1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

চারিত্রিক সনদ!

পিএইচডি শেষে আমেরিকায় যখন পোস্টডকের জন‍্য আবেদন করলাম, কোন ইউনিভার্সিটি আমার পিএইচডি’র সার্টিফিকেট কিংবা অনার্স-মাস্টার্সের সার্টিফিকেট চায়নি। পাঁচটা আবেদন করেছিলাম। সবগুলোই ছিলো আইভিলিগ স্কুলে। কোন ইউনিভার্সিটি, স্থানীয় চ‍েয়ারম‍্যান বা সিটি কর্পোরেশন থেকে চারিত্রিক সনদ চায়নি।

পাঁচটা আবেদনের মধ‍্যে তিনটা ইয়েস কার্ড পেয়েছিলাম, কোন প্রকার সনদ ছাড়াই। পোস্টডক শেষে জবে ঢুকলাম। জবের জন‍্য যে আবেদন করলাম, ইন্টারভিউ দিলাম—কোথাও কেউ কোন সনদ-ফনদ চাইতো না। আমি ব‍্যাচলরে কতো পেয়েছি, মাস্টার্সে কতো জিপিএ ছিলো এগুলো কেহই জিজ্ঞেস করেনি। আমেরিকার মতো একটা দেশ, কোন সনদ-ফনদ ছাড়া তাহলে কী করে চাকুরি দিয়ে দেয়? কী করে আইভিলিগ স্কুলে গবেষণার জন‍্য নিয়োগ দেয়?

এই দেশে সনদের চেয়ে বড়ো হলো রেকমেন্ডেশন লেটার। আমার পিএইচডি’র সুপারভাইজর ইউনিভার্সিটিগুলোতে লেটার পাঠাতেন—সেটাই সনদ। —এর চেয়ে বড়ো কোন সনদ নেই। সেই লেটারের উপর ভিত্তি করে এবং আমার পূর্ববর্তী গবেষণার রেকর্ড থেকে, ওরা পোস্টডকের জন‍্য আবেদন গ্রহণ করেছে। আবার আমি যখন জবের জন‍্য আবেদন করতাম, তখন আমার পিএইচডি এবং পোস্টডক সুপারভাইজরগণ রেকমেন্ডশন লেটার পাঠাতেন। তাদের লেটার, আমার পূর্ববর্তী গবেষণার রেকর্ড ও পার্ফমেন্স— এই বিষয়গুলোর কম্বিনেশন থেকেই এদেশে চাকুরি। —তাহলে, সনদ ওদের কাছে এতো গুরুত্বপূর্ণ নয় কেন?

দুনিয়াতে সনদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সনদ প্রদানকারী মানুষ। ইউরোপ-আমেরিকায় এই মানুষগুলোকে তৈরি করা হয়েছে। এমন মানুষ গুলোকেই প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। একজন মানুষ যখন আপনার বিষয়ে দু’কলম লিখে দেয়, সেটাকেই সনদ হিসেবে মূল‍্যায়ন করা হয়। কারণ, এই মানুষ গুলো কাউকে মিথ‍্যে মিথ‍্যে সার্টিফাই করবে না। একজন প্রফেসরের সুপারিশপত্র, সনদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, সনদ শুধু পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে ধারণা দেয়। কিন্তু একজন মানুষের মেধা, আগ্রহ, কাজের নেশা, চারিত্রিক দিক, ধৈর্য় ইত‍্যাদি বিষয়গুলো ব‍্যাখ‍্যা করে না। একটা রেকামেন্ডেশন লেটার এইসব বিষয়গুলোও তুলে ধরে। তাই, সত‍্যিকারে রেকামেন্ডেশন লেটার হয় কনফিডেনশাল বা গোপনীয়। আমার মেন্টরগণ আমার বিষয়ে কী লিখতেন, আমি কখনো জানিনা।

আমি একবার দেশে থাকার সময়, সাইন্টিফিক অফিসার পদে আবেদনের জন‍্য প্রস্তুতি নিলাম। এক পর্যায়ে দেখলাম সব ডকুমেন্ট রেডি আছে, কিন্তু চারিত্রিক সনদ নেই। আবেদনের জন‍্য চারিত্রিক সনদ লাগবে। সেই সনদ আবার আনতে হবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম‍্যানের কাছ থেকে। এতো সনদ, এতো কাগজপত্র—তারপরও যথেষ্ট নয়। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদের আবেদনের জন‍্য সনদ লাগবে ইউনিয়ন চেয়ারম‍্যানের। — হঠাৎ এই কথাটা যখন মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো, তখনই আবেদন করা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলাম। কোনদিন আর আবেদন করা হয়নি। একজন ভোটচোর, অসভ‍্য, অযোগ‍্য চেয়ারম‍্যানের কাছ থেকে একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার আনতে হবে চারিত্রিক সনদ! —সেলুকাস! আমরা সনদ প্রদানের মানুষ তৈরি না করে, কাগজের সনদেই পূর্ণ আস্থা রেখেছি!

গার্ডেন স্টেইট,যুক্তরাষ্ট্র।

আরো পড়ুন