সাম্প্রতিক সময়ে তাদের একটি গবেষণায় বলেছে, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী একজন মানুষের সুস্থ থাকার জন্য সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট।

কারো কাছে যদি মনে হয়, সাত ঘণ্টা একটু কম হয়ে যাচ্ছে। অসুস্থ বা দুর্বল লাগছে তাহলে বিশেষজ্ঞরা আরো এক ঘণ্টা ঘুমানোর অনুমতি দেন। কিন্তু কোনোভাবেই এর বেশি ঘুমানো ঠিক নয়। বন্ধের দিনে একটু বেশি ঘুমালে কোনো অসুবিধা নেই; তবে তা-ও যেন নয় ঘণ্টার বেশি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

অনেকেই মনে করেন, ঘুম বেশি হলে তা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঘুম কখনোই আমাদের শরীরের জন্য উপকারী নয়। অতিরিক্ত ঘুমের কারণে আমাদের শরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাহলে চলুন জেনে নেই, সেই সমস্যাগুলো কী কী হতে পারে-

ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা সারা জীবনের জন্যে বয়ে বেড়াতে হয়। কারণ একবার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে তা আর কখনো সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়। সারাবিশ্বে ডায়াবেটিসের কারণে প্রতি বছর ১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে, তার মধ্যে একটি কারণ হচ্ছে অত্যাধিক ঘুম। অত্যাধিক ঘুমের ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়, যার ফলে টাইপ-টু ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়, দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম এবং দীর্ঘসময় ঘুমানোর সঙ্গে টাইপ-টু ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ার একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট (Lancet Global Health) তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩১ হাজার ৪৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আশংকা করা হচ্ছে, ২০৪০ সালে এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৯ হাজার ৭৫০ হতে পারে। অর্থাৎ বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হবে ডায়াবেটিস।

ওজন বৃদ্ধি
দিন দিন মোটা হয়ে যাচ্ছেন বলে খুব চিন্তায় আছেন? ডায়েটিং কিংবা ব্যায়াম করেও কোনো লাভ হচ্ছেনা? মনে করে দেখুন তো, আপনি কি অতিরিক্ত ঘুমাচ্ছেন? কারণ অতিরিক্ত ঘুম স্থূলতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। কম ঘুমালে যেমন এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, ঠিক তেমনিভাবেই অতিরিক্ত ঘুমালেও এই সমস্যা হয়। অনেকে আবার খাওয়াদাওয়া করার পরপরই ঘুমিয়ে পড়েন, এতে করে ওজন বৃদ্ধির সাথে পেটে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও হতে পারে। বেশি ঘুমালে শরীরে নড়াচড়া কম হয়, ফলে ক্যালোরি ক্ষয় হয় না, যার কারণে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়।

হতাশা
অত্যধিক ঘুম আপনার নির্দিষ্ট ঘুমচক্র নষ্ট করে দেয়। দিনে বেশি ঘুমালে রাতে আপনার ঠিকমতো ঘুম হবে না আর এভাবে প্রতিনিয়ত রাত জাগতে থাকলে তা ধীরে ধীরে আপনাকে হতাশার দিকে ঠেলে দিবে।

২০১৪ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, বেশি সময় ধরে ঘুমানোর ফলে মানুষের মধ্যে অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি বিষণ্ণতার লক্ষণও প্রকাশ পায়। গবেষণায় উঠে আসে, যারা ৯ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমান, তাদের মধ্যে বিষণ্ণতার লক্ষণ প্রায় ৪৯ শতাংশ বেড়ে যায়।

হার্টের সমস্যা
আমাদের দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো হার্ট (heart)। আগে দেখা যেত মধ্যবয়স্ক লোকেরাই শুধু হার্টের রোগে আক্রান্ত হতেন। এখন বয়স্কদের পাশাপাশি অল্পবয়সের তরুণ-তরুণীরাও বিভিন্ন ধরণের হার্টের আক্রান্ত হচ্ছেন।

কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, হার্টের সমস্যার একটি কারণ হতে পারে অত্যধিক ঘুম। গবেষণা করে চিকিৎসকরা এমন কথাই জানিয়েছেন। অতিরিক্ত ঘুমের কারণে দেখা দিতে পারে আপনার হার্টের সমস্যা।

২০১২ সালে আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজির এক গবেষণায় বলা হয়, আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নিয়মিত ঘুমালে হৃদযন্ত্রের সমস্যা বাড়তে থাকে। অতিরিক্ত ঘুমান এমন তিন হাজার মানুষের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, অন্যদের চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ এনজিনা (angina) এবং দেড়গুণ করোনারি আর্টেরি (coronary artery) রোগের ঝুঁকিতে ভোগেন অতিরিক্ত ঘুমকাতুরে মানুষগুলো।

মস্তিষ্ক ও স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে
যারা অতিরিক্ত ঘুমান, তাদের মস্তিষ্ক আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ে। আর দুর্বল মস্তিষ্ক আমাদের সৃজনশীলতাকে কমিয়ে দেয়। তাই অত্যধিক ঘুমের ব্যাপারে সাবধান হওয়া খুবই জরুরি। একটানা নয় ঘণ্টার বেশি ঘুম দুর্বল করে দিতে পারে আপনার মস্তিষ্ক ও স্মৃতিশক্তিকে। আক্রান্ত হতে পারেন Alzheimer’s কিংবা Dementia এর মতো ভুলে যাওয়ার রোগে। ২০১২ সালের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, খুব কম বা খুব বেশি সময়ের ঘুম মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা হ্রাস করে। ঘুমের ভেতরে মানুষের স্মৃতি তৈরি হয়, বিশেষ করে হালকা ঘুমের সময়। কিন্তু একটানা দীর্ঘসময়ের ঘুম এক্ষেত্রে সে প্রক্রিয়ায় বাঁধা দেয়। তাই এই ধরণের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

কর্মক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ কমে যাওয়া
চিকিৎসকরা বলেন, একজন মানুষের রাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন যেন পরেরদিন দেহ ও মন কর্মক্ষম থাকতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত ঘুম মানুষের কর্মশক্তি ও কাজের উদ্যম কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়াও বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঘুমালে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে এবং সাধারণ থেকে শুরু করে বড় যেকোনো রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকেনা ও শারিরীক শক্তি হ্রাস পায়।

উপরোক্ত সমস্যাগুলো ছাড়াও অত্যধিক ঘুমের ফলে আরো কিছু সমস্যা দেখা দেয়, যেমন- অলস হয়ে যাওয়া, আয়ু কমে যাওয়া, নারীদের গর্ভধারণের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, মাইগ্রেনের সমস্যা, শরীর ব্যথা হওয়া, মেজাজ সব সময় খিটখিটে থাকা, ব্লাড প্রেসার এবং রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। এছাড়াও অতিরিক্ত ঘুম আপনার শরীরের ন্যাচারাল বডি ডিফেন্সকে নষ্ট করে দেয়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে কতো রকমের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারেন আপনি। তাই একজন সুস্থ মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাইলে, অত্যধিক ঘুমকে ‘না’ বলুন আজ থেকেই! নিজের পাশাপাশি অন্যদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে এখনই ব্লগটি শেয়ার করুন আপনার আপনজনদের সাথে!

আরো পড়ুন

© All rights reserved © 2021 power of people bd
Theme Developed BY Desig Host BD