1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩১ অপরাহ্ন

পড়াশুনা করতে যাদের বিদেশ যাওয়ার ইচ্ছা তারা শেয়ার করে রাখতে পারো!

এক ছেলে গতকাল আমাকে টেক্সট করে লিখেছে

-স্যার, আমার সিজিপিএ খুব একটা ভালো না। এই বছরে’ই পড়াশুনা শেষ হবে। আমার খুব ইচ্ছে ছিল বিদেশে পড়তে যাবার। জিপিএ ভালো না হওয়াতে মনে হয়-বিদেশে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন আর পূরণ হবে না।

প্রতিদিন অনেক মেসেজ আমি ফেইসবুকে পাই। এর একটা বিশাল অংশ জানতে চায়- কিভাবে বিদেশে পড়তে যাওয়া যেতে পারে। জানতে চাওয়া মোটেই দোষের কিছু না। তাছাড়া আমি যেহেতু বিদেশে থাকি এবং বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই-তাই জানতে চাইতে’ই পারে।

তবে বলতে’ই হচ্ছে-আপনার যদি বিদেশে পড়াশুনা করার ইচ্ছে থাকে, তাহলে কারো কাছ থেকে জানতে চাওয়াটা স্রেফ বোকামি!

এর কারন হচ্ছে- আপনি যেই প্রশ্ন গুলো করছেন, এর উত্তর আমাকেও ইন্টারনেট ঘেঁটে’ই বের করতে হবে।

আমি নিজে ১৪ বছর আগে যখন পড়তে এসছি, তখন তো ইন্টারনেট দেশে সেই অর্থে ছিল’ই না। তখনও তো আমরা ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশে চলে এসছি পড়তে।

আর এখন তো ইন্টারনেট সবার হাতে হাতে!

এর আগে এই নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম। আজ আবার লেখা যাক। যাদের এই বিষয়ে তথ্য জানার আছে, তারা এই লেখাটা সংগ্রহে রাখতে পারেন কিংবা আপনাদের অন্যান্য বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গেও শেয়ার করতে পারেন।

বিদেশে পড়তে আসা খুব সহজ বিষয়।

ধরুন আপনি ছয় মাস কিংবা এক বছর পর বিদেশে পড়তে যেতে চাইছেন।

প্রথম স্টেপ হচ্ছে- আপনাকে প্রতিদিন বেশ কিছু সময় ইন্টারনেট ঘাটতে হবে। ইন্টারনেটে আপনি কি তথ্য জানতে চাইবেন?

শুরু করবেন গুগল সার্চ দিয়ে। ধরুন আপনি আমেরিকায় পড়তে যেতে চাইছেন কিংবা ইংল্যান্ড, সুইডেন বা জার্মানি।

এখন আপনার কাজ হচ্ছে গুগলে সার্চ দিয়ে এই সব দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ওয়েব সাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা।

জগতের সকল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ওয়েব সাইটে তাদের ভর্তি’র তথ্য দেয়া থাকে এবং আবেদন অন-লাইনে’ই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে করা যায়।

এখন আপনি যেই তথ্য গুলো নিবেন, সেটা হচ্ছে- ওই সব বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি হতে কিংবা স্কলারশিপ পেতে কি কি যোগ্যতা লাগে।

দেখবেন বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে আলাদা একটা সেকশন থাকে, যেখানে লেখা থাকবে- ইংলিশ রিকয়ারমেণ্ট। অর্থাৎ আপনাকে ইংলিশ টেস্ট স্কোর কতো পেতে হবে। এ ছাড়া আপনার সিপিজিপিএ কতো থাকা উচিত ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রে সিজিপিএ চায়ও না!

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়ত দেখবেন অনেক বেশি ইংলিশ টেস্ট স্কোর চাইছে, অনেক জায়গায় হয়ত আপনার যেই যোগ্যতা তাতেই হয়ে যাবে আবার এমন বিশ্ববিদ্যালয়ও পাওয়া যেতে পারে, যেখানে হয়ত টেস্ট না দিলেও চলছে!

