1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন

কোন খাবারের পর কোন খাবার খাওয়া ঠিক নয়!

সবাই ছোটবেলা থেকে একটি পারিবারিক শিক্ষায় বেড়ে ওঠে। পড়ালেখা থেকে শুরু করে জীবনযাপনের সবই তাতে থাকে জড়িয়ে। খাবারের বিষয়টি তার মধ্যে একটি। এই খাবার বা খাদ্য নিয়ে আমরা অনেকে ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে বড় হতে থাকি। এটার সঙ্গে ওটা খাও, ওটার পর এটা খাও—এমন কথা প্রায়ই আমাদের অভিভাবকরা বলে থাকেন। যদিও সেসব কথার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কী তা যেমন তারা জানেন না, তেমনি জানি না আমরাও। হয়তো তারা তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে সেসব জেনে এসেছেন।

এখন যুগ পালটে গেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান নিত্যদিন জানিয়ে দিচ্ছে আমাদের জীবনচর্চার নানা বিষয়। সেসব পড়ে আমরা যেমন জানতে পারি জীবনের নানা বিষয়, তেমনি জানতে পারি ছোটবেলা থেকে জেনে আসা ভ্রান্ত ধারণাগুলো সম্পর্কেও। পুষ্টিবিদরা খাবার নিয়ে তেমনই কয়েকটি ভ্রান্ত ধারণার কথা জানিয়েছেন, যেখানে উঠে এসেছে কোন খাবারের পর কোন খাবার খাওয়া ঠিক নয়। পাঠকদের জন্য সে খাবারগুলো সম্পর্কে তুলে ধরা হলো।

দুধ-কলা একসঙ্গে নয়:

এ দুটি খাবার আমরা প্রায় সবাই একসঙ্গে খেয়ে থাকি। এ দুটি একসঙ্গে খেলে যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তা না জেনেই হয়তো এ দুটি একসঙ্গে খেয়ে থাকি আমরা। জেনে রাখুন কলা অ্যাসিড তৈরি করে আর দুধ কলার সংস্পর্শে এলে ছানা হয়ে যায়। সুতরাং এ দুটি একসঙ্গে খেলে যেমন অ্যাসিডিটির সম্ভাবনা আছে, তেমনি ফুড পয়জনিং হওয়ার সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়।

খালি পেটে পানি আর ভরা পেটে ফল নয়:

পুষ্টিবিদদের মতে, খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে ফল খান। তাতে আপনার খিদে বাড়বে। খাবার পরেই ফল খেলে পুরো পুষ্টি পাবেন না। তাদের আরও পরামর্শ, প্রতিদিন মৌসুমি ফল খান। রাতে খিদে পেলে কোনো খাবার খাওয়ার পরিবর্তে ফল খান। সুতরাং, পেট যখন খালি থাকে তখন পানি নয় সরাসরি ফল খান। খাবার ঠিক আগে, সঙ্গে বা ঠিক পরেই পানি খাবেন না। কারণ পানি পরিপাকের জন্য পাকস্থলীতে নির্গত অ্যাসিড লঘু করে দেয়। ফলে হজমে সমস্যা দেখা দেয়। পানি এবং খাবার খাওয়ার মধ্যে ৩০ মিনিট ব্যবধান রাখুন।

খাওয়ার পর চা নয়:

আমরা অনেকেই খাওয়ার পর চা পান করে থাকি। কিন্তু এ অভ্যাস যে কী ক্ষতি করে তা আমরা অনেকেই জানি না। চা’তে রয়েছে ট্যানিন। এ ট্যানিন খাবার থেকে পুষ্টি বের করার অন্তরায়। খাবারে থাকা লোহা এবং প্রোটিন সংশ্লেষে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এই ট্যানিক অ্যাসিড। তাই খাবার পরেই চা খেলে ট্যানিক অ্যাসিড তৈরি হয়। সুতরাং আর নয় খাবারের পর চা।

বার্গার এবং ভাজাভুজি একসঙ্গে নয়:

বার্গারের সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই-ই খাওয়া হয় সাধারণত। ডুবো তেলে ভাজার কারণে এই দুই খাবার একসঙ্গে খেলে রক্তে কোলস্টেরলের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি রক্তচাপ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে দেয়। সুতরাং আর নয় বার্গার ও ভাজাভুজি একসঙ্গে খাওয়া।

পিজ্জা এবং কোল্ড বা সফট ড্রিঙ্কস একসঙ্গে নয়:

