1. powerofpeopleworld@gmail.com : jashim sarkar : jashim sarkar
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:০৯ অপরাহ্ন

বস ইজ অলওয়েজ রাইট, ১ ঘন্টা ব্রাউজিং ১০৫ টাকা কিভাবে সম্ভব!

বাংলামোটরের একটা সাইবার ক্যাফেতে ঢুকেই চোখ ছানাবড়া!! ১ ঘন্টা ব্রাউজিং ১০৫ টাকা।। মানে কি, এই ২০১৮ সালে ১ ঘন্টা ব্রাউজিং ১০৫ টাকা কিভাবে সম্ভব।।আমি সাইবার ক্যাফেতে ঢুকে থম ধরে দাঁড়িয়ে আছি।।

আমাকে সাইবার ক্যাফের দায়িত্বে থাকা এক ছোকরা বলে- ভাইজান, আপনে কি একা?আমি বললাম- হুম, একা!! কেন?

ছোকরা প্রায় ফিসফিসিয়ে বলে- না মানে, এইখানে একা আইসা নেট চালানো যাবে না, গার্লফ্রেন্ড লাগবে।।কি আজব!! একে তো ব্রাউজিং চার্জ ঘন্টায় ১০৫ টাকা দেখে মাথা ঘুরছে, আবার বলে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে আসা লাগবে।।

এইবার ক্যাফের ডানে বামে তাকালাম, দেখি পুরো সাইবার ক্যাফে ছোট ছোট বাথরুম সাইজ কাঠের খোপ খোপ।। আমার বুঝা হয়ে গেছে, কাহিনী কি- ঢাকা শহরে ১৫ বছর ধরে থাকি।। না বুঝার কিচ্ছু নাই!!

আসলে আমি আছি মহা বিপদে।। ঘন্টাখানেক আগে গুলিস্থান পাতাল মার্কেটে গিয়েছিলাম।। মোবাইলের ভাঙা ডিসপ্লে ঠিক করতে। মাত্র ৯০০ টাকায় ঠিক করাতে পেরে আমি মহা খুশি।। গুলিস্থান থেকে দিশারী বাসে মিরপুর ১ এ বাসায় দিকে যাচ্ছি।। হঠাৎ শাহাবাগ মোড়ে এসে আবিস্কার করলাম, পকেটে মোবাইল নাই।। অন্য পকেটে অফিসের বাটন ফোন অক্ষত অবস্থায় আছে।। হায়রে আমার কপাল!! চুরিটা ডিসপ্লে ঠিক করার আগে করলে কি হইতো- আমার বুঝা শেষ, আজ দিন ভয়ানক খারাপ যাবে।।

শাহবাগের সিগনালে বসেই সাত পাঁচ ভাবতেছি- মোবাইলে কি কি ছিলো, এই চিন্তায় মাথা নস্ট।। এমন সময় বাটন ফোন বেজে উঠলো, আমার অফিসের খারুজ বসের ফোন।। উনি আমাকে ইমিডিয়েট একটা মেইল করতে বললেন।। আমি বললাম- বস মোবাইল হারাই ফেলেছি এই মাত্র।। বস সেসব কথায় পাত্তা না দিয়ে বলে গেলে- কোন সাইবার ক্যাফেতে গিয়া ২৫ তারিখের ভাউচার দুইটা আবার মেইল করেন।।

আজব কারবার!! আজ ২৮ তারিখ, বস ব্যাটা একটু ৩ দিন আগের ইনবক্স দেখতে পারছে না।। কিন্তু কি আর বলবো, অই যে কথায় আছে না- বস ইজ অলওয়েজ রাইট।৷

বাস বাংলামোটর আসলে আমি নেমে যাই।৷ আগে বসকে মেইল করে, আবার বাসায় রওনা দিবো।। অনেক খুঁজে একে ওকে জিজ্ঞেস করে এই সাইবার ক্যাফেতে এলাম, কিন্তু অদ্ভুত এক শর্ত জিএফ ছাড়া নো ব্রাউজিং।।