এই তথ্য গুলো জানার জন্য আপনাকে যেটা করতে হবে- প্রতিদিন এভাবে দশ-পনেরটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট ঘাট’তে হবে।

এভাবে ওয়েব সাইট ঘাট’তে ঘাট’তে একটা সময় আপনি আবিষ্কার করবেন- আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী আসলে কোন কোন না কোন বিশ্ববিদ্যালয় আপনি আবেদন করতে পারবেন।

কিংবা ধরুন আপনার ভালো ইংলিশ টেস্ট স্কোর নেই, কিন্তু আপনি সেই বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে যেতে চাইছেন, যেখানে ভালো স্কোর চাইছে; তাহলে সেই অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করুন।

যখন আপনি দেখবেন ওদের ওয়েব সাইটে দেয়া যেই যেই যোগ্যতা গুলো দরকার সে গুলোর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে, তখন আপনি আবেদন করবেন। সেখানে দেখবেন দেয়া আছে আবেদন করার শেষ সময় কবে কিংবা ঠিক কবে থেকে আবেদন করা যাবে।

এইতো এভাবে অন লাইনে আবেদন করে ফেলবেন, সেই সঙ্গে আপনার সব সার্টিফিকেট গুলো আপলোড করে দিবেন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় হয়ত আপনাকে বলবে- কাগজ গুলোর হার্ড কপি পাঠাতে, সেই ক্ষেত্রে বাই-পোস্টে পাঠিয়ে দিবেন।

আর আপনি যদি স্কলারশিপের জন্যও আবেদন করতে চান, সেই ক্ষেত্রে ওরা হয়ত আলাদা একটা মটিভেশন লেটার চাইবে- ঠিক কেন আপনি মনে করছেন, আপনাকে স্কলারশিপ দেয়া উচিত ইত্যাদি। সেটাও লিখে পাঠিয়ে দিতে পারেন।

এরপর অপেক্ষার পালা। মাস খানেক বা মাস দুইয়েক পরে ওরা আপনাকে ই-মেইল করে জানাবে-আপনি কি এডমিশন পেয়েছেন কিনা।

এডমিশন যদি পান, তাহলে ওরা এডমিশন লেটার পাঠিয়ে দিবে। সেই সঙ্গে আপনাকে বলবে ভিসার আবেদন করতে। সেটাও ওরা আপনাকে মেইলে জানাবে!

ভিসা’র আবেদন করা’ও মোটেই কঠিন কিছু না। ধরুন আপনি সুইডেনের কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এডমিশন পেয়েছেন। এখন আপনাকে ভিসা কিংবা রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে।

যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি চান্স পেয়েছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে’ই দেখবেন আলাদা করে একটা লিঙ্ক দেয়া আছে, সেই দেশের মাইগ্রেসন বোর্ডের। তো সেখান থেকে আপনি জেনে নিতে পারবেন কিভাবে ভিসা’র জন্য আবেদন করতে হবে।

তাছাড়া আপনি বাংলাদেশের সুইডিশ এমব্যাসিতেও যোগাযোগ করতে পারেন। ওরা বসেই আছে-আপনাকে তথ্য দেয়ার জন্য। প্রতি সপ্তাহে আলাদা এক বা দুই দিন থাকে- যেখানে আপনি গিয়ে সব তথ্য জেনে আসতে পারবেন।

শুধু সুইডেন না, অন্য যে কোন দেশের দূতাবাসের ক্ষেত্রেই সেটা প্রযোজ্য। এমব্যাসি মানেই ভয়ের কিছু না! এরা বসেই আছে আপনাকে তথ্য দেয়ার জন্য কিংবা ভিসা দেয়ার জন্য। আপনাকে স্রেফ নিয়ম মেনে এগুতে হবে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনি যদি ছাত্র হিসেবে বিদেশে পড়তে যেতে চান- আপনার এডমিশন লেটার, যদি স্কলারশিপ পান- সেটার সিদ্ধান্ত আর একাডেমীক কাগজ পত্র। আর যদি স্কলারশিপ না পান, তাহলে টিউশন ফি পে করে থাকলে সেটার স্লিপ কিংবা কিভাবে ফি পে করবেন তার একটা ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হয়।

এইতো হয়ে গেল বিদেশে পড়তে যাওয়া।

এর জন্য তো আপনাকে অন্য কারো কাছে মেসেজ পাঠানোর দরকার নেই।

এইবার আসি- যেই ছেলেটা আমাকে জিজ্ঞেস করেছে তার সিজিপিএ কম- এখন কি সে বিদেশে পড়তে যেতে পারবে কিনা?