পিজ্জা অনেকের কাছেই খুব প্রিয় খাবার। অন্যদিকে সফট ড্রিঙ্কসও পছন্দ করেন অনেকে। তাই এ দুটি একসঙ্গে খেতে ভালোও বাসেন অনেকে। এমন যাদের পছন্দ তারা জেনে রাখুন, পিজ্জায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, তাই এর সঙ্গে সোডা জাতীয় পানীয় গ্রহণ করলে মুশকিলে পড়তে পারেন। কারণ সোডায় প্রচুর পরিমাণে সুগার থাকে, যার জেরে হজমে বেশ সমস্যা দেখা যেতে পারে।

অলিভ অয়েল এবং বাদাম একসঙ্গে নয়:

বাদাম মুখরোচক খাবার। অনেকের কাছেই এ খাবারটি বেশ পছন্দের। বাদামে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে আর অলিভ অয়েলে ফ্যাট। তাই এ দুটি একসঙ্গে খেলে হজমে বেশ সমস্যা করতে পারে। শরীর বিগড়েও যেতে পারে।

টম্যাটো এবং পাস্তা একসঙ্গে নয়:

পাস্তা ও টম্যাটো খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। যারা এ দুটি খেতে পছন্দ করেন তারা জেনে রাখুন, পাস্তা প্রচণ্ড ভারী খাবার এবং টম্যাটোর মধ্যে অ্যাসিডিক উপাদানও ভরপুর। তাই এ দুটি একসঙ্গে খেলে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা।

ডিম এবং বেকন একসঙ্গে নয়:

ডিম আর বেকন একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। কারণ, ডিমে রয়েছে হাই প্রোটিন আর বেকনে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট, যা একসঙ্গে খেলে হজম হতে বেশ সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি শরীর থেকে এনার্জি উধাও হয়ে যেতে পারে।

মাংস এবং আলু একসঙ্গে নয়:

আমরা মাংসের সঙ্গে আলু খেতে বেশ পছন্দ করি। কিন্তু মাংসের সঙ্গে ম্যাসড আলু খেলেই বিপদ। এতে করে ফাইবারের স্বল্পতায় শরীরে নানা রকম ক্ষতিকারক প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে।

মাফিন এবং জুস একসঙ্গে নয়:

মাফিন ও জুস অনেকের কাছেই পছন্দের খাবার। আবার এ দুটি একসঙ্গে খেতেও পছন্দ করেন অনেকে। কিন্তু এ দুটি একসঙ্গে খাওয়া মোটেও ঠিক নয়। কারণ মাফিনে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, তাই তার সঙ্গে জুস খেলে শরীরে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। আর এ কারণে রক্তচাপ বেশ বেড়ে গিয়ে সমস্যা তৈরি করে। তাই আর নয় এ দুটির একসঙ্গে মিশ্রণ ভক্ষণ।

তরমুজ ও পানি একসঙ্গে নয়:

তরমুজের ৯০-৯৫%-ই পানি। ফলে তরমুজ খাওয়ার পর আবার পানি খেলে দেহের পাঁচক রসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। তাই তরমুজের পর পানি পান না করাই শ্রেয়।

কোল্ড ড্রিঙ্কসের সঙ্গে চিজ নয়:

আমরা অনেকেই জানি না চিজ দেওয়া খাবার মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ কার্বনযুক্ত এই খাবার শরীরে ফ্যাট এবং ক্যালরি জমতে সাহায্য করে। সহজে এটি হজম করা যায় না। ফলে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। তাই আপনি যদি চিজপ্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে সফট ড্রিঙ্কসের সঙ্গে চিজ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

চা এবং দই একসঙ্গে নয়:

চা এবং দই দুটোই এসিডপ্রবণ। ফলে এই দুটো একসঙ্গে খেলে দেহের ভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট হয়ে হজমপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আর হজমে গোলযোগ সৃষ্টি হলে দেহ পড়বে অস্বস্তিতে।

একসঙ্গে দুই উচ্চমাত্রার প্রোটিন খাবেন না:

উচ্চমাত্রার দুই প্রোটিন বিশেষ করে ডিম এবং মাংস একসঙ্গে খাওয়া কখনই উচিত নয়। দুটো খাবারই হজম হতে অনেক সময় নেয়। এ কারণে স্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়াতে এ দুটি খাবার একসঙ্গে এড়িয়ে চলাই পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন: কার্বোহাইড্রেটের এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার হজম হতে অনেক সময় লাগে। তাই এ দুটো কাবার মিলিয়ে খেলে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রোটিনের সঙ্গে কার্বহাইড্রেট খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

