1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন

আইনস্টাইন ও ক্লড শ্যাননের মজার গল্প!

ক্লড শ্যানন তখন সবে এম.আই.টি থেকে পি.এইচ.ডি শেষ করে যোগ দিয়েছেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইন্সটিটিউট অব এডভান্সড স্টাডি’তে। তার যুগান্তকারী ইনফরমেশন থিওরি তখনো দেননি তিনি, যার জন্যে পরবর্তীতে তিনি কিংবদন্তী হয়ে উঠেছিলেন। তবে বুলিয়ান বীজগণিতকে ইলেক্ট্রণিক সার্কিটে প্রয়োগ করার বিষয়ে তার মাস্টার্স থিসিসটি তাকে বেশ খ্যাতি এনে দিয়েছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জগতের অনেকেই বেশ ভালোভাবে চিনত তাকে।

তিনি যখন প্রিন্সটনে যোগ দেন, সেখানে তখন তারার মেলা। জন ভন নিউম্যান, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, রিচার্ড ফেইনম্যানের মতো ব্যক্তিত্বরা আসর জমিয়ে রেখেছিলেন প্রিন্সটনে। এসময় আইনস্টাইনের সাথে বেশ মজার একটি স্মৃতি রয়েছে শ্যাননের। একদিন তিনি লেকচার দিচ্ছিলেন প্রিন্সটনের ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে। এসময় হঠাৎ আইনস্টাইন প্রবেশ করেন সে রুমে। তিনি কিছুক্ষণ শ্যাননকে দেখলেন, তারপর অন্য একজনকে কিছু একটা বলে বেরিয়ে গেলেন রুম থেকে।

লেকচার দিতে থাকা তরুণ শ্যানন ভেবেছিলেন, হয়তো তার সম্পর্কে কিছু বলেছেন পদার্থবিজ্ঞানের এ জীবন্ত কিংবদন্তী। তিনি লেকচার থামিয়ে দ্রুত ঐ ব্যক্তির কাছে গেলেন, যার সঙ্গে আইনস্টাইন কথা বলেছেন। জিজ্ঞেস করলেন, আইনস্টাইন এসে কী বলে গেছেন? ভদ্রলোক কিছুটা অবাক হয়ে বললেন, উনি তো জানতে চাইছিলেন চা কোথায় আছে? শ্যানন ভীষণ লজ্জ্বা পেয়েছিলেন। তবে পরবর্তী জীবনে এ ঘটনা কখনো ভুলেননি তিনি। হাসতে হাসতে বিভিন্ন স্বাক্ষাৎকারে এ ঘটনার বর্ণনা করতেন তিনি।

শ্যাননের সম্পর্কে আইনস্টাইন সেদিন কিছু না বললেও, পরবর্তীতে শ্যাননের কাজের গুরুত্ব বোঝাতে আইনস্টাইনের কথা বারবার উঠে এসেছে। বেল ল্যাবসে শ্যাননের সহকর্মীরা প্রায়ই ইনফরমেশন থিওরিতে শ্যাননের কাজের তুলনা করতেন, পদার্থবিজ্ঞানে আইনস্টাইনের কাজের সাথে। আইনস্টাইনের মতো শ্যাননের কাজও মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী আমূলে বদলে দিয়েছিল।

বর্তমানে যে ডিজিটাল প্রযুক্তির দুনিয়ায় আমাদের বসবাস, তার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন ক্লড শ্যানন। ‘ইনফরমেশন’ শব্দটিকে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন তিনি। ইনফরমেশন পরিমাপের একক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন ‘বিট’কে। ইনফরমেশন থিওরি নামে জ্ঞানের একটি শাখা গড়ে তুলেছেন প্রায় শূন্য থেকে। সর্বোপরি যোগাযোগ প্রযুক্তির গাণিতিক ভিত্তি দাঁড় করিয়েছিলেন তিনি। তার কাজের ওপর ভিত্তি করেই আজকে যোগাযোগ প্রযুক্তির এতোটা অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

এখন একটি প্রশ্ন উঠতে পারে, যদি ক্লড শ্যাননের কাজ এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে আইনস্টাইনের মতো বিখ্যাত নন কেন তিনি? প্রশ্নটি যুক্তিযুক্ত। এর জবাবটি হলো, শ্যানন নিজেই আসলে বিখ্যাত হতে চাননি। তার খ্যাতি যখন তুঙ্গে, সে সময় তিনি নিজেকে আড়ালে টেনে নিয়েছিলেন। অনেক মানুষের সামনে কথা বলার অভ্যাস ছিল না তার, অস্বস্তি বোধ করতেন তিনি। তাই সভা-সেমিনারেও যোগ দেয়া বন্ধ করে দেন। তিনি নিভৃতে থাকতে ভালোবাসতেন আর ভালোবাসতেন নিজের কাজের জগতে ঢুবে থাকতে।

আরো পড়ুন