1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২৫ অপরাহ্ন

ই-বর্জ্যে নজর নেই, দায়ও নিচ্ছে না কেউ!

একটু একটু করে ই-বর্জ্যের পরিমান বাড়ছে দেশে। অনেকটাই অগোচরে স্তুপ জমছে ভিন্ন ধরনের এ বর্জ্যের। তবে পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এ বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারও দৃষ্টি নেই।এ বিষয়ে উদ্যোগ না থাকায় সরকারি হিসাব মেলেনি। তবে এ নিয়ে কাজ করা কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বলছে, দেশে বছরে ২০ থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে।প্রতিনিয়ত এ ধরনের বর্জ্যের পরিমান বাড়ার পেছনে রয়েছে নিম্নমানের ও পুরনো ইলেকট্রনিক পণ্যের আমদানি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধ হলেও একদিকে যেমন আমদানি হচ্ছে পুরাতন কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক সামগ্রি, তেমনি দেশেও ব্যবহার অনুপোযোগী এসব পণ্য পরিণত হচ্ছে ই-বর্জ্যে। বিপুল এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের কোনো বিভাগ এখন পর্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। এমন কী পরিবেশ অধিদপ্তরের নজর নেই এ বিষয়ে। যে কারণে প্রতি বছর বাড়তে থাকা ই-বর্জ্য নিয়ে খুব একটা সচেতনতাও তৈরিও হচ্ছে না।এসব ই-বর্জ্য বেশিরভাগ তৈরি হচ্ছে পুরাতন জাহাজ থেকে। স্ক্যাপ হিসেবে দেশে আসা বিভিন্ন জাহাজের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী অল্প কিছু দিনের মধ্যেই পরিণত হচ্ছে বর্জ্যে।

এর পরেই রয়েছে বিভিন্ন পুরনো প্রযুক্তিপণ্য টেলিভিশন, কম্পিউটার, কম্পিউটার অ্যাক্সেসরিজ ও মোবাইল ফোন।সম্প্রতি রাজধানীতে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সেমিনারে বক্তরা অভিযোগ করেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েকটি সংগঠন কাজ করলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পায় না তারা। আবার ঠিক কী পরিমাণে ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে তার সঠিক কোনো হিসাবও নেই।সেমিনারে উপস্থিত পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, মন্ত্রী হওয়ার পরও আমি জানতাম না ই-বর্জ্য সম্পর্কে। সংসদে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পরেই আমি এ বিষয়ে জেনেছি। এর ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।ই-বর্জ্য নিয়ে অনেকদিন ধরেই কাজ করছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) নামের একটি সংস্থা। সংস্থার গবেষক শাহরিয়ার আলম বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ পরিবেশ অধিদপ্তরকে দেওয়া হয়েছে।

তারা এ বিষয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে।গবেষণার তথ্যানুযায়ী, টেলিভিশন, কম্পিউটার ও কম্পিউটার অ্যাক্সেসরিজ ও মোবাইল ফোন থেকে বছরে এক লাখ ৯১ হাজার টন বিষাক্ত বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, যা ১৫ শতাংশ শিশু মৃত্যুরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ইলেকট্রনিক এসব বর্জ্যে রয়েছে পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর জিংক, ক্রোমিয়াম, নাইট্রাস অক্সাইড, সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, বেরিলিয়ামসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান।এগুলো ক্যান্সার, কিডনির সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, নবজাতকের বিকলাঙ্গতাসহ রক্তনালির বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী বলে বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুব বড় ইস্যু হিসেবে দেখা দিয়েছে। যে হারে দেশে ই-বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে চলেছে তাতে একদিকে যেমন পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে মানুষের স্বাস্থ্যগত দিকগুলোও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি নীতিমালা দরকার।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যেভাবে দেশে পুরাতন কম্পিউটার ও কম্পিউটার অ্যাক্সেসরিজ আমদানি করা হচ্ছে তাতে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে।জাতিসংঘসহ কয়েকটি সংগঠন ২০১৭ সালের মধ্যে বিশ্বে আরও ৩৩ শতাংশ ই-বর্জ্য বৃদ্ধি পাবে বলে এক গবেষণায় দেখিয়েছে। গবেষকদের অনুমান, বিশ্বে এখন যে পরিমাণ ই-বর্জ্য রয়েছে তার ওজন হবে প্রায় ২০০টি এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের (নিউইয়র্ক) সমান।

আরো পড়ুন