1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন

পরিচিত হয়ে নিন বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিগুলোর সাথে!

শিক্ষকরা দিয়েছেন জ্ঞান আর ইঞ্জিনিয়াররা দিয়েছেন সভ্যতা। মানব সভ্যতার শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত যতটুকু উন্নতি হয়েছে বা মানুষের আরাম আয়েশ হয়েছে সবকিছুর পেছনে অবদান রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারদের। আপনি বর্তমানে যে গ্যাজেট অর্থাৎ ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করছেন সেটিও তৈরির পিছনে সবটুকু অবদান ইঞ্জিনিয়ারদের। সর্বপ্রথম গ্রাহামবেল যে টেলিফোনটি উদ্ভাবন করেছিলেন সেটার সর্বশেষ সংস্করণ আজকের আইফোন বা অন্য যেকোনো ফোন।

প্রযুক্তি কিংবা বিজ্ঞান কখনোই এক জায়গায় থেমে থাকে না। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রযুক্তির যেমন পরিবর্তন হয়েছে, তেমনি পরিবর্তন হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিটি দিকের। দুই শতক আগে মানুষ টেলিফোনের কথা ভাবতে পারেনি, এরপর যখন তারযুক্ত টেলিফোন উদ্ভাবন হলো। তখন মানুষ সেটা ব্যবহার শুরু করলো।

এখন আমরা সেলফোন থেকে শুরু করে ব্লুটুথ চার্জার পর্যন্ত ব্যবহার করছি। তেমনি এক সময় মানুষ মেঘের উপরে উড়ার স্বপ্ন দেখতো। এখন শুধু মানুষ মেঘের উপর দিয়ে বিমানে করে উড়ছেই না, সেই সাথে বুর্জ খলিফার মতো সুউচ্চ দালান তৈরি করে মেঘের উপরে বসবাস করছে। এ সবকিছু সম্ভব হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে।

ইঞ্জিনিয়ারিং কী

ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা ইঞ্জিনিয়ার শব্দের সাথে আমরা প্রায় সবাই পরিচিত। কিন্তু আমরা অনেকেই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভালো সংজ্ঞা জানি না। ইঞ্জিনিয়ারিং কী এবং ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বারা কী বোঝায়?

মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে কোনো কৌশল যেটা প্রয়োগ করে বিভিন্ন পণ্য বা বস্তু উদ্ভাবন করার মাধ্যমে একের পর এক সমস্যার সমাধান করা যায়। হতে পারে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল প্রয়োগ করে পুরো সমস্যার সমাধান করা যায় অথবা কোনো কাজের অংশ বিশেষ সমাধান করা যায়।

বর্তমানে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কলাকৌশলের মাধ্যমে যেসব পণ্য, যন্ত্রপাতি বা স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলো অনেক বেশি উন্নত এবং কারিগরি দিক থেকে অনেক বেশি কর্মক্ষমতা সম্পূর্ণ।

ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি ব্যাপক। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শাখা প্রশাখার শেষ নাই। বলতে গেলে ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে সাগরের মতো। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাধারণ বা প্রধান কিছু শাখার সাথে আমরা পরিচিত। তবে এই শাখাগুলোর ডালপালা নানান দিকে বিস্তার লাভ করে বিশাল এক সাগরে রূপ নিয়েছে। যেমন বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শাখা রয়েছে, তেমনি সেই অনুযায়ী ডিগ্রিও রয়েছে। তবে প্রধানত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছয়টি শাখা রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে,

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং

ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং

ম্যানেজমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং

এবার চলুন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন শাখা প্রশাখা এবং সেগুলোর ডিগ্রি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

বর্তমানে চারদিকে যেখানেই তাকাবেন সবখানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছোঁয়া দেখতে পাবেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া একটি দিনও কল্পনা করা সম্ভব না। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমেই আমরা শক্তি উৎপাদন করছি এবং সেই শক্তির সাহায্যে মেশিন থেকে শুরু করে ঘরের ফ্যান সবকিছু চালাচ্ছি।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক বিশাল একটি শাখা। এখানে বিভিন্ন ধরনের উপশাখা রয়েছে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপশাখা ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, গতিবিদ্যা, তাপগতিবিদ্যা ইত্যাদির সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ পর্যন্ত উৎপন্ন হচ্ছে।

বর্তমানে আমরা যে সকল পণ্য ব্যবহার করি তার অধিকাংশ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাহায্যে তৈরি এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে উৎপন্ন প্রতিটি নতুন পণ্য আমাদের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে তোলে।  মেকানিক্যাল হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্যতম বিশাল একটি শাখা। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধীনে বেশকিছু ডিগ্রি হল,

একুস্টিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং

বায়োমেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং

থার্মাল ইঞ্জিনিয়ারিং

ম্যানুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং।

২. কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

যে যন্ত্রকৌশল বা প্রযুক্তিবিদ্যায় কেমিক্যালের ব্যবহার করা হয় সেটাই হচ্ছে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে যে সকল পণ্য উৎপাদন করা হয় অথবা কোনো কার্যসম্পাদন করা হয়, তার বড় একটা অংশ জুড়েই থাকে কেমিক্যালের ব্যবহার। বিভিন্ন প্রযুক্তি আর কেমিক্যালের সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী।

