1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য জামানত ছাড়াই সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে ব্যাংক!

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ঋণ বিতরণের সঙ্গে বাড়ছে বিনা জামানতে ঋণ দেওয়ার পরিমাণও। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে মোট এক লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই এক লাখ ৩১ হাজার উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে ১৪ হাজার ২০২ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এক লাখ ২৫ হাজার উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে বিনা জামানতে ১২ হাজার ১২৯ কোটি টাকা দিয়েছিল ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসএমইতে মোট এক লাখ ২৩ হাজার ৪৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। দেশের পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৬টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে এ পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। গত বছরের প্রথম ৯ মাসে এক লাখ এক হাজার ১৯২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল ৪ লাখ ৬০ হাজার ৫১১ প্রতিষ্ঠানকে। এ হিসাবে আগের বছরের তুলনায় ঋণ বেড়েছে ২১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা যা ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর চলতি বছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিতরণের হার দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এসব ঋণের বেশিরভাগই দিয়েছে ব্যাংকগুলো। আর মোট ঋণের মাত্র ৬ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

মোট এসএমই ঋণে এমনিতেই নারী উদ্যোক্তার অংশ খুব কম। এ সময়ে তা আরও কমেছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪০ হাজার ৫১ নারী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে তিন হাজার ৪৬০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে। আগের বছর ৩২ হাজার ৮৪১ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় ৪ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। এ হিসাবে আগের বছরের তুলনায় ঋণ পাওয়া নারী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান বাড়লেও ঋণ কমেছে ৬৯৬ কোটি টাকা। এছাড়া গ্রামাঞ্চলের এক লাখ ৫৩ হাজার ৬১৯ উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে ২৬ হাজার ১২৪ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় যা তিন হাজার ৬৫১ কোটি টাকা বেশি।

ব্যাংকারদের মতে, উৎপাদনশীল খাতের নামে নেওয়া ঋণের বিপরীতে নতুন শিল্প স্থাপন বা কারখানার পরিধি বাড়ানো হয়। এতে করে বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। যে কারণে উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। যদিও বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় মোট এসএমই ঋণের সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ ট্রেডিং বা ব্যবসায় বিতরণের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া অন্তত ৩০ শতাংশ উৎপাদন এবং ১৫ শতাংশ সেবায় বিতরণ করতে হবে। আর ভবিষ্যতে ব্যবসায় কমিয়ে উৎপাদন ও সেবায় বাড়ানোর নির্দেশনা রয়েছে। তবে বেশিরভাগ ব্যাংক নির্দেশিত সীমার তুলনায় ব্যবসায় বেশি ঋণ দিচ্ছে। নিয়ম না মানায় গত জুন প্রান্তিকের তথ্যের ভিত্তিতে ৩৮টি ব্যাংক ও ১২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এসএমই খাতে বিতরণ হওয়া মোট ঋণের মধ্যে ব্যবসা উপখাতে গেছে ৭৭ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ২০ দশমিক ২৮ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদনে ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়ে ২৯ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। মোট ঋণের মধ্যে যা ২৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। সেবা খাতে বিতরণ করা চার হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ। সেবা উপখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রহিম সমকালকে বলেন, অর্থায়নের ক্ষেত্রে এসএমই ঋণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া আছে। যে কারণে বিনা জামানতে ঋণ এখন বাড়ছে। তিনি বলেন, উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসায় কী হারে ঋণ দিতে হবে তা বলে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনার আলোকে ব্যাংকগুলো কার্যক্রম করছে কি-না ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফলে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা দূর করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বড় ঋণের তুলনায় এসএমই ঋণ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে পুনঃতফসিল, পুনর্গঠনসহ নানা সুবিধা নেওয়ার পরও বড় ঋণগ্রহীতারা সময় মতো অর্থ ফেরত না দেওয়ায় বিষয়টি সামনে এসেছে। একক গ্রাহককে ১০০ কোটি টাকা দিয়ে ঝুঁকি না নিয়ে ১০, ২০ বা ৫০ জন উদ্যোক্তার মাঝে ১০০ কোটি টাকা বিতরণ করছে। এতে দু’চারটা ছোট ঋণখেলাপি হলেও বড় ক্ষতির মুখে পড়ছে না ব্যাংক।

জানতে চাইলে পূবালী ব্যাংকের এমডি এম এ হালিম চৌধুরী সমকালকে বলেন, বড় গ্রাহক অনেকে ঋণ নিয়ে যথাসময়ে ফেরত দিতে চান না। এসএমই উদ্যোক্তা বেশিরভাগ সময় মতো টাকা ফেরত দেন। এ ছাড়া একক গ্র্রাহকের কাছে একটি ব্যাংকের অনেক টাকা আটকে থাকলে তাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। যে কারণে ব্যাংকগুলো এখন এসএমই ঋণে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

মোট এসএমই ঋণের মধ্যে মাঝারি শিল্পে দেওয়া হয়েছে ৫৫ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এছাড়া ক্ষুদ্রতে ৪৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা, মাইক্রোতে ১৬ হাজার ৫ কোটি টাকা এবং কটেজে এক হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এবারে নতুন এক লাখ ৮ হাজার ৫২১ উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এক লাখ ৭ হাজার ৩৪৯ উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান পেয়েছিল ১৭ হাজার ৪১০ কোটি টাকা।

তথ্য সূত্র: সমকাল ।

আরো পড়ুন