1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

পলিটেকনিক ও ইউনিভারসিটির ছোট ভাই বোনদের জন্য কিছু উপদেশ!

যদিও এ বিষয়টিকে নিয়ে ইতিপূর্বেও আমি সংক্ষিপ্ত কিছু ইঙ্গিত দিয়েছিলাম। লিখেছিলাম বেশ কিছু পোস্ট। তবে সরাসরি বা খোলামেলা ভাবে তেমন কোনকিছু বলা হয়নি বিধায় আজ মনে হচ্ছে বিষয়টিকে আরও একটু খোলাসা করা দরকার।

হ্যাঁ ছোট ছোট ভাই ও বোনেরা তোমরা যারা এখনো পলিটেকনিক লাইফের বা ভার্সিটি লাইফের সবে মাত্র দু তিনটি সেমিস্টার গড়িয়েছো কিংবা যারা সবে মাত্র কলেজ বা ভার্সিটি জীবন শুরু করতে যাচ্ছো আমি তোমাদের মত তরুণ তরুণীদেরকে উদ্দেশ্য করেই বলছি।

তোমাদের বয়স কত হতে পারে, আনুমানিক ১৬ থেকে ১৮ কিংবা তার চেয়ে দু এক বছর কম বা বেশি। তোমাদের এই সময়টা হচ্ছে লাইফের গোল্ডেন টাইম। অর্থাৎ সোনালী সময়। আমি জানি তোমরা এতক্ষণে কি ভাবছো?

ভাবছো, সিনিয়র পারসন, বা মুরুব্বী মানুষ তাই হয়তো জ্ঞান দিতে এসেছে। এত জ্ঞান আর ভাল লাগে না। আমরা এখন বড় হয়েছি। আমরা এখন সব বুঝি। কারো জ্ঞান দেওয়া লাগবে না।

হ্যাঁ তা অবশ্য ঠিক যে, তোমরা গায়ে গতরে বড় হয়েছো। আগের থেকে বেশ লম্বাও হয়েছে। শরীরে বেশ তাজা শক্তিও হয়েছে। প্রকৃতির ডাকে এখন আর তোমরা বিছানা নষ্ট করো না ঠিকই তবে এখন তোমাদের মাঝে ভর করে আছে আবার নতুন এক প্রকৃতির ডাক। যে ডাকে তোমরা কখনো কখনো পরিপূর্ণ ভাবে না জেনে বা না বুঝে সাড়া দিতে গিয়ে লাইনচ্যুত হয়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনার কবলে পড়ে যাও। যে দূর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতির বোঝা তোমাকেই সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। যার প্রভাব পড়ে তোমার পড়াশুনার প্রতি৷ ফলাফল রেজাল্ট খারাপ। পরিণাম ভাল ভার্সিটিতে চান্স না পাওয়া কিংবা পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা ভাল রেজাল্টের অভাবে বিভিন্ন নামীদামী মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজের সুযোগ না পাওয়া।

তাই গায়ে গতরে বড় হলেই এখানে নিজেকে কোনভাবেই বড় ভাবার সুযোগ নেই। কেননা, ম্যাচুরিটি আসে অভিজ্ঞতায়, বয়সে নয়। আর মুরুব্বীরা তোমাদেরকে জ্ঞান দিতে আসেননি বরং তোমাদেরকে বাঁচাতে এসেছেন৷ কাজেই কোন একটি বিষয় সম্পর্কে শতভাগ জ্ঞানার্জনের পূর্বেই তাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করা নিছক বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়।

আমি বলেছিলাম তোমাদের এই বয়সটি হচ্ছে গোল্ডেন টাইম বা সোনালী সময়। কেন বলেছিলাম? কারন এই বয়সে প্রেম করা যায়? প্রেমে পড়া যায় বা কাউকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বোকা বানিয়ে তাকে ঠকানো যায়? তার শরীর ও মনকে নিয়ে খেলা করে তার সাথে প্রতারণা করে অন্যের জীবন নষ্ট করা যায় এর জন্য? না মোটেও তা নয়। তোমরা যা ভাবছো বিষয়টি তা নয়। তোমাদের বয়সের চেয়ে আরও বেশি বয়সের যারা সিনিয়র রয়েছেন তারাও একাজটি করতে পারেন এবং তোমাদের চেয়ে আরও বেশি করে করতে পারেন। কারন, তাদের রয়েছে পকেটে পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকা, ব্যাংকে রয়েছে অঢেল ব্যালেন্স যা তোমার পকেটে নেই। তাদের রয়েছে খ্যাতি আর বিলাসবহুল দামী দামী গাড়ি ও বাড়ি, রয়েছে উন্নত জীবনযাপন কাজেই তাদের পক্ষে এ ধরনের প্রেমপ্রীতি আরও অনেক বেশি সহজ শুধুমাত্র চরিত্রটা একটু খারাপ হতে হবে এই আর কি! অতএব, চরিত্র খারাপের দিকে যেতে পারে এমন সম্ভাবনার কারনে তোমাদের এ বয়সটাকে আমি গোল্ডেন টাইম বলিনি। বরং কেউ যদি এ ধরনের অপকর্ম করে বেড়ায় সেটা তার জন্য কলঙ্ক এবং এর জন্য তাকে লজ্জিত হতে হবে, অপমানিত হতে হবে এবং তাকে তার ভুলের খেসারত দিতে হবে।

