1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন

গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা নাকি হার্টের ব্যথা বুঝবেন কিভাবে?

গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা নাকি- বেশির ভাগ মানুষ হার্টের ব্যথাকে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা মনে করে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু বেশির ভাগ সময় সে ঘুম আর ভাঙে না। পাশে শুয়ে থাকা মানুষটিও টের পায় না রাতে কিভাবে লোকটি হার্টব্লক করে মারা গিয়েছে।

গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা: সাধারণত এই ব্যথা পেটের উপরের অংশে হয় এবং নির্দিষ্ট একটা জায়গাজুড়েই হয়। শরীরের অন্য অংশে এই ব্যথা ছড়ায় না।

হার্টের ব্যথা: যেহেতু আমাদের হার্ট বুকের বাম পাশে তাই হার্টের ব্যথা বুকের বামপাশ কিংবা মাঝখান থেকে শুরু হয়ে ঘাড়, বাম বাহু বা বাম হাতে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে, অনেকটা হাতির পা বুকে চাপ দিলে যেমনটা হয় ঠিক তেমনি। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ভারী পাথর বুকের উপর রাখলে যেমনটা ফিল হয় অনেকটা সেরকম। এই ব্যথায় রোগী শুয়ে থাকলে কিংবা দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলেও নিজেই নিজের হাতে বুকের বাম পাশটা চেপে ধরে বসে পড়েন।

হার্টের ব্যথায় প্রাথমিক চিকিৎসা: যে কোন বয়সে যে কোন সময় হার্টের ব্যথা উঠতে পারে। সেই ব্যথা কয়েক মিনিটে রোগী মারাও যেতে পারে। যদি আপনার ঘরোয়া চিকিৎসা জানা থাকা তবে প্রাথমিকভাবে মানুষটি বেঁচে যাবে।

হার্টের ব্যথা হলে যা করবেন: একসঙ্গে ৪টা এস্পিরিন 75 mg (যা দোকানে ইকুস্প্রিন নামে পাওয়া যায়) পানিতে গুলিয়ে খাইয়ে দিন। কারণ ট্যাবলেট আমাদের শরীরে পৌঁছে কাজ করতে যে সময় নিবে সে সময়ের মধ্যে রোগী মারাও যেতে পারে।

সেই দিক থেকে লিকুইড তাড়াতাড়ি কাজ করে। যদি মনে হয় ব্যথাটা হার্টের তাহলে জিহ্বার নিচে নিটোকার্ড নামক স্প্রে দুইবার দিন। দেখবেন রোগী অনেকটা সুস্থ বোধ করছে। এরই মধ্যে হসপিটাল নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করুন।

হার্টের ব্যথায় কখনোই যা করবেন না: হার্টের ব্যথায় রোগীর শরীরে ঠাণ্ডা ঘাম বের হওয়া স্বাভাবিক। এই ক্ষেত্রে রোগীরর বাড়ির লোকজন ১৮ ডিগ্রী সে. এসি চালিয়ে দেন। এতে ঠান্ডায় ব্লাড ফ্লো কমে যায়।

তাই এসি না চালিয়ে নরমাল ফ্যানের বাতাসে রোগীকে রাখুন। অনেকেই আবার এই ব্যথায় রোগীকে সোজাসুজি শুইয়ে দেন। আরো একটি ভুল পদ্ধতি। যেহেতু ব্লাড সার্কুলেশনের অভাবে হার্ট অ্যাটাক হয়।

এই সময় রোগী শুয়ে থাকলে ব্লাডের গতি আরো কমে যায়। তাই রোগীকে খাটে বসিয়ে পিঠের পেছনে বালিস দিয়ে হেলান দিয়ে রাখুন। সতর্ক থাকুন, নিজে বাঁচুন, প্রিয়জনের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।

নাভিতে মাত্র ২ ফোটা তেল, সারবে যেসব জটিল রোগ!

আপনার গোপন দুর্বলতা থেকে শুরু করে গাঁটে ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, ঠাণ্ডা, ফ্লু, সর্দি ও ত্বকের সমস্যার সমাধান করতে মাত্র দু’তিন ফোটা তেল নাভিতে ঢালুন, এরপর দেখুন কী হয়! যাদুর মতো অনেক রোগ কমে যাবে।

এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। সনাতন চিকিৎসা পদ্ধতি মানুষ এখনো অনুসরণ ও বিশ্বাস করেন। এসব সনাতন চিকিৎসায় দারুণ ফলও পাওয়া যায়। জেনে নিন কিভাবে ব্যবহার করবেন-

গোপন দুর্বলতায় – নাভিতে ৪-৫ ফোটা নারিকেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে মালিশ করুন। এটা সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করলে আপনার গোপন দুর্বলতা কমে যেতে শুরু করবে ও এতে উর্বরতাও বাড়বে।

ঋতুস্রাবে ব্যথা – ঋতুস্রাবে ব্যথা হলে একটি তুলার বল ব্র্যান্ডিতে ডুবিয়ে নিন, তারপর নাভির ওপর রাখুন। এভাবে দিনে কয়েকবার ব্যবহারে ব্যথা কমে যাবে।

ফ্লু বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা – একটি তুলার বল এলকোহলে ডুবিয়ে নাভির ওপর রাখুন। দেখবেন আপনার ঠাণ্ডা জনিত সমস্যা কতো তাড়াতাড়ি কমে গেছে।

ফাটা ঠোঁট ও গিরায় ব্যথা – আপনার নাভিতে দু`তিন ফোটা সরিষার তেল দিন। এটা শুনে আপনার চোখ কপালে উঠতে পারে, মনে হতে পারে নাভির সঙ্গে ঠোঁট ও গিড়ার সম্পর্ক কি? তবে বিশ্বাস করুন কয়েক ফোটা সরিষার তেল নাভিতে দিয়ে মালিশ করলেই আপনার ঠোঁট ফাটা ও গিরার ব্যথা কমে যাবে।

হাঁটু ব্যথা – রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক ফোটা ক্যাস্টর তেল মালিশ করুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন আপনার ব্যথা কমে গেছে।

উজ্বল ত্বক – তিন-চার ফোটা বাদাম তেল আপনার নাভিতে দিয়ে মালিশ করুন। এভাবে কয়েক দিন ব্যবহারে দেখবেন আপনার ত্বক কেমন উজ্জ্বল হয়ে গেছে।

এছাড়া কয়েক ফোটা ঘি নাভিতে মালিশ করলে আপনার ত্বক কোমল হয়ে যাবে। আপনি হয়ে উঠবেন আরও মোহনীয়।

হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া যে সকল রোগের লক্ষণ

হাত-পা অবশ হয়ে- হাত বা পায়ে অবশ হয়ে যাওয়ার মত অনুভূতি হতে পারে যে কারোরই। বাহু বা কবজির কোন একটি স্নায়ু বা একগুচ্ছ স্নায়ু যদি সংকুচিত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে হাত অবশ হয়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়।

এছাড়াও ডায়াবেটিসের মত রোগের কারণে পেরিফেরাল স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হলে, আঘাতের ফলে, সংক্রমণ এবং বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শের কারণেও হাত অবশ হওয়ার অনুভূতি হতে পারে।

পায়ের পাতা অবশ হওয়ার ক্ষেত্রে জ্বলুনিসহ সুঁই দিয়ে খোঁচানোর মত অনুভূতি হয়। মেরুদন্ডের নীচের অংশের স্নায়ুমূলে যন্ত্রণা হলে এমন হতে পারে। এ ধরনের অনুভূতিগুলো বিক্ষিপ্তভাবে বা সরাসরি হয় এবং বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই কম সময় স্থায়ী হয়।

যদি হাতের উপর ভর দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘুমিয়ে থাকেন, পায়ের উপর পা তুলে বসে থাকেন অথবা নড়াচড়া না করে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন তাহলে অবশ হওয়ার অনুভূতি হয়। তবে যদি বারবার এমন অনুভূতি হয় তাহলে দ্রুতই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিৎ।

কারণ জটিল কোন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণেও হতে পারে এটি, সে কারণগুলোর বিষয়ে জেনে আসি চলুন।

১। ডায়াবেটিস

অনেক মানুষই ডায়াবেটিসে ভুগে থাকেন। পেরিফেরাল স্নায়ু রোগের এটি একটি সাধারণ কারণ। এর ফলে পায়ের পাতা অবশ হওয়ার লক্ষণ দেখা যায় যা আস্তে আস্তে উপরে ওঠে।

২। সিস্টেমিক ডিজিজ

এই রোগে শুধু শরীরের একটি অঙ্গই আক্রান্ত হয়না। কিডনি রোগ, ভাস্কুলার ডিজিজ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টিউমার যা স্নায়ুর উপর চাপ সৃষ্টি করে ইত্যাদি রোগগুলো সিস্টেমিক ডিজিজের অন্তর্ভুক্ত। এই রোগগুলোর ক্ষেত্রে অবশ হয়ে যাওয়ার অনুভূতির সম্পর্ক বিদ্যমান।

৩। মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস

প্রাথমিক অবস্থায় অবশ হয়ে যাওয়ার অনুভূতি হালকা থাকলেও ঘন ঘন এমন হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন এবং চিকিৎসককে দেখানো উচিৎ। কারণ এটি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে পরিণত হতে পারে। এই সমস্যার ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্রের মায়োলিন সিথ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। ফলে ভারসাম্যের উপর প্রভাব পড়ে, মাথা ঘুরায় এবং ক্লান্তি ভর করে।

৪। পেরিফেরাল আরটারি ডিজিজ

এই রোগে মস্তিষ্ক, বাহু ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গে যে ধমনী রক্ত সরবরাহ করে নিয়ে যায় তাতে প্লাকের সৃষ্টি হয়। ফ্যাট, ক্যালসিয়াম, ফাইবারাস টিস্যু এবং কোলেস্টেরলের কারণে প্লাক গঠিত হয়। চিকিৎসা করা না হলে প্লাক জমে শক্ত হয়ে যায় এবং ধমনীর পথকে সরু করে দেয়। এর ফলে পায়ের উপর প্রভাব পরে এবং ঐ অংশে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

৫। টারসাল টানেল সিনড্রোম

পায়ের পাতার পেছনের অংশে গোড়ালির ভেতরের দিকে এই টানেল থাকে। টারসাল টানেল সিনড্রোমটি পোস্টেরিওর টিবিয়াল নিউরালজিয়া নামেও পরিচিত। গোড়ালির ভেতরের দিকের টিবিয়াল স্নায়ুর সঙ্কোচনের ফলে হয় এমন। চিকিৎসা করা না হলে গোড়ালির অসাড়তা আস্তে আস্তে ছড়িয়ে যেতে থাকে এবং স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

৬। কারপাল টানেল সিনড্রোম

কবজির মিডিয়ান স্নায়ুতে চাপ পড়ার ফলে কারপাল টানেল সিনড্রোম হতে দেখা যায়। এই মিডিয়ান স্নায়ুটি হাতের তালু এবং প্রথম তিনটি আঙ্গুলের অনুভুতি এবং নড়াচড়ায় সাহায্য করে।

৭। নিউরালজিয়া

স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে তীব্র ব্যথা এবং জ্বলুনির অনুভূতি হতে দেখা যায়। শরীরের যেকোন স্থানেই হতে পারে এই রোগ। বিশেষ করে সংক্রমণ এবং বয়সের কারণে হতে পারে এই রোগ।

৮। স্ট্রোক

হৃদপিণ্ডে যদি পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ না হয় তাহলে স্ট্রোক হয়। বিশেষ করে রক্তনালীতে ব্লকেজ হলে এমন হয়। স্ট্রোকের প্রথম লক্ষণ বাম হাত অবশ হওয়া যা হাতের তালু পর্যন্ত ছড়িয়ে পরে। হঠাৎ করে দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন, ভারসাম্য নষ্ট হয়, কথা বলায় সমস্যা হয় এবং হাত, মুখ ও পা অবশ হয়ে যায়।

৯। লাইম ডিজিজ

এটি একটি পতঙ্গবাহিত ইনফ্লামেটরি ডিজিজ যা খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রাথমিক লক্ষণ হচ্ছে ক্লান্তি, জ্বর, পেশী ও জয়েন্টের ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া এবং লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া। সময়মত চিকিৎসা করা না হলে স্নায়ুর জটিলতা সৃষ্টি হয় হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়ার মত অনুভূতি হয়।

১০। ফাইব্রোমায়ালজিয়া

এটি মস্তিষ্কের এমন একধরণের সমস্যা যা হলে পেশীতে ব্যথা, স্মৃতির সমস্যা এবং মেজাজ পরিবর্তনের সমস্যা হয়। হাত এবং পা অবশ হয়ে যাওয়ার সাধারণ একটি কারণ এটি।

আরো পড়ুন