1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন

বিদেশি ফল হলেও বর্তমানে বাংলাদেশে স্ট্রবেরি চাষ করে সফল হচ্ছে বেকার যু্বকেরা!

স্ট্রবেরি বিদেশি ফল হলেও বর্তমানে দেশে ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। দুর্লভ এই ফল সহজে হাতের নাগালে পাওয়ার কথা থাকলেও অবরোধ-হরতালে তা সাধারণ মানুষের হাতে সময়মতো পৌছাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন জমিতে নষ্ট হচ্ছে শত শত টন স্ট্রবেরি। অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

শীত প্রধান অঞ্চলে বার মাসই সুস্বাদু এই ফল জন্মে। একসময় অভিজাত এলাকা ছাড়া এই ফল তেমন একটা দেখা যেত না। দাম ছিল ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি। দশ বছর আগে আমাদের দেশে পরীক্ষামূলকভাবে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করা হয়। উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় নানা পরীক্ষা নীরিক্ষার পর বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হয় দু-তিন বছর আগ থেকে।

আবহাওয়ার কারণে আমাদের দেশে এই ফল উৎপাদন হয় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে। শুরুতে দাম ৩’শ টাকা কেজি থাকলেও তা নেমে এসেছে দেড়’শ টাকায়। খুচরা বিক্রি এত কমে নেমে যাওয়ায় পাইকাররা ১’শ থেকে ১১০টাকায় বিক্রি করছে বলে কৃষক পর্যায়ে আরো কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে স্ট্রবেরি। শুক্র ও শনিবার হরতাল না থাকায় এ দুদিন চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি স্ট্রবেরি ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। আর হরতালের মধ্যে ক্ষেত থেকে না তুলতে না পারায় অনেক স্ট্রবেরি ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। ক্ষেত থেকে উঠানোর দু-তিনদিনের মধ্যে এই ফল নষ্ট হয়ে যায়। সে কারণে, দ্রুত বাজারজাত করতে না পারায় স্ট্রবেরি চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের উপ-পরিচালক এম এ শুকুর বলেন, রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলের অন্তত একহাজার হেক্টর জমিতে এ বছর স্ট্রবেরি চাষ হয়েছে। ফলনও বেশ ভালো। তবে, হরতাল-অবরোধে কৃষকরা বিক্রি করতে পারছে না। সে কারণে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার টন স্ট্রবেরি।

তিনি বলেন, এখনও স্ট্রবেরি প্রক্রিয়াজাতকরণের কোনো উপকরণ আমরা উদ্ভাবন করতে পারিনি। সে কারণে তিনদিনের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সংরক্ষণের উপকরণ উদ্ভাবন হলে স্ট্রবেরির কদর আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সব ফলের বীজ ফলের ভেতরে হলেও স্ট্রবেরির বীজ হয় খোসার উপরে। দেখতে খুবই সুন্দর, সুগন্ধময় ও সুস্বাদু। সাদা সাদা ফুল আর টুকটুকে লাল স্ট্রবেরি দেখলে যে কারো জিভে পানি এসে যাবে। পাকলে অনেকটা লিচুর মত দেখায়। তবে , লিচুর মত খোসা ও বিচি নেই। নেই কোনো কাটা। খোসা না ছাড়িয়ে শাঁসের পুরোটাই খাওয়া যায়। স্বাদ মিষ্টি টক, নরম ও সুগন্ধীময়। একটা খেলে কয়েক ঘন্টা মুখে সুগন্ধ লেগে থাকে। একটি পাকা ফল পকেটে নিয়ে ঘুরলে তার মন মাতানো সুগন্ধে পাশের মানুষও বুঝতে পারে। শুধু যে সুগন্ধ তা নয়, এর আছে ভিটামিন এ এবং সি এর পুষ্টিগুন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মাহাবুবা মুনমুন বলেন, চারাগাছ কিনে এক বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করতে কৃষকের প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়। আবার সময় মতো বিক্রি না হলে তা নষ্ট হয়ে যায়। সে কারণে, দাম ও ফলন ভালো থাকাই অনেক কৃষক স্ট্রবেরি চাষের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে অনেক চাষীকে।

অবরোধ-হরতালেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন ৫ ট্রাক স্ট্রবেরি আসে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে। কয়েলি ও আড়তদারি দিয়ে ১১০ টাকায় প্রতিকেজি ভালো মানের স্ট্রবেরি পাইকারি বিক্রি হয়। একটু নষ্ট হলেই ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করতে চাইলেও কেউ কিনতে চায় না। আমাদের সময় ডটকমকে এভাবেই বলছিলেন কারওয়ান বাজারের আড়তদার মার্শেদ আলম।

খুচরা বিক্রেতা রুবেল বলেন, প্রতিদিন ২০ কেজি স্ট্রবেরি নিয়ে মিরপুর এলাