1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশেই কম দামে মটর সাইকেল বিক্রি করবে হোন্ডা!

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা সেতু পার হয়ে একটু এগোতেই ডান পাশে চোখে পড়বে বিশাল বালুর মাঠ। দেয়াল ঘেরা এ মাঠের ভেতরে গেট দিয়ে ঢুকলেই দেখা যাবে বড় একটি স্থাপনা নির্মাণের কাজ করছেন কর্মীরা। অবকাঠামো নির্মাণ শেষে এখন সেখানে চলছে যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ। চলতি বছরে এখানেই তৈরি হবে জাপানের বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড হোন্ডা মোটরসাইকেল। এ সুযোগ তৈরি হয়েছে আব্দুল মোনেম গ্রুপ এখানে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজে হাত দেওয়ায়।

হোন্ডা ছাড়াও এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইজেড) জাপানের আরও দুই কোম্পানি সাকাতাইংস ও গুডফুডও বিনিয়োগ করবে। শিগগির সাকাতাইংস শিল্পের কালি তৈরির জন্য এবং গুডফুড প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য তৈরিতে কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করবে।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল নামের এ বেসরকারি ইজেড সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে একদিকে যেমন হোন্ডার কারখানা স্থাপনের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে, তেমনি আরও শিল্পপ্লট উন্নয়নের কাজ চলছে জোরেশোরে। ইতিমধ্যে সেখানে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন গ্যাস সংযোগের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। ইজেডের ডান পাশ ঘেঁষে নদীর তীরে জেটি স্থাপনেরও প্রস্তুতি চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী গত সপ্তাহে এ অঞ্চল পরিদর্শন করেন। তারা স্থানীয় জেলা, উপজেলা প্রশাসনসহ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তারা ইজেড উন্নয়নের নানা জটিলতা দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দেন। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান উদ্যোক্তা ও কর্মকর্তাদের দ্রুত জাপানসহ অন্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জমি বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব অঞ্চল গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন।

আব্দুল মোনেম ইজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইনুদ্দিন মোনেম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে পানির নিচে ডুবে থাকা অনাবাদি জমি ভরাট করে এ অঞ্চলের উন্নয়ন করা হচ্ছে। হোন্ডা কারখানা স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ করে আনা হয়েছে। আরও কয়েকটি কোম্পানি শিগগির কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করবে। তিনি বলেন, এখানে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার, স্যুয়ারেজ ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট করতে চীনসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পুরো অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হবে। এটি হবে পরিবেশবান্ধব মডেল ইজেড।

হোন্ডার কারখানা-সংশ্নিষ্টরা জানান, এখন এ ব্র্র্যান্ডের মোটরসাইকেল সংযোজনের কাজ হয় গাজীপুরে। বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ উদ্যোগে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড (বিএইচএল) মোটরসাইকেল তৈরির এ কারখানা করছে। হোন্ডা মোটর ও বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) যৌথভাবে ২৫ একর জমিতে ৩৫২ কোটি টাকা বিনিয়োগে গত বছরের নভেম্বরে কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়। যন্ত্রপাতি স্থাপন শেষে বছরের শেষ নাগাদ বছরে এখানে এক লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হবে। পাঁচ বছরে উৎপাদন ক্ষমতা তিন লাখে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি। বর্তমানে গাজীপুরে আট হাজার ৭০০ বর্গমিটারের এক কারখানায় বছরে এ ব্র্যান্ডের এক লাখ মোটরসাইকেল সংযোজন করা হচ্ছে।

বিএইচএলের হেড অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্শিয়াল শাহ্‌ মুহাম্মদ আশিকুর রহমান সমকালকে বলেন, কারখানায় উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতির কাজ

প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন উৎপাদনে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া গেলেই বাকি কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা হবে। তিনি বলেন, দেশে বাজার বাড়ানো গেলে এ কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা পুরোটা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। তার মতে, মোটরসাইকেলের ২২ শতাংশ নিবন্ধন ব্যয় কমানো সম্ভব হলে বাজার আরও বাড়বে। শতাধিক কর্মী এখন কাজ করছে। পরে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির কর্মসংস্থান হবে বলে জানান তিনি।

তথ্যসূত্রঃ সমকাল

আরো পড়ুন