1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

পিএইচডি আবেদনে সফল হতে গুরুত্বপূর্ণ ৫ টি টিপস !

যারা উচ্চ শিক্ষা অর্জনে আগ্রহী, তাদের অন্যতম টার্গেট পিএইচডি করার সুযোগ লাভ। পিএইচডি করার ক্ষেত্রে অধিকাংশই বেছে নেয় আমেরিকা ও ইউরোপের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। ফলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডি করার সুযোগ পেতে হলে প্রত্যেক প্রতিযোগীকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়। এই প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে আপনাকে আপনার যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে।

আপনার পূর্ববর্তী ডিগ্রি, রিসার্চ পেপার, পার্সোনাল স্টেটমেন্ট,রিকমেন্ডেশন লেটার, অ্যাপ্লিকেশন লেটার এইসব বিষয়ের মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনার যোগ্যতার প্রমাণ পাবে। ফলে এসব বিষয়ে আপনার দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে, বিশেষ করে আবেদন করার ক্ষেত্রে। পিএইচডি করার সুযোগ পেতে আপনার আবেদন কৌশলের মূখ্য ভূমিকা রয়েছে। তাই আপনার আবেদনকে ফলপ্রসূ করতে নিম্নোক্ত পাঁচটি টিপস জেনে রাখুন।

১. আগ্রহের বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করুন

আপনি কোন বিষয় নিয়ে পিএইচডি করতে আগ্রহী, সেটি প্রথমে নির্বাচন করুন। এমনকি যে সব বিষয়ে স্বল্প আগ্রহী , সেসব ক্ষেত্রগুলোও সিলেক্ট করুন। এবার নির্বাচিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা দিয়ে আবেদন করুন। এতে আপনার পিএইচডি করার সুযোগ পাওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যাবে। কোনো বিষয়কে যখন বিস্তৃত আকারে ফোকাস করবেন, তখন কর্তৃপক্ষের আপনার প্রতি ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে।

এ প্রসঙ্গে জনৈক পিএইচডি গবেষক বলেন

আমি কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে আবেদন করেছিলাম। প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠান থেকেই আমি ডাক পেয়েছিলাম, এর কারণ আমি আমার আগ্রহের বিষয়টাকে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, “যে বিষয়ে পিএইচডি করতে চান, সেটা যদি কর্তৃপক্ষের নিকট ভালোভাবে পরিস্কার না হয়, তাহলে তারা কীভাবে আপনাকে সিলেক্ট করবে? ”

তাহলে বুঝতে পারছেন, যে বিষয়ে পিএইচডি করতে আগ্রহী, সেই বিষয়টিকে এমনভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবেন, যাতে তারা বুঝতে পারে , আপনি সত্যিই এ বিষয়ে পিএইচডি করতে উৎসুক।

২. রিসার্চ প্রপোজাল তৈরিতে অধিক সময় ব্যয় করুন

কোন একটা গবেষণার প্রস্তাবনাই বলে দেয় ঐ গবেষণার গতিপথ কেমন হবে। রিসার্চ প্রপোজালে যদি কোনো ত্রুটি কর্তৃপক্ষ পায় তবে আপনার আবেদন বাতিল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিবে। তাই রিসার্চ প্রপোজাল তৈরির ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একটি রিসার্চ প্রপোজালে সাধারণত ভূমিকা, উদ্দেশ্য, গবেষণার যৌক্তিকতা, গবেষণা পদ্ধতি, গবেষণা কৌশল, সাহিত্য পর্যালোচনা, ফান্ডিং, সময়সীমা, ইত্যাদি বিষয়ের উল্লেখ থাকে।

এসব বিষয় নির্বাচন ও লেখার ক্ষেত্রে গভীর চিন্তা ভাবনা করুন। ততক্ষণ পর্যন্ত বারবার লিখুন আর পর্যালোচনা করে সংশোধন করুন, যতক্ষণ না মনে হয় আপনার রিসার্চ প্রপোজাল যথার্থ হয়েছে। এভাবে পর্যাপ্ত সময় ব্যয় করে আপনার রিসার্চ প্রপোজাল চূড়ান্ত করুন। কেননা আপনি পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন কি পাবেন না, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে আপনার রিসার্চ প্রপোজালের ওপর। একটি কার্যকর প্রস্তাবনা গবেষণার সুযোগ সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