আশে পাশে আর সাইবার ক্যাফে নাই, উপায় আন্ত না পেয়ে, বান্ধবী লিরা কে কল দিলাম।। লিরার বাসা হাতিরপুল, বাংলামোটরের কাছে।। লিরা আমার খুব কাছের বন্ধু, ফোন নাম্বার আমার মুখস্থ।। এই লিরা মেকাপ ছাড়া ন্যাচারাল সুন্দরী, তাই জরুরী দরকার বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলামোটর এসে হাসির।। এরমধ্যে অলওয়েজ রাইট আমাকে আরো একবার তাগাদা দিলো, দ্রুত মেইল করার জন্যে।।

লিরা আসার সাথে সাথে বললাম- দোস্ত তোর মোবাইলটা দে। লিরা বাটন ফোন বাড়াই দিলো, আমি বললাম- আরে বা****, এন্ড্রয়েড দে।। লিরা ঘামছে, নাকের উপর বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছতে মুছতে বললো- অইটা বাসায় চার্জে দিয়া আসছি, কেন কাহিনী কি?

আমি লিরাকে নিয়ে এবার সাইবার ক্যাফেতে গেলাম।। লিরাকে সব খুলে বললাম- বসকে মেইল করতে হবে আর সাইবার ক্যাফেতে একা ব্রাউজিং করা যাবে না!! লিরা আমার কথার আগামাথা কিছুই বুঝলো না, কিন্তু সে এটা বুঝেছে আমি ঝামেলায় আছি- তাই তালে তাল মিলাচ্ছে।।

লিরা ক্যাফের চারপাশে তাকাচ্ছে, ও কিঞ্চিত অবাক বোঝা যাচ্ছে।। আমি ওদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে ক্যাফের দায়িত্বে থাকা ছোকরাকে বললাম- অই ছেলে কত নাম্বার খোপে যাবো??

ছেলেটা আমরা আসার পর থেকেই অবাক হয়ে একবার লিরাকে দেখে, একবার আমাকে।। লিরার দিকে তাকিয়ে, আমাকে বললো- ভাই এইটা আপনার জিএফ? লিরা সম্ভবত অন্য ধ্যানে চিন্তামগ্ন, সে এটা শুনতে পায় নাই।। আমি বললাম- হুম!! কেন কোন সমস্যা।। ছেলেটা থতমত খেয়ে জবাব দিলো- না ভাই সমস্যা না, তয় এত জলদি কেম্নে জোগাড় করলেন- ঝাক্কাস একটা জিএফ আপনার।।

বলে ছেলেটা আমাকে প্রথম দিক থেকে ৩ নাম্বার খোপ নির্দেশ করলো।। আমি লিরাকে বললাম- চল অইটা খালি।।

খোপের ভিতরে আধা ঘন্টা ধরে বসে আছি, লজ্জায় বের হচ্ছি না।। লিরা আমাকে দুই তিনটা চড়-থাপ্পড় দিয়ে, বাজে গালি দিয়ে সেই কখন চলে গেছে।। আমি থাপ্পড় খেয়ে গালে হাত দিয়া বসে আছি।। বসের বাচ্চা অনবরত ফোন দিচ্ছে, আমার রিসিভ করার একবিন্দুও মুড নাই।।

রাগে খোপের ভিতরের টেবিল, চেয়ার ভেঙে ফেলতে মন চাচ্ছে।। কিন্তু, অবাক ব্যাপার- কম্পিউটার ভাঙতে মন চাচ্ছে না।। আসলে, যে জিনিস খোপে নাই, তা ভাঙতে চাওয়ার মত বোকা আমি না।।

ঢাকা শহরে ১৫ বছর ধরে থাকি- না বুঝার কিচ্ছু নাই!!

রাজভী রায়হান শোভন

আরো পড়ুন