ফলের সঙ্গে পানি/জুস:

খাবার খাওয়ার সময় পানি কিংবা ফলের জুস পান করবেন না। কারণ খাওয়ার সময় পানি খেলে তা আপনার পাকস্থলীতে পৌঁছে প্রোটিন, কার্বহাইড্রেট এবং চর্বিযুক্ত খাবারের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাওয়ার ১০ মিনিট পর পানি পানের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

খাদ্যশস্যের সঙ্গে দুধ এবং কমলার জুস:

দুধে বিদ্যমান কেসিন এবং কমলার জুসে অ্যাসিড রয়েছে। এ দুটো খাবার একসঙ্গে খেলে তা খাদ্যশস্যে এনজাইমের উপস্থিতিকে নষ্ট করে দেয়। তাই স্বাস্থ্য ক্ষতি এড়াতে খাদ্যশস্য খাওয়ার একঘণ্টা আগে কিংবা পরে দুধ এবং কমলার জুস খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

বীজ​ এবং পনির:

এই দুটো খাবার একসঙ্গে খেলে গ্যাসসহ হজমের সমস্যা বাড়তে পারে। আপনার ইমিউন সিস্টেম যদি দুর্বল হয় তাহলে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিম এবং পনির আলাদাভাবেই খান।

দইয়ের সঙ্গে ফল:

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দইয়ের সঙ্গে ফল মিশিয়ে খাওয়াও ঠিক নয়। এ দুটো খাবার একসঙ্গে খেলে ঠাণ্ডা, কফ, অ্যালার্জি এবং সাইনাসের সমস্যা হতে পারে।

আলু, শসা এবং টমেটোর সালাদ:

আপনি যদি সালাদ খেতে পছন্দ করেন তাহলে আলু, শসা এবং টমেটো একসঙ্গে খাবেন না। এই খাবারে আপনার হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই খাবারগুলো একসঙ্গে খাওয়া এড়িয়ে চলুন। তবে চাইলে সালাদে অলিভ অয়েল যোগ করতে পারেন।

কমলা ও গাজর:

কমলার সঙ্গে গাজর মিশিয়ে খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এই ফল ও সবজির কম্বিনেশন অ্যাসিডিটি যেমন তৈরি করে, তেমনি কিডনিকে নষ্ট করে দিতে পারে।

পেঁপে ও লেবু:

এক সঙ্গে পেঁপে ও লেবু খাবেন না। এতে অ্যানিমিয়া তৈরি হওয়া ও  রক্তে হিমোগ্লোবিনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে এই ডেডলি কম্বিনেশন শিশুদের জন্য খুব ক্ষতিকর। তাই সতর্ক থাকুন।

কমলা ও দুধ:

দুধের সঙ্গে কমলার জুস মিশিয়ে পান করা ক্ষতিকর। এতে হজমের সমস্যা সহ বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। কমলায় থাকা অ্যাসিড দুধের এনজাইম নষ্ট করে দেয়, যা হজমের জন্য জরুরি।

পেয়ারা ও কলা:

একসঙ্গে পেয়ারা ও কলা খেলে অ্যাসিড হওয়া, বমি ভাব হওয়া, পেটে গ্যাস হওয়া ও স্থায়ী মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

সবজি ও ফল:

একসঙ্গে ফল ও সবজি মিশিয়ে খাওয়া কখনো উচিত না। কারণ ফলে সুগারের উপাদান থাকে যা হজম হতে সময় নেয়। তাই ফল ও সবজির মিশ্রণ শরীরে টক্সিন তৈরি করতে পারে। এতে আপনার ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, পেটে ইনফেকশন ও পাকস্থলীতে ব্যথা হতে পারে।

আনারস ও দুধ:

এই কম্বিনেশনটা খুব ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ আনারসে থাকা ব্রোমেলেইন দুধের সঙ্গে মিশে বিষাক্ত হয়ে উঠে। এর ফলে পেটে গ্যাস, বমি ভাব, পেটে  ইনফেকশন, মাথাব্যথা ও পাকস্থলীতে ব্যথার মতো অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কলা ও পুডিং:

একসঙ্গে কলা ও পুডিং খাওয়া ঠিক না। কারণ তা হজম করা কঠিন হয়ে উঠে আর শরীরে টক্সিন তৈরি করে। এই কম্বিনেশন শিশুদের জন্য খুব ক্ষতিকর।

