1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন

কেউ A+ এর আফসোস করে,আরেকদল পাস করবে কিনা সেই আফসোসে মরে!

কলেজ লাইফটা যতটা হতাশ করে ততটা হতাশ মনে হয় জীবনের কোন স্টেপে হতে হয় না…….. কলেজের পরীক্ষায় একদল এ প্লাসের জন্যে আফসোস করে,আরেকদল পাস করবে কিনা সেই আফসোসে মরে।

হতাশা আসে।কিন্তু পড়া ও হয় না।নিজের উপর কনফিডেন্স কমতে থাকে।নিজেকে অপদার্থ মনে হবে।নিজেই নিজের বিরক্তির কারন হবেন।তবু মুখে কিছু বলা যায় না।বললে হাসাহাসি হয়। দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করতে হয়।

ক্লাসে জৈবযৌগ বিক্রিয়া করতে থাকে দানবের মত।মাথার উপর দিয়ে যায় সব,বাট সামনের পিছনের ছেলেগুলা ঠিকই সব বুঝে নেয়।ওরা বুঝে।

আপনি আবিষ্কার করেন আপনি অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন।হতাশা আসে।আপনি দূরত্ব টা চেষ্টা করেন কমিয়ে আনতে।কিন্তু দূরত্ব কমে না।

ইন্টার লাইফটা দড়ি লাফের মত।একটা লাফ মিস করবেন তো মুখ থুবড়ে পড়ে যাবেন।কেউ তুলে ধরতে আসবে না।ততক্ষনে তারা যে অনেকটা সামনে এগিয়ে গেছে।পিছনে পড়া আপনার গোঙানির শব্দ তারা শুনতে পাবে না।হতাশ হবেন।উঠে দাঁড়াবেন।অনেকে অতটুকুতেই চোখটা বুজে নেয়।সবার আবার সেই সাহসটাও থাকে না।তারা উঠে আবার দৌড় লাগায়।কিন্তু সেটা উদ্যমের কারনে না,চোখ বুজে পড়ে থাকার মত ব্যাকাপের অভাবে।

এসব নিয়েও যখন আপনি চিন্তায় অস্থির থাকবেন তখন আবার চোখের সামনে চলে আসবে আপনার ই এককালের বন্ধুদের সিংগেল থেকে মিংগেল হওয়ার দৃশ্য।আপনার জন্যে এসব বিলাসীতা হলেও এরা হাসতে হাসতে একজন আরেকজন কে নিয়ে প্রেমের বন্যা ভাসায় দিবে প্রতিটা মুহূর্ত।আপনি হতাশ হবেন।ভাববেন জীবনটা এদের জন্যে এতটা সুন্দর কেন?

বাবার ভালো ব্যাংক ব্যালেন্সের জোরেই এদের জীবনটা এতটা রঙিন হয়ে যায় কেন?আপনি হয়ত এসব থেকে বাচতে তাকে আনফলো মেরে রাখবেন।কিন্তু কতজনকে করবেন?আপনার এসব প্রেম ভালোবাসার প্রতি আগ্রহ না থাকলেও আপনি হতাশ হবেন।মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবেন।

স্রষ্টার কাছে ফরিয়াদ জানাবেন।এতশত হতাশার মধ্যেও যারা নিজের লক্ষ্যে পৌছাতে পারে এদেরকে দেখে অবাক হবেন। মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবেন তাদের প্রতি। একটু সান্তনা খুঁজবেন তাদের

প্রোফাইলে। আবার উঠে দাঁড়াবেন।শরীরের রক্তগুলো মুছে আবারো ছুটবেন।আবারো থুবড়ে পড়বেন।

লক্ষ্যে পৌছা লোকগুলোর ফলোয়ার বাড়তে থাকে,কিন্তু তাদেরই ব্যাচের থুবড়ে পড়ে যাওয়াদের ফলোয়ার বাড়ে তো না,উল্টা কমতে থাকে।এই ইন্টার লাইফটা এমনই এক সন্ধিকাল।এসপার না হয় ওসপার হওয়ার সময়।এই অসুস্থ জীবনের ২ টা বছর থেকে বাঁচতে দুইটা পথই খোলা থাকে।

মনোবল যাদের বেশি দৃঢ় থাকে তারা সফল হয়।অথচ পড়ালেখাই তো দরকার ছিল,মনোবল দৃঢ় থাকতে হপ্য যুদ্ধের সময়।তাহলে কি পড়ালেখাটাই এখন যুদ্ধ?

আরেক শ্রেনী হল টাকার পাহাড়ের মালিকের ছেলে-মেয়ে হওয়া।এরাই বেশি সফল হয়।ইন্টার লাইফ থেকেই ফেরদৌসির স্যুট পড়ে ঘুরতে থাকা এই ছেলেগুলা সারাটা জীবনই কাটায় এমন জাঁকজমক ভাবে।আর আপনি, আপনারা হকারের ৭০০ টাকার ঢিলেঢালা স্যুট টা কেনার আগেও দুইবার ভাবেন।
পৃথিবী যত আগাচ্ছে জীবনযাত্রা তত কমপ্লিকেটেড হচ্ছে।একটা বিট মিস করলেন তো আপনি বাতিলের দলে।

জুনিয়ররা সাবধান। হয় প্রচন্ড মনোবল নিয়ে এই জীবনটাতে প্রবেশ করো নয়তোবা বাবার ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ানোর জন্যে চাপ দাও।এই সময়টা তুমি শান্তিতে পড়তেও পারবা না।সবকিছু ড্যাম কেয়ার করতে যারা পারে ওদের অবশ্য সমস্যা হয় না

সমস্যা হয় তাদের, যারা ছোট খাট বিষয়কেও লক্ষ্য করে।সব হতাশা ভুলতে পারে না।এরা প্রচন্ড কষ্টে থাকে এই দুই বছর।কিন্তু আশেপাশের কেউ বুঝে না।ওরা বুঝতে দেয় না।

এই দুইটা বছর তোমাকে প্রচন্ড চাপে রাখবে।চাপে পিষে ফেলবে।সব কয়লা সীমাহীন চাপে হীরা হয় না,কিছু কয়লা ধূলায় ও মিশে যায়….

– আহনাফ নিয়াজ

আরো পড়ুন