বরং এটি এ কারনেই গোল্ডেন টাইম বলেছি যে, এটিই হচ্ছে একমাত্র সময় যা নির্ধারন করে আগামীতে তুমি কি বিল গেটস, স্টিভ জবস হতে চলেছে? নাকি একটি দাগী বদমাইশ চোর হতে চলেছো? তুমি কি আগামীতে স্ব উদ্যোক্তা ইকবাল বাহারের মত বহু কাঠখড়ি পোড়ানো সত্যিকার জীবনের হলিউড হিরো হতে চলেছো? নাকি প্রেমে ছেঁকা খেয়ে মাদকে আসক্ত হয়ে নেশাগ্রস্থ উন্মাদে পরিণত হয়ে পুলিশের গুলিতে মরতে যাচ্ছো। এটাই সেই সময় যা নির্ধারণ করে দিবে পড়াশুনা শেষ করে তুমি কি বেকার থাকবে? নাকি আরও একজন সফল ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম হবে?

অতএব, তোমরা তোমাদের গোল্ডেন টাইমের সর্বোচ্চ পরিমাণে যথার্থ প্রয়োগ চালাও শিক্ষা আর গবেষণার কাজে। কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের বান্ধবী আজ নীল রঙের থ্রী পিস পড়ে এসেছে সেই চিন্তায় ব্যাকুল হইয়ো না।

গবেষণার প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় উপকরন কিনে আনো, বাসায় বসে রিসার্চ করো। শারমিনের জন্য গিফট কিনো না। কেননা, ওটা ওর প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন ফুরালে সে তোমার গিফট ফেলে দিবে এমনকি তোমাকেও ফেলে দিতে সে দ্বিধা করবে না। মনে রাখবে অবৈধ সম্পর্কের কোন ভিত্তি নেই। এর কোন মজবুত দৃঢ়তা নেই।

কাজেই পড়াশুনায় মন দাও, মুখুস্থ পড়া বাদ দাও, বুঝে পড়তে পারলে পড়ো না পারলে পড়াশুনার দরকার নেই। সবাইকে একই বিষয় নিয়ে পড়তে হবে এমনতো নয়। তুমি যেটা ভালো পারো সেটাকে নিয়েই গবেষণা করো সেটার উপরেই পড়াশুনা করো। তবে মনে রাখতে হবে তোমার গবেষণা যেন অবশ্যই মানব কল্যাণে ব্যায় হয়। নতুবা তুমি নিজেকে কখনোই সফল ভাবতে পারবে না।

আমি জানি এ সময়ে পড়াশুনায় মন বসবে না, বারবার কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের বান্ধবী বা অপরূপ সৌন্দর্যে আচ্ছাদিত লাল কিংবা সাদা গোলাপ ছোট বোনদের কথা মনে পড়বে কারন তোমার নিজের ডিপার্টমেন্ট ইলেক্ট্রিক্যাল বা ইলেক্ট্রনিক্সে তেমন সুন্দরী বলে কেউ নেই। তাই বারবার ক্লাস শেষে বাইরে বেরিয়ে পড়তে মন চাইবে। বাথরুমে যাওয়ার নমুনা করে রোদেলাকে এক পলক দেখতে ইচ্ছে করবে। তার হাসিটাকে অনুভব করার চেষ্টা করবে। কিংবা তার সাথে একটু খানি আলাপচারিতার সুযোগ খুঁজবে কিন্তু ভুলে যেও না। এটাতো সবে শুরু রে পাগলা। সামনে আরো আছে, তার জন্য তোমাকে অপেক্ষা করতে হবে এবং বর্তমান সময়টাকে পড়াশুনা ও গবেষণায় কাজে লাগাতে হবে। এগুলো একসময় ব্যাকডেইট হবে কিন্তু তোমাকে আপডেইটটাই নিতে হবে। কাজেই অপেক্ষা করো।