৩. সুপারভাইজার নির্ধারণ

পিএইচডি গবেষণা করা হয় সাধারণত একজন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধায়নে। পিএইচডির জন্য যখন আবেদন করবেন, তখন আপনাকে উল্লেখ করে দিতে হবে কোন সুপারভাইজারের অধীনে আপনি গবেষণা করতে ইচ্ছুক। এই সুপারভাইজার নির্ধারণের ক্ষেত্রে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে, কোনোভাবেই যেনো আপনার আগ্রহের বিষয়ের সাথে সুপারভাইজারের দক্ষতা, গবেষণা আর পছন্দের বিষয়গুলোর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়। কারণ সব সুপারভাইজার সব বিষয় নিয়ে গবেষণা করাতে আগ্রহীও নন।

যে সুপারভাইজারের দক্ষতার সাথে আপনার আগ্রহের বিষয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে, আবেদনের সময় তার নামই উল্লেখ করুন। এতে আপনার আবেদন সিলেক্ট হওয়ার সম্ভবনা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। কোন সুপারভাইজার কোন বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী, তা জানার জন্য সুপারভাইজারদের গবেষণার বিষয়, তাদের প্রকাশিত বই, আর্টিকেল, গবেষণা রিপোর্ট ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে অধ্যয়ন করতে হবে। এতে আপনি সহজেই ধারণা পেয়ে যাবেন, কোন সুপারভাইজারকে আপনি বেছে নিতে পারেন।

৪. প্রাসঙ্গিক দক্ষতা ও যোগ্যতাকে তুলে ধরুন

আবেদন পত্রে আপনার পূর্ববর্তী ডিগ্রিগুলোর উল্লেখ করবেন। এছাড়াও আপনার যদি কোনো আর্টিকেল পাবলিশ হয়ে থাকে বা ইতিপূর্বে গবেষণা করার অভিজ্ঞতা থাকে, সেটাও উল্লেখ করে দিবেন। এতে তারা আপনার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। মনে রাখবেন, আপনার পিএইচডি গবেষণার বিষয় আর দক্ষতা ও যোগ্যতার বিষয় যেনো বিপরীতধর্মী না হয়।

আপনি যদি মানবিক বা সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন, তবে আপনার গবেষণার বিষয় হওয়া উচিত সমাজের নানা প্রাকটিক্যাল বিষয় । আর যদি বিজ্ঞানের স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন, তবে আপনার গবেষণার আগ্রহের জায়গা হওয়া উচিত ল্যাব ও থিওরি সংক্রান্ত বিষয়ে। তাই খেয়াল রাখবেন, আপনার পিএইচডির জন্য আগ্রহী বিষয়ের সাথে আপনার আপনার পূর্ববর্তী একাডমিক বিষয় যেনো সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় । যখন কর্তৃপক্ষ দেখবে, আপনার আগ্রহের বিষয় আর আপনার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা সাদৃশ্যপূর্ণ, তখন আপনার আবেদন গ্রহণে তারা আগ্রহ দেখাবে।

৫. ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন

পিএইচডি করার সুযোগ পেতে হলে আপনাকে ইন্টারভিউতেও ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।বর্তমানে টেলিফোন, স্কাইপ ও সরাসরি বিভিন্নভাবে সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কোনো সংকোচ বোধ না করে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে নেবেন, কীভাবে সাক্ষাৎকার নেয়া হবে। এছাড়াও জানার চেষ্টা করবেন, তাদের সাক্ষাৎকারের ধরন কেমন। এসব বিষয় জেনে নিজেকে সেভাবে সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুত করুন। ইন্টারভিউ বোর্ডকে যদি ইমপ্রেসড করতে পারেন, তাহলে নিশ্চয় আপনার আবেদন গ্রহণ করা হবে।

এই টিপসগুলো বিভিন্ন পিএইচডি গবেষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নির্দেশিকারই সারনির্যাস। এ তাই বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রেখে পিএইচডির জন্য আবেদন করতে হবে। তাহলেই আশা করা যায়, আপনার পিএইচডির আবেদন সফলতার মুখ দেখবে।

আরো পড়ুন