এর মধ্যে রয়েছে কসমেটিকস, ঔষুধ, বিভিন্ন ধরনের বেভারেজ, সার, বিভিন্ন ধরনের হিমায়িত খাবার ইত্যাদি। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধীনস্থ কিছু ডিগ্রি হলো,

এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং

ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং

এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং

পেপার ইঞ্জিনিয়ারিং

সাসটেইনেবল ইঞ্জিনিয়ারিং

বায়ো মলিকুলার ইঞ্জিনিয়ারিং

প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং

৩. সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং

মানুষের সভ্যতা এবং বিলাসবহুল জীবন প্রদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের। এক সময় মানুষ বনজঙ্গল বা গুহায় বাস করতো, সেখান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সুউচ্চ দালান তৈরি করেছে। মানুষ সাধারণত যেসব অবকাঠামো ব্যবহার করে বিশেষ করে দালান, সড়ক, রেলওয়ে, বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা, পানির সরবরাহ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ইত্যাদি সবকিছু সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে সম্পর্কিত।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতোই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক বৃহৎ একটি শাখা। সিভিল মানেই হচ্ছে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিশেষ কলাকৌশল প্রয়োগ করে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা তৈরি।

কোনো নির্মাণ কাজের প্লান থেকে শুরু করে রংয়ের কাজ পর্যন্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্তুর্ভুক্ত। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধীনস্থ কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি হলো,

আর্কিটেকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং

এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং

স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং

ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং

ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং

ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

বর্তমান সময়ের সবকিছু বিদ্যুৎ শক্তির উপর নির্ভরশীল। সে কারণে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং খু্বই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সাধারণত প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট উৎস থেকে যে যন্ত্রকৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ শক্তি এবং বৈদ্যুতিক বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয় সেটাই ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। মূলত ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতির সাথে তড়িৎচুম্বকীয়তত্ত্বের প্রয়োগ।

সৌরবিদ্যুৎ থেকে শুরু করে কম্পিউটার প্রযুক্তি, ইন্ডাক্টটর, এডাপ্টার, আইসি, ট্রান্সমিটার, জেনারেটর, মটর ইত্যাদি সবকিছু ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্তর্ভুক্ত। এবার ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্তর্ভুক্ত বেশ কিছু ডিগ্রি হলো,

কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং

রোবোটিক্সস

মাইক্রোইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং

অপটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং

৫. জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

পৃথিবীর বিভিন্ন কাঁচামাল আহরণ, পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণ করা নিয়েই জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অত্যন্ত মূল্যবান একটি ডিগ্রী। জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নদ-নদী, পুকুর, সমুদ্রের মাটি থেকে শুরু করে পাহাড়ের পাথর, খনির বিভিন্ন ধাতু, আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন ইত্যাদি সবকিছু বিষয় নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্তর্ভুক্ত।

জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মূলত প্রকৃতির নতুন নতুন সম্পদ এবং বিভিন্ন ধরনের উপাদানের অনুসন্ধান, গবেষণা এবং বিশ্লেষণ করা হয়ে থাকে, তবে প্রকৃতির কোনোরূপ ক্ষতি না করেই। জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্তর্ভুক্ত যেসব ডিগ্রী বা শাখা রয়েছে,

পেট্টোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং

জিওলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং

মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং

ফোটোনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং(PhotonicsEngineering)

ফিজিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং

ন্যানোটেকনোলজি ইঞ্জিনিয়ারিং

সিরামিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং

মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং

মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং

জিও-মেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং

৬. ম্যানেজমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ম্যানেজমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং নতুন একটি ধারণা এবং এই ধারণা খুব বেশিদিন হলো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ম্যানেজমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবাহকে গতিশীল রাখা এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিশেষ কোনো শাখার বিভিন্ন কাজের প্রক্রিয়া ব্যবস্থাপনা করা।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, ধরুন আপনি কোনো কারখানার ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে ম্যানেজমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আছেন, সেক্ষেত্রে ঐ ইউনিটের সমস্ত কাজের কলাকৌশল সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে এবং কোন ধাপের পর কোন ধাপটি সম্পন্ন হবে সে বিষয়েও জ্ঞান থাকতে হবে।

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নতুন এবং বিশেষ ডিগ্রি হলেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু রয়েছে। এটা মূলত ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ এবং টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সম্মিলিত রূপ। বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী চালু থাকলেও বিশেষ এই ডিগ্রী অর্জন করেও অনেকে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। ম্যানেজমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্তর্ভুক্ত যেসব ডিগ্রী রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে,

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং

সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং

ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট

ম্যানুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং

এই হচ্ছে মোটামুটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রধান ছয়টি শাখার বিভিন্ন ডিগ্রি সমূহ। এসব ডিগ্রীগুলো থেকে যে কেউ পছন্দের কোনো ডিগ্রী অর্জন করে ক্যারিয়ার গঠন করতে পারেন। তবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শাখাপ্রশাখার শেষ নেই। এর বাইরেও আরো অনেক ডিগ্রীও রয়েছে। ক্যারিয়ার গঠনের জন্য প্রযুক্তি বা ইঞ্জিনিয়ারিং বেশ ভালো একটি দিক।

আরো পড়ুন