1. powerofpeopleworld@gmail.com : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. jashim_1980@hotmail.com : mohammad uddin : mohammad uddin
শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

ছাত্র থাকা অবস্থায় কিভাবে বেস্ট ইনকাম করবেন?

বর্তমান সময়ে একজন শিক্ষার্থীর জীবন শুধুমাত্র লেখাপড়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। বরঞ্চ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ছাত্র জীবন থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে ক্যারিয়ারের জন্য যুদ্ধ। সাধারণত ছাত্র জীবনে লেখাপরার পাশাপাশি একজন ছাত্রের আরো নানাবিধ কাজে অর্থের প্রয়োজন হয়। এই সময়টা এমন একটা সময় আমরা চাইলেও সকল প্রয়োজনের জন্য টাকা পরিবারের কাছ থেকে চাইতে পারিনা। হয়তোবা নতুন একটা জিনিস কিনতে ইচ্ছে করলো কিন্তু পরিবারের কাছে টাকা চাইতে হয়তোবা নিজের কাছেই বাধো বাধো ঠেকলো, কারণ তারা এমনিতেই আমাদের পড়াশোনার পেছনে অনেক টাকা-পয়সা খরচ করেন। তখন মনে হয় ইশ! যদি আমিও কিছু টাকা উপার্জন করতে পারতাম, তাহলে হয়তোবা আমার শখের ওমুক জিনিসটা কেনা বাকী থাকতোনা। আবার নিজের কম সার্টিফিকেটের কথা ভেবে চুপসে যাই। তবে কিছু কিছু সহজ উপায় আছে যেগুলো অনুসরণ করলে পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু অর্থ উপার্জন করাও সম্বব।

আজ আমরা একজন ছাত্রের ছাত্র-জীবন থেকেই উপার্জনের উপায়, তার জন্য করণীয় ইত্যাদি বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

ফ্রিল্যান্সিংঃ

বর্তমান সময়ে উপার্জনের জন্য সবচাইতে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ফ্রিল্যান্সিং। ”’মুক্তপেশা”’ (Freelancing), কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে মু্ক্তভাবে কাজ করাকে বোঝায়। যারা এধরণের কাজ করেন তাদের বলা হয় “মুক্তপেশাজীবী” (Freelancer)। এধরণের কাজে কোনো নির্দিষ্ট মাসিক বেতনভাতা নেই তবে স্বাধীনতা আছে, ইচ্ছা মতো ইনকামের সুযোগ ও আছে। এজন্য স্বাধীনমনা লোকদের আয়ের জন্য এটা একটা সুবিধাজনক পন্থা। আধুনিক যুগে বেশিরভাগ মুক্তপেশার কাজগুলো ইন্টারনেটেরমাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। ফলে মুক্ত পেশাজীবীরা ঘরে বসেই তাদের কাজ করে উপার্জন করতে পারেন। এ পেশার মাধ্যমে অনেকে প্রচলিত চাকরি থেকে বেশি আয় করে থাকেন, তবে তা আপেক্ষিক। ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ হওয়াতে এ পেশার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি হাজারো ক্লায়েন্টের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ঘটে।

কাজের ধরণঃ

মুক্তপেশার কাজের পরিধি অনেক বেশি। বিশ্বব্যাপী এধরণের কর্মপদ্ধতির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে শীর্ষে থাকা কয়েকটি কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

লেখালেখি ও অনুবাদ:

নিবন্ধ, ওয়েবসাইট কন্টেন্ট, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ছোট গল্প, এবং এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় ভাষান্তরকরণ উল্লেখযোগ্য।

সাংবাদিকতা:

যারা এবিষয়ে দক্ষ তারা বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পত্রপত্রিকায় লেখালেখির, চিত্রগ্রহণের পাশাপাশি ইন্টারনেটভিত্তিক জনসংযোগ করে থাকেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইন:

লোগো, ওয়েবসাইট ব্যানার, ছবি সম্পাদনা, অ্যানিমেশন ইত্যাদি।

ওয়েব ডেভলপমেন্ট:

ওয়েবসাইট তৈরি, ওয়েবভিত্তিক সফ্‌টওয়্যার তৈরি, হোস্টিং ইত্যাদি।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং:

ডেস্কটপ প্রোগ্রামিং থেকে ওয়েব প্রোগ্রামিং সবই এর আওতায় পড়ে।

*ইন্টারনেট বিপণন/ইন্টারনেট মার্কেটিং:

ইন্টারনেটভিত্তিক বাজারজাতকরণ কার্যক্রম, যেমন ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে বিপণন।

গ্রাহক সেবা:

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির গ্রাহককে টেলিফোন, ইমেইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহাজ্যে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা।

প্রশাসনিক সহায়তা:

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন কাজের ডাটা এন্ট্রি করা, ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করা ইত্যাদি।

তবে একটা কথা সবসমই মনে রাখতে হবে ফ্রীল্যান্সিং – এর মাধ্যমে টাকা উপার্জন যেমন সহজ তার সাথে থাকতে হবে সেই কাজের দক্ষতা, নয়তো অনেক সময় এবং পরিশ্রমের বিনিময়েও চাহিদা মতন উপার্জন করা সম্ভব হবেনা।

টিউশনিঃ

টিউশনি আদিমকালে থেকে ছাত্র বয়স থেকে উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী আরেকজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে কিছু অর্থ উপার্জন করতে পারে। তবে বর্তমান বাজারে এ পেশাতেও অনেক প্রতিযোগীতা বারার ফলে নিজেকে দক্ষ হিসেবে তৈরি করে নিতে হবে।

তবে এই পেশার সবচাইতে মজার বিষয় হলো অন্যজনকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে ওই সব বিষয়ে নিয়মিত চর্চা থাকার ফলে একরম একটা দক্ষতা চলে আসে। তাই ভবিষ্যতে যদি কেউ শিক্ষকতাকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে চায় তাহলে এটি তার জন্য সাহায্যকারীও হয়ে ওঠে বটে।

বাইক ম্যাসেঞ্জারিংঃ

ছাত্রজীবন থেকেই যারা উপার্জন করতে চায় তাদের জন্য বর্তমান সময়ে বাইক ম্যাসেঞ্জারিং অন্যতম জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই ঢাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছোটখাটো পার্সেল পাঠাতে চায়।কিন্তু প্রফেশনাল কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠালে এটি সময়সাপেক্ষ এবং ব্যায়বহুলও হয় বটে। তাই যেসব ছাত্রের ব্যাক্তিগত বাইসাইকেল রয়েছে তারা পার্সেলগুলো একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে পৌঁছে দিয়ে কিছু পয়সা উপার্জন করতে পারে যা ব্যাক্তিগত খরচের জন্য খুব কাজে লাগে। এই ধরণের কাযে সর্বনিম্ন ৬০টাকা থেকে ২০০টাকা পর্যন্ত উপার্জন করা সম্বব। তাৎক্ষণিক ভাবে টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা এবং সাইকেলের মাঝে দ্রুত ডেলিভারি দেওয়ার ফলে গ্রাহক এবং তরুণ উভয়ের মাঝেই এই সার্ভিসটি খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

পাঠাও রাইড শেয়ারিং এন্ড কুরিয়ার সার্ভিসঃ

বর্তমানে বাংলাদেশে পাঠাও নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখান থেকে দুইভাবে শিক্ষার্থীরা উপার্জন করতে পারে, একটি হলো রাইড শেয়ারিং যেটির মূল তাৎপর্য হলো, নিজের ব্যাক্তিগত মোটরসাইকেলে একজন যাত্রীকে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পৌঁছে দেওয়া। এই কাজের মাধ্যমে প্রতিদিন অন্তত ৫০০-৬০০ টাকা উপার্জন করা সম্ভব।

আরেকটি উপায় হলো কুরিয়ার সার্ভিস। এটিও ওই সাইকেল বাইক ম্যাসেঞ্জারিঙ এর মতনই। নিজের ব্যাক্তিগত মোটরসাইকেলের মাধ্যমে ঢাকা শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে একজন গ্রাহকের পাঠানো জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়াই এই কাজ। এভাবে তার মোটর সাইকেল ব্যাবহার করে একজন শিক্ষার্থী প্রতিদিন তার অবসর সময়ে কিছু নগদ টাকা উপার্জন করতে পারে।

রেস্টুরেন্টে চাকুরিঃ

বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন রেস্টুরেন্টগুলোতে পার্টটাইম চাকুরি খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে যা বছর কয়েক আগেও তেমন একটা দেখা যেতনা। একজন শিক্ষার্তী চাইলে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম চাকুরি করে অর্থ উপার্জন করতে পারে।

কলসেন্টারঃ

কলসেন্টার জব এখন উপার্জনের অন্যতম জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। বিশেষ করে ভার্সিটি স্টুডেন্টদের জন্য এটি আশীর্বাদ স্বরুপ হয়ে এসেছে। ভয়েস কলের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত গ্রাহক সেবা দেয়াই এই চাকুরির মূল কাজ। শিক্ষার্থীরা নীজ সুবিধামতন দিন রাত যেকোন শীফট অনুযায়ী কাজ করতে পারে। এভাবেও একজন শীক্ষার্থীর পক্ষে ছাত্র জীবনেই উপার্জন করা সম্ভব পাঠাও-এর সবচাইতে সুবিধার দিকটি হলো এর কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই, নিজের ইচ্ছামতন অবসর সময়ে এখানে কাজে অংশ নেওয়া যায়।

এরকম আরো অনেক পথ আমাদের চোখের সামনেই খোলা রয়েছে, হয়তোবা একটু গভীর চিন্তার অভাবে বা সঠিক গাইডলাইন না পাওয়ার ফলে সেসব বিষয় একটু চোখ মেলে দেখতে পাইনা।

তবে নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস থাকলে আর হার না মানার মানসিকতা থাকলে যেকোন কিছুই করা সম্ভব। আশা করছি আজকের পাওয়া টিপসগুলো থেকে তোমরা একটু হলেও জানতে পেরেছো শিক্ষার পাশাপাশি অর্থ উপার্জনের সম্ভাবনার বিষয়ে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আমরা আরো বিশদ আলোচনা করবো।

এর মধ্যে থেকে কোন উপায়টি আপনার কাছে সবচেয়ে ভালো মনে হয়েছে? ছাত্রজীবনে টাকা আয়ের আরও ভালো কোন উপায় আপনার জানা থাকলে শেয়ার করুন আমাদের সাথে।

আরো পড়ুন