1. powerofpeopleworld@gmail.com : jashim sarkar : jashim sarkar
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:০৮ অপরাহ্ন

ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (IPE) কি ও কেন পড়বেন!

আইপিই কি ও কেন পড়বেন !

কোনো দেশের উন্নয়ন তার উৎপাদন-ব্যবস্থার ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করে। যে দেশের উৎপাদন যত বেশি, সে দেশ অর্থনৈতিকভাবে তত শক্তিশালী। তাই উৎপাদন বাড়াতে পৃথিবীর দেশে দেশে বেড়ে চলেছে শিল্প-কলকারখানা। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সম্ভাবনা।

কিন্তু কোনো পণ্য উৎপাদন করতে গেলে মান নিয়ন্ত্রণ, যন্ত্রের সর্বোচ্চ ব্যবহারসহ বেশ কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আর এসব ধাপে দরকার হয় দক্ষ শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশলী। তাই পেশা হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। একটি ওয়েবসাইটে দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেশার মান ও পেশাজীবীর সংখ্যার হিসেবে প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা উৎপাদন প্রকৌশল তিন নম্বর স্থানে রয়েছে।

ম্যানুফেকচারিং ও ম্যানেজমেন্ট – এই দুই বিষয়ের কম্বিনেশন হচ্ছে আইপিই। এই বিভাগে প্রডাক্ট ডিজাইন, ম্যানুফেকচারিং এবং শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনাসহ ইঞ্জিনিয়ারিং এর মৌলিক বিষয় সমূহ পড়ানো হয়ে থাকে। এখানে প্রকৌশল এর মৌলিক বিষয় শিক্ষা দেবার পাশাপাশি কিভাবে উপস্থাপনা দক্ষতা বাড়ানো যায়, দলগত কাজ করা, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়ানো; ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হয়। বর্তমানে বংলাদেশ তথা বহির্বিশ্বে চাকুরী ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন বিষয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে রয়েছে এ বিষয়টির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। কারণ দেরিতে হলেও বাংলাদেশ ধীরে ধীরে শিল্প ক্ষেত্রে উন্নত হচ্ছে। আর আইপিই ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাধারনত আমাদের দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট গুলোতে ম্যানেজমেন্ট কিংবা অর্থনীতির উপর কম গুরুত্ব দেয়া হয়। যা পরবর্তীতে চাকুরী ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এবং পরবর্তীতে অনেককে বাধ্য হয়ে এমবিএ করতে হয়। কিন্তু আইপিইতে ম্যানুফেকচারিং এর পাশাপাশি ম্যানেজমেন্ট এর প্রতি জোর দেয়া হয় যার ফলে আইপিই ইঞ্জিনিয়াররা ইঞ্জিনিয়ারিং এর পাশাপাশি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে দক্ষতা লাভ করে। পাশাপাশি বাংলাদেশের যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আইপিই ডিপার্টমেন্ট আছে, সবগুলোতেই রয়েছে দারুন ও সুসজ্জিত ল্যাব ফ্যসিলিটি যা তোমাকে সকল নতুন নতুন যন্ত্রপাতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে। একই সাথে নিজের প্রতিভা কে বিকশিত করার সুযোগ করে দিবে।

বাংলাদেশেও শিল্প-কলকারখানার প্রসারের ফলে উৎপাদন প্রকৌশল পেশায় কাজের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাফিস আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশে উৎপাদন প্রকৌশল বিষয়ে কাজের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই ধীরে ধীরে পেশা হিসেবে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে পড়াশোনা করে যে কেউ তাঁর কর্মজীবন নিশ্চিন্ত করতে পারেন। কারণ, একজন পেশাজীবী হিসেবে অর্থ, সম্মান, সৃজনশীলতা—সবকিছুর সুযোগ রয়েছে এখানে।’ তিনি বলেন, কাজের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় দেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। উৎপাদন প্রকৌশল বিষয়টি শিল্পকেন্দ্রিক হওয়ায় কোথাও কোথাও এটি শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল নামেও পরিচিত।

একজন আইপিই ইঞ্জিনিয়ারের কাজটা কী ?