তরমুজ এবং পানি:

তরমুজের ৯০-৯৫%-ই পানি। ফলে তরমুজ খাওয়ার পর আবার পানি খেলে দেহের পাঁচক রসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।

চা এবং দই: চা এবং দই দুটোই এসিডপ্রবণ। ফলে এই দুটো এক সঙ্গে খেলে দেহের আভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট হয়ে হজম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

দুধ এবং কলা:

এই দুটি খাবারের একসঙ্গে খেলে তা হজমপ্রক্রিয়ার ওপর ভারি চাপ ফেলে। ফলে এ দুটো খাবার একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো।

দই এবং ফল:

যখন অম্ল স্বাদযুক্ত খাবার দইয়ের সঙ্গে খাওয়া হয় তখন তারা অ্যাসিড তৈরি করে দেহের পরিপাকতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করে।

মাংস ও দুধ:

বেশ কিছু সংখ্যক প্রাচীন গোত্রের মধ্যে বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে, মায়ের দুধে কোনো বাচ্চাকে রান্না করা ক্ষমতার অযোগ্য পাপ। আর এই কিংবদন্তী থেকেই হয়তো এই বিশ্বাস জন্মায় যে মাংস এবং দুধ একসঙ্গে খাওয়া যায় না।

লেবু এবং দুধ:

দুধে লেবু যুক্ত করা হলে তা জমে যায়। একই ঘটনা ঘটে পাকস্থলির ভেতরেও। যদিও সাধারণত বিশ্বাস প্রচলিত আছে যে, পাকস্থলিতে থাকা পাঁচক রস লেবুর চেয়েও বেশি অ্যাসিডযুক্ত। কিন্তু লেবু এবং দুধের মিশ্রনকে বিষাক্ত মনে করা হয়।

দুগ্ধজাত পণ্যের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক:

বেশ কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলো আয়রন এবং ক্যালসিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদান শোষণে বাধা দেয়। ফলে খাবার খাওয়ার বেশ কিছুটা সময় পর গিয়ে সেসব ওষুধ খাওয়া উচিত।

বায়বীয় পানীয়ের মঙ্গে মেনথল:

কোলার সঙ্গে মিন্ট মেশালে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়। আর এ কারণেই বিশ্বাস প্রচলিত আছে যে এই দুটি মেশালে সায়ানাইড তৈরি হয়। এ বিশ্বাস হয়তো পুরোপুরি সত্য নয়। তবুও ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো।

খালিপেটে যেসব খাবার নয়:

আমরা খিদে পেলে খাই। আর সেটাই তো স্বাভাবিক। খিদে পেলে খাব না? হ্যা অবশ্যই খাবেন। পুষ্টিকর কিছু খেতে তো মানা নেই। কিন্তু কখনো কখনো পুষ্টিকর হলেও খাওয়া নিষেধ আছে। এমন কিছু খাবার আছে, খালি পেটে একদমই খাওয়া উচিত নয়। নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে রেহাই পেতে আসুন জেনে নেই খালি পেটে কোন খাবারগুলো পরিহার করা উচিত:

ফল খান বেছে বেছে:

মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা হলো, যেকোনো ফলই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু সেটা কোন অবস্থায় খাওয়া উচিত, সে সম্বন্ধে আমরা অনেকেই জানি না। যেমন ধরুন, কলা স্বাস্থ্যকর ফল হলেও তা খালি পেটে খাওয়া ক্ষতিকর। হজম-সহায়ক কলায় রয়েছে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম। খালি পেটে কলা খেলে এসব উপাদান রক্তে অন্য উপাদানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট করে। বিশেষ করে শরীরে ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা হৃৎপিণ্ড ও রক্তের ধমনির জন্য ক্ষতিকর।

অনেকে টমেটো খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু খালি পেটে একদম টমেটো খাবেন না। পুষ্টিগুণে ভরপুর টমেটোর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পেকটিন ও ট্যানিক অ্যাসিড। খালি পেটে টমেটো খেলে পেকটিন ও ট্যানিক অ্যাসিডের সঙ্গে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের বিক্রিয়া ঘটে থাকে। এতে পাকস্থলীতে এক অদ্রবণীয় জেলের সৃষ্টি হয়, যেখান থেকে পরবর্তী সময়ে পাকস্থলীতে পাথর হয়। এ ছাড়া খালি পেটে টমেটো খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