একটা কথা এখানে বলে রাখা ভালো- আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি স্কলারশিপ না নিয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়া একদম উচিত না, যদি না আপনি বিশাল ধনী পরিবারের সন্তান হয়ে থাকেন। নইলে দেখা যায় অনেক সময়’ই বিদেশে এসে আর পড়াশুনা হয় না- কাজে-কর্মে লেগে যেতে হয়।

তাই স্কালারশিপ পাবার চেষ্টা করতে হবে। আর সেই ক্ষেত্রে অতি অবশ্য’ই ভালো রেজাল্ট থাকা উচিত। তবে ভালো রেজাল্ট না থাকলেই যে স্কলারশিপ পাওয়া যায় না, ব্যাপারটা কিন্তু এমনও না। অনেক সময় আপনার মোটিভেশন লেটার কিংবা আপনার এপ্রোচের কারনেও হয়ে যেতে পারে। এছাড়া যেমন’টা বলছিলাম- যে যত বেশি ইন্টারনেট ঘাঁটবে এবং নানান বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে তথ্য নিবে, তার চান্স তত বেশি।

জগতে অনেক অনেক দেশ যেমন আছে, তেমনি হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ও আছে। আপনার কাজ হচ্ছে জাস্ট প্রতিদিন ইচ্ছে মত নানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা এবং কোন কিছু না বুঝলে তাদের’কে মেইল দিয়ে বসা।

আর যদি মনে করেন স্কলারশিপ ছাড়া’ই বিদেশে পড়তে আসবেন, তাহলে জগতে এমন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে টিউশন ফি দিতে পড়তে যাওয়া যায়। সেই ক্ষেত্রে চান্স পাওয়া খুব কঠিন কিছু হবার কথা না। ভর্তি হবার নিয়মটা সেই এক’ই।

সব শেষে একটা ব্যাপার বলি, এটা একান্ত’ই আমার নিজের ধারণা- আপনার রেজাল্ট কেমন, আপনার ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ টেস্ট স্কোর কেমন এর চাইতে’ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- আপনি কি পরিমাণ তথ্য ওয়েব সাইট ঘেঁটে জানছেন। ঘাটতে ঘাটতে হয়ত এমন একটা দেশ বা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়ে যাবেন- যেখানে সব কিছু মিলে যাচ্ছে!

আমার সব সময়’ই মনে হয়- আপনার যদি ইচ্ছে থাকে এবং ওয়েব সাইট ঘেঁটে ইংরেজিতে তথ্য সংগ্রহ করার এবং সেটা বুঝার সামর্থ্য থাকে, আপনি দিনশেষে বিদেশে পড়তে যেতে পারবেন’ই।

আর আপনার যদি ইন্টারনেট ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করার সামর্থ্য না থাকে, আপনি যদি এর-ওর কাছে জিজ্ঞেস করেন, তাহলে বুঝে নিতে হবে আপনার আসলে বিদেশে পড়ার সামর্থ্য নেই কিংবা শেষ পর্যন্ত বিদেশে চলে আসলেও আপনি পড়াশুনা শেষ করতে পারবেন না কিংবা ভালো কিছু করতে পারবেন না!

ইনফরমেশনের এই যুগে আপনার দরকার স্রেফ একটা কম্পিউটার কিংবা মোবাইল। সেটা হলে বাংলাদেশের অজ-পাড়াগাঁয়ে বসে থেকেও আপনি ইউরোপ-আমেরিকায় চলে আসতে পারবেন।

এর সব কিছুই নির্ভর করছে আপনি কি পরিমাণ সময় দিচ্ছেন তথ্য সংগ্রহ করতে এবং সংগ্রহীত তথ্য গুলো’কে আপনি কিভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। যারা ঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারে- তারাই দিন শেষে সফল হয়।

আপনাদের জানিয়ে রাখি, দেশে ভালো রেজাল্ট ধারী এমন অনেকে আছে যারা বছরের পর বছর চাইছে বিদেশে পড়তে যেতে, কিন্তু পারছে না। আবার খুব সাধারণ রেজাল্ট ধারী অনেকে’ই পাশ করেই বিদেশে পড়তে চলে আসছে। এর একটা’ই কারন, আর সেটা হচ্ছে- তারা জানে কিভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে হয় এবং সেটা কাজে লাগাতে হয়।

আমিনুল ইসলাম

আরো পড়ুন