একজন উৎপাদন প্রকৌশলীকে একটি শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে লোকবল নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ জনবল তৈরি ও জনবলের সঠিক ব্যবহার, যন্ত্রপাতির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়, প্রশাসন, বাজারজাতকরণ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিপণন পরিকল্পনা, পণ্য ও যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা-মানোন্নয়ন প্রভৃতি কাজ করতে হয়। তবে প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিভেদে একজন উৎপাদন প্রকৌশলীর কাজের তারতম্য হতে পারে।

কাজের সুযোগ যেখানে

আইপিই এর কর্মক্ষেত্রকে তিনভাবে ভাগ করা যায়।

১। ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ারিং

২। ম্যানেজমেন্ট সেক্টর

৩। সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সেক্টর।

বাংলাদেশে পরিচালিত প্রায় প্রতিটি বহুজাতিক কোম্পানিতে এবং অনেক দেশীয় কোম্পানিতে শিল্প প্রকৌশলীরা চাকরি করছেন। উল্লেখযোগ্য কোম্পানিগুলো হল— সিঙ্গার, শেভরন, স্কয়ার, পিএইচপি, রহিম আফরোজ, বাটা, প্রাণ-আরএফএল, ওয়ালটন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ইউনিলিভার, নাভানা, টেলিকম প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, টেলিকম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াই, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নেসলে এবং বিভিন্ন সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। এ ছাড়াও তৈরি পোশাকশিল্পে রয়েছে অবারিত সুযোগ। সবশেষে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের যোগ্যতাতো থাকছেই।

তৈরি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভিয়েলাটেক্স গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শিরিন আক্তার এ সম্পর্কে বলেন, ‘দেশে হালকা, মাঝারি ও ভারী—তিন ধরনের শিল্পেই স্নাতক ডিগ্রিধারী শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশলীর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যকয়েকটি হলো—ভোগ্যপণ্য ও প্রসাধন, জাহাজশিল্প, তৈরি পোশাক ইত্যাদি। এ ছাড়া ব্যাংক, বিমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সাপ্লাই চেইন শপগুলোয়ও এ বিষয়ে কাজের সুযোগ রয়েছে। উৎপাদন ও শিল্পসংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কর্মকর্তা, প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করা যাবে।’

বেতন কেমন

শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনার পর কাউকে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয় না বলে জানান বুয়েটের আইপিই বিভাগের অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধর। তিনি জানান, শুরুতেই একজন উৎপাদন প্রকৌশলী ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মতো বেতন পেতে পারেন। তবে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারলে কয়েক বছরের মধ্যে লাখ টাকা বেতন পাওয়া সম্ভব।

কোথায় আছে পড়ার সুযোগ !

শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিষয়ে দেশের বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো হলো, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এমআইএসটি। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে উৎপাদন প্রকৌশল বিষয়ে চার বছরের স্নাতক কোর্সে ভর্তি হতে হয়। এ ছাড়া উৎপাদন প্রকৌশল বিষয়ে বাংলাদেশ শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে। আর খুব শিগগির ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কোর্স চালু হবে বলে জানান নিখিল রঞ্জন ধর।

যা পড়ানো হয় !

উৎপাদন প্রকৌশল বিষয়ে মূলত পণ্যের পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা আর উৎপাদন সম্পর্কে পড়ানো হয়। সেই সঙ্গে পণ্যের ডিজাইন ও মানোন্নয়ন, পণ্য বাছাই, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে অভিযোজন, পরিকল্পনা আর ব্যবস্থাপনা এগুলোও শেখানো হয় এ ধরনের কোর্সে।

কেমন যোগ্যতা চাই !

আইপিই বিষয়ে চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হতে হলে একজন শিক্ষার্থীর অবশ্যই বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা থাকতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যারা এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছে তারা এই বিভাগে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভর্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য নিয়ম ভিন্ন। তাই যার যে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিস্তারিত তথ্যাবলী জেনে নিতে হবে। তাছাড়া বাড়তি কিছু যোগ্যতা থাকলে এ পেশায় খুব দ্রুত ভালো করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমপিই বিভাগের প্রভাষক ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘এ ধরনের কাজে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় যোগাযোগের। তাই পড়ালেখায় ভালো করার পাশাপাশি যোগাযোগেও দক্ষ হতে হবে।’ এ ছাড়া তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে সৃজনশীলতা আর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাও থাকা চাই।

কোর্স পরিচিতি !

একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে একেকরকম সিলেবাস থাকলেও নিম্নোক্ত বিষয়গুলোই বিভিন্নভাবে পড়ানো হয়।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল সংক্রান্ত বিষয়সমূহ !

accounting: the measurement, processing and communication of financial information about economic entities operations research, also known as management science: discipline that deals with the application of advanced analytical methods to help make better decisions operations management: an area of management concerned with overseeing, designing, and controlling the process of production and redesigning business operations in the production of goods or services.project management: is the process and activity of planning, organizing, motivating, and controlling resources, procedures and protocols to achieve specific goals in scientific or daily problems. job design: the specification of contents, methods and relationship of jobs in order to satisfy technological and organizational requirements as well as the social and personal requirements of the job holder.

financial engineering: the application of technical methods, especially from mathematical finance and computational finance, in the practice of finance management engineering: a specialized form of management that is concerned with the application of engineering principles to business practice

supply chain management: the management of the flow of goods. It includes the movement and storage of raw materials, work-in-process inventory, and finished goods from point of origin to point of consumption.process engineering: design, operation, control, and optimization of chemical, physical, and biological processes.

systems engineering: an interdisciplinary field of engineering that focuses on how to design and manage complex engineering systems over their life cycles.ergonomics: the practice of designing products, systems or processes to take proper account of the interaction between them and the people that use them.safety engineering: an engineering discipline which assures that engineered systems provide acceptable levels of safety.cost engineering: practice devoted to the management of project cost, involving such activities as cost- and control- estimating, which is cost control and cost forecasting, investment appraisal, and risk analysis.

value engineering: a systematic method to improve the “value” of goods or products and services by using an examination of function.quality engineering: a way of preventing mistakes or defects in manufactured products and avoiding problems when delivering solutions or services to customers.

Industrial plant configuration: sizing of necessary infrastructure used in support and maintenance of a given facility.

facility management: an interdisciplinary field devoted to the coordination of space, infrastructure, people and organization engineering design process: formulation of a plan to help an engineer build a product with a specified performance goal.logistics: the management of the flow of goods between the point of origin and the point of consumptin in order to meet some requirements, of customers or corporations.

প্রডাকশন সংক্রান্ত বিষয়সমূহ !

Statics and dynamics

Strength of materials and solid mechanics

Instrumentation and measurement

Applied thermodynamics, heat transfer, energy conversion, and HVAC

Fluid mechanics and fluid dynamics

Mechanism design (including kinematics and dynamics)

Manufacturing technology or processes

Hydraulics and pneumatics

Mathematics – in particular, calculus, differential equations, statistics, and linear algebra.

Engineering design and graphics

Circuit Analysis

Lean manufacturing

Mechatronics and control theory

Automation and reverse engineering

Quality assurance and control

Material science

Drafting, CAD (including solid modeling), and CAM, etc.

গার্মেন্টস শিল্পে প্রয়োগ

আপনি জানেন ইদানীং আমাদের দেশে যে পরিমাণ শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হয়েছে তাতে দেশের গার্মেন্টস শিল্প খুব ঝুঁকির মুখে আছে বলে মনে করেন অনেকেই !! তাই এই শিল্পকে বাঁচাতে এবং নানা সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য উদ্যেক্তরা বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছেন । আর এ বিকল্প পন্থাই হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং । যার মাধ্যমে কম শ্রমিক ব্যাবহার করে অধিক প্রোডাকশন দেয়া সম্ভব । এতে খরচ কমবে আর সময় বাঁচবে অনেক । অপচয় রোধ করা যাবে । যা প্রোডাকশনে প্রসেস লস্ট কমিয়ে লাভ বাড়াতে সাহায্য করবে । আমি মনে করি যদি আমাদের দেশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং আরও বেশি চালু হয় তবে দেশে আরও বেশি গার্মেন্টস কারখানা স্থাপিত হবে । কারণ আমাদের দেশে ম্যাক্সিমাম গার্মেন্টস এ দেখা যায় যে টেকনিক্যাল লোকের থেকে নন-টেকনিক্যাল লোক বেশি । যারা দেখে দেখে কাজ শিখেছে তাদের অনেকেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে জানে না । তাই ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে কিছু জেনে নিই।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং= প্রডাকশন বেশি ,যন্ত্রপাতির ব্যাবহার বেশি ,কাজের দক্ষতা বেশি, কিন্তু খরচ কম।আসুন দেখি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের পরিধি –