খালি পেটে টকজাতীয় কিংবা ‘সাইট্রাস’ (কমলা) ধরনের ফল পরিহার করাই ভালো। টকজাতীয় ফল, যেমন আমলকী, করমচা, তেঁতুলে প্রচুর অ্যাসিড থাকে। এতে পেট ও বুক জ্বালাপোড়া করে এবং গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি হয়। খালি পেটে ‘সাইট্রাস’ ফল আপনার শৈষ্মিক ঝিল্লিকে (মিউকাস মেমব্রেন) ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে মারাত্মকভাবে, এ ছাড়া বুক জ্বালাপোড়া ও গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি হয়।

সকালে খালি পেটে চা-কফি-সোডাকে ‘না’ বলুন:

সকালে ঘুম থেকে উঠেই চায়ের পেয়ালায় চুমুক না দিলে অনেকের দিন শুরু হয় না। সুস্থ থাকতে চাইলে এই অভ্যাস আজই পাল্টান। চা-কফির মধ্যে রয়েছে ক্যাফেইন। খালি পেটে এই ক্যাফেইন বুকের মধ্যে জ্বালাপোড়া সৃষ্টির পাশাপাশি হজমেও ব্যাঘাত ঘটায়। চা-কফি গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণের মাত্রা বাড়ায়, এতে হজম প্রক্রিয়ায় অসুবিধা হয় এবং গ্যাসের উদ্রেক ঘটে। তাই চা-কফি খাওয়ার আগে অন্তত কিছু খেয়ে নিন, অন্তত এক গ্লাস পানি হলেও খান। সকালে সব সময় নাশতার পর চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। খালি পেটে চা-কফি শরীরে সেরাটোনিনের কমতি ঘটায়, ফলে সারা দিন মন-মেজাজ খারাপ থাকতে পারে। খালি পেটে সোডা ওয়াটার বা কোমল পানীয়ও খাবেন না।

দুধ দিয়ে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলুন:

খালি পেটে আপনি এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন, কিন্তু দুগ্ধজাত খাবার না খাওয়াই ভালো। গাজন প্রক্রিয়ায় বানানো দুগ্ধজাত খাবার, যেমন দই; এ ধরনের খাবার খালি পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি করে, যা দুগ্ধজাত খাবারের মধ্যে ল্যাকটিক অ্যাসিডের গুণাগুণ নষ্ট করে। এতে অ্যাসিডিটির সৃষ্টি হয়। তাই দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার আগে অন্য কিছু খেয়ে নিন।

ঝাল-মসলা শত্রু:

বেশিরভাগ বাঙালিই একটু ঝাল ঝাল তরকারি খেতে ভালোবাসেন। তবে পেট খালি থাকলে এমন ভালোবাসা বিসর্জন দেওয়াই নিরাপদ। ঝাল তরকারিতে অ্যাসিডিক বিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, যা খালি পেটে অসহনীয় জ্বালাপোড়া তৈরি করে। পেটের ভেতরকার পেশিতে সংকোচন হওয়ার ফলে পেটব্যথাও হতে পারে।

শাকসবজি হলেও সাবধান হোন:

প্রচলিত ধারণা হলো, সবুজ শাকসবজি সব সময়ই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন অবস্থায় ভালো? সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর অ্যামিনো অ্যাসিড। এই অ্যাসিড শরীরের জন্য যেমন ভালো, তেমনি খালি পেটে বিষম গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি করতে পারে। শাকসবজির ‘ফাইবার’ ঠিকভাবে হজম না হলে তলপেটে ব্যথাও হতে পারে।

মদপান এমনিতেই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। খালি পেটে খাওয়া মানে বিষপান। এতে কিডনি, লিভার ও হৃৎপিণ্ড ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খালি পেটে মিষ্টি আলু বেশি পরিমাণ অ্যাসিড ক্ষরণ করে, এতে পাকস্থলীর পেশি সংকুচিত হয় এবং তলপেটে ব্যথার সৃষ্টি করে। এ ছাড়া বেশি পরিমাণে বাদাম খাওয়াও পরিহার করুন। খালি পেটে অতিরিক্ত বাদাম খেলে পেটব্যথার সৃষ্টি হয়। মোট কথা, খালি পেটে খাদ্যাভ্যাস খানিকটা সাবধানতা মেনে চললে জীবন হবে আরও সুন্দর।

আরো পড়ুন