1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

কর্মী ছাঁটাই ও শ্রম আইন, কর্ম আমাদের অধিকার এটা নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে।

শুধুমাত্র মুনাফা বাড়ানো লক্ষে তাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাটায় শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তারা  সিনিয়র কর্মকতাকে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই চাকুরীচ্যুত করে। চাকরি বিধিতে নিয়ম থাকলেও কোন প্রকার নোটিশ না দিয়ে জোরপূর্বক চাকুরীচ্যুতির চিঠি ধরিয়ে দেন। কোন নিয়ম নীতির তোয়াকা না করে তাদের ইচ্ছামত লোক ছাটায়ের ফলে সকলের মধ্যে আতন্ক সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কেউ ঠিক মত কাজে মনযোগ দিতে পারছে না। কোন প্রকার মাপকাঠি ছাড়া কর্তৃপক্ষ যখন যাকে ইচ্ছা তাকে ছাটাই করছে। এতে করে অনেক দক্ষ কর্মকর্তাও ছাটায় হয়। দীর্ঘদিন শ্রম দিয়েও খুবই অপমান জনকভাবে তাদেরকে চাকুরী থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। এতে করে তারা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে অপদস্থ হচ্ছে। চাকুরীচ্যুত কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা সকলে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন এই বয়সে এসে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে অপদস্থ হতে হবে তা কখনোই ভাবিনি। এত বছর কাজ করার পর আজ এই প্রতিদান পেলাম। হটাৎ করে চাকুরীচ্যুত হওয়ায় নতুন চাকুরী যোগাড় করা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। দক্ষ জনবল কমিয়ে কখনো একটি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতে পারে না। বর্তমানে কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম আতন্ক বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, আমাদের সংবিধান সংগঠন করার অধিকার দিয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন একটি আইনি অধিকার, যা শ্রমিকস্বার্থে কাজ করে এবং ব্যাপক অর্থে এটি টেকসই শিল্প উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। কিন্তু বেদনাদায়ক হলেও সত্যি যে, ট্রেড ইউনিয়নের প্রতি মালিকপক্ষের বৈরী মনোভাব এটি গঠন কঠিন করে তুলেছে। কোনো শ্রমিকই চাকরি হারানোর ভয়ে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চান না। এ কারণেই শ্রম আইনে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন প্রক্রিয়ায় বা ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে বিরোধ হলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এর সদস্যদের কিছু আইনগত নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ত্রয়োদশ অধ্যায়ে ট্রেড ইউনিয়ন ও শিল্প সম্পর্ক নিয়ে বিধান আছে। এ অধ্যায়ের ধারা ১৮৬ (১)-এ বলা হয়েছে, ‘কোন মালিক উহার প্রতিষ্ঠানে গঠিত কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রিকরণের দরখাস্ত অনিষ্পন্ন থাকাকালে শ্রম পরিচালকের পূর্ব অনুমতি ব্যতিরেকে উক্ত ইউনিয়নের কোন কর্মকর্তার অসুবিধা হয়— এইরূপভাবে তাহার দরখাস্ত পূর্ব চাকুরির শর্তাবলীর কোন পরিবর্তন করিবেন না। (২) ধারা ২৬-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন মালিক উক্ত রূপ কোন দরখাস্ত অনিষ্পন্ন থাকাকালে উক্ত ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য— এরূপ কোন শ্রমিকের চাকুরি উক্ত ধারার অধীন অবসান করিতে পারিবেন না।’

বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৮৬ ধারার ১ ও ২ কিন্তু শর্তহীনভাবে মালিকপক্ষ মেনে চলতে বাধ্য। এখানে মনে রাখতে হবে, ২৬ ধারা অনুযায়ী মালিকপক্ষ চাকরির অবসান ঘটাতে পারে। কিন্তু আইন বলে দিয়েছে, ট্রেড ইউনিয়ন দরখাস্ত অনিষ্পন্ন থাকলে মালিকপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৬ প্রয়োগ করতে পারবে না।

সুতরাং এটি পরিষ্কার, আইন অনুযায়ী বাংলালিংক প্রস্তাবিত ট্রেড ইউনিয়নের (যা বিচারাধীন) সদস্যদের চাকরির অবসান ঘটাতে পারে না। আর যদি তা করে, তাহলে এ ঘটনাকে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা হিসেবেই দেখতে হবে।

এখন ঘটনাক্রমে যদি বেআইনি কাজের প্রতিবাদ চাকরিজীবীরা করেন এবং মালিকপক্ষ কেন প্রতিবাদ করল— এ কারণে আবার কারো কারো চাকরি অবসান ঘটায়, তাহলে এ অসহায় চাকরিজীবীরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন?

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেলফোন অপারেটর বাংলালিংক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই সবাই শ্রম আইন মেনে প্রতিষ্ঠান চালাক। বাংলালিংকের কাছেও আমাদের এ প্রত্যাশা।

সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের প্রতি আবেদন, সবাই যেন শ্রম আইন মেনে চলে এবং চলতে বাধ্য হয়, সেজন্য অতিদ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

আমাদের দেশে ভাল একটা কোম্পানিতে ভাল একটা পরিবেশে ভাল মাইনের একটা চাকরি আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কর্ম আমাদের অধিকার- এটা নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে। অধিকার সচরাচর কেউ অনুদান হিসেবে দেয় না বরং তা আদায় করে নিতে হয়। যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের সর্ব বৃহৎ টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার নেপথ্যের কারিগড়গণ। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। এই ঐক্যবদ্ধ এমপ্লয়ীবৃন্দ পরাজিত হতে শেখেনি- টার্গেট কিভাবে পূরণ করতে হয়- তা বাংলাদেশে ছবির এই মানুষগুলোর চেয়ে বেশী কেউ জানে না।

লেখক: আইনজীবী

আরো পড়ুন