industrial 1

indu 2

আসুন জানি SAM কি ? SAM হচ্ছে Standard allowed minute এর দ্বারা কাজের পরিধি নির্ধারণ করা ।এর আসল লক্ষ হচ্ছে কিভাবে প্রোডাকশন বাড়ানো যাবে এবং কোন কনটেন্ট দ্বারা কোন বিষয় সল্ভ করা যাবে সেটা নির্ণয় করা । SAM এর দ্বারা quality এবং cost সম্পর্কে জানা যাবে যে আমার নিদিষ্ট পরিমাণ মালের জন্য কি পরিমাণ খরচ হবে । কি ধরনের প্রোডাকশনের জন্য কি ধরনের লে আউট ব্যাবহার করতে হবে তা একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারই সিলেক্ট করতে পারেন ।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্বঅপারেশন ম্যানেজমেন্ট ও মেশিন বিন্যাস ।ক্রেতা ও স্টাইল অনুযায়ী অপারেশন ম্যানেজমেন্ট ও বিন্যাস।ম্যান মেশিন প্রতিবেদন প্রস্তুত।দক্ষতা নেভিগেশন উৎপাদন ও কর্মীদের ট্রেন আপ।উৎপাদনের মনিটরিং ও লক্ষ্য অর্জন ।দৈনিক লাইনে বিজ্ঞ কর্মী ও টার্গেট সেটআপ ।প্রতি তলায় উৎপাদন ও অপচয় নিয়ন্ত্রণ।দৈনিক, সাপ্তাহিক , মাসিক উৎপাদন পরিকল্পনা (কাটিং , ছাপানো ও সেলাই) প্রস্তুত।ঠিক সময়ে মালপত্র সুসজ্জিত।দৈনিক ক্রাইসিস প্রতিবেদন প্রস্তুত ও SMV(stitch per minute volume) হিসাব।পদ্ধতি গবেষণা ও মোশন স্টাডি ।তথ্য সংগ্রহ ও দক্ষতা প্রতিবেদন।Nonproductive সময় (লস্ট টাইম) রেকর্ড ।মেশিনের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।মেশিন সার্ভিসিং রিপোর্ট ফলো আপ করা ।মনিটরিং এবং মেশিন অপ্টিমাইজ করা ।দৈনিক উৎপাদন, দক্ষতা এবং জনশক্তি রিপোর্ট ।দৈনিক মানের পরিসংখ্যান রিপোর্টের উপস্থাপনা ।মাসিক উৎপাদন এবং চালানের ক্লোজিং রিপোর্ট ।সুসজ্জিত এবং সময়মত নকশা গাইড ফিড এবং ফোল্ডার।M (cut and make) হিসাব।উৎপাদনের পরিকল্পনা।দপ্তর ও কারখানা পরিদর্শন করা ।কারখানা রিসার্চ করা ও সব ডিপার্টমেন্টের উন্নতি করা ।

পোষাক উৎপাদনের জন্য গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে অত্যাধুনিক মেশিন ব্যবহৃত হয়। এসব মেশিনের নিয়ন্ত্রণ, কার্যকারিতা রক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কাজগুলো দক্ষ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে। সাধারণত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির উৎপাদন শক্তি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়াররা দক্ষতার সাথে তাদের প্রকৌশলী জ্ঞান প্রয়োগ করেন। একজন সদ্য Industrial & Production Engineer সরাসরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রথম অবস্থায় একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার-এর প্রারম্ভিক বেতন ২৫-৪০ হাজার টাকা হয়ে থাকে। এবং অভিজ্ঞতার পরিধি বৃদ্ধির সাথে সাথে বেতন কাঠামোও বৃদ্ধি পায়। অনেক ক্ষেত্রে এরা ফ্যাক্টরির কনসালটেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে অনেক টাকা উপার্জন করতে পারেন।

আরো পড়ুন