কেননা, যদি তুমি তোমার নিজের উন্নতি করতে না পারো তবে তোমার পাশে কেউ থাকবে না এমনকি নিজের মা বাবাও বেকার ছেলেকে পছন্দ করেন না। প্রয়োজনে অপমান অপদস্থ করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে পারলেই তারা বাঁচে। আর এ তো রোদেলা মাত্র, সে তো তোমাকে তার প্রয়োজন মোতাবেক না পেলে লাথি দিয়ে জীবিত অবস্থায় মেরে ফেলবে। তাই ভার্সিটি কিংবা পলিটেকনিকের ১,২,৩ সেমিস্টারেই রোদেলাকে নিয়ে কল্পনা দেখে নিজের জীবনটাকে এখানেই থামিয়ে দিও না। কত রোদেলা দেখবে? সামনে অঢেল পড়ে আছে, তারা তোমাকেই খুজবে, শুধু রোদেলা একা নয় নিজেকে ভালভাবে গড়তে পারলে রোদেলার মা বাবা, আত্বীয় স্বজন সহ সবাই তোমার পিছনে ঘুরবে এরা সবাই তোমাকে ভালবাসা নিবেদন করবে। তোমাকে কারো পিছনে ঘুরতে হবে না। আর যদি নিজের ব্যাক্তিত্ব বলে কিছু না থেকে থাকে কিংবা নিজের আত্বসন্মান বোধ বা সন্মান বলে কিছু না থেকে থাকে তবে যা ইচ্ছে তাই তুমি করতে পারো। নিজের চরিত্রকে ধবংস করে নিজেও ধবংস হতে পারো। its your choice?

মনে রাখবে মফস্বল শহরই শহর নয়, ঢাকা চট্টগ্রাম বলেও আরো বড় দুটি শহর আছে। কিংবা ঢাকার উত্তরাই শেষ আবাসিক নয় গুলশান ধানমন্ডি নামে আরও উন্নত আবাসিক আছে। অতএব, নিজেকে ছোট্ট এক প্রেমের কুয়ায় নিক্ষেপ করে কুয়োর ব্যাঙ হয়ে সারাজীবন কুয়োর ভিতরে থাকা পোকামাকড় খেয়ে আর উপরের দিকে তাকিয়ে আকাশ দেখে পৃথিবীটাকে এত ছোট ভেবো না। একবার কুয়োর ভিতর থেকে বাইরে বেরিয়ে দেখো পৃথিবীটা কত বড় আর তোমার জন্য সামনে কতকিছু অপেক্ষা করছে। তখন কোনটা ছেড়ে কোনটা নিবে সেই ডিসিশন নিতেই ঘাম ছুটে যাবে।

অতএব, জীবনের গোল্ডেন টাইম অপচয় করো না। নিজের যত্ন নাও। পড়াশুনা শেষ করে কি করবে তার নকশা তৈরিতে হাত লাগাও। ভুলে যেও না নকশায় ভুল হলে কিন্তু বিল্ডিং যেমন পড়ে যায় তেমনি তোমার লাইফও দুমড়ে মুচড়ে পড়ে যাবে। অথর্ব বেকার জীবন হবে তোমার সঙ্গী রোদেলা কিংবা শারমিন কেউ হবে না তোমার অংশী। প্রত্যেকে তার নিজের তরে। সবার আগে ভালবাসো নিজেকে তারপর অন্যকে। সিনেমা কিংবা নাটকের ভালবাসা দেখে ভালবাসা শিখতে যেও না। ওখানে নাটক সিনেমার নির্মাতারা তোমাদের আবেগকে পুঁজি করে বিনোদনের নামে জমজমাট ব্যাবসা করে কোটি কোটি টাকা রোজগার করে। তোমার পকেট ফাঁকা করে তাদের পকেট ভরে। অতএব, তাদের নিকট থেকে ভালবাসা শিখতে যেও না। তারা তাদের ব্যাবসায়িক সাফল্যের প্রয়োজনে ছবির নামে অশ্লীলতাকেও বাদ দেয় না। তারা সবার আগে তাদের ব্যাবসাটা বুঝে। কাজে কাজেই
সবাই যদি নিজের ভাল টা বুঝে তবে তুমি কেন নিজেকে সঁপে দিচ্ছো অন্যের হাতে বরং ভালবাসো নিজেকে যত্ন নাও নিজের ক্যারিয়ারটাকে। সাজিয়ে রঙিন করে আলোয় ভরিয়ে তোলো নিজের ভবিষ্যতকে। আশা করি আজকের এ লিখাটি পড়ার পর তোমরা কেহই ফাঁদে পা দিবে না ইনশাআল্লাহ এবং দেখে বুঝে সতর্কভাবে পা ফেলবে ইনশাআল্লাহ।

লেখকঃ নাজমুল হক।

আরো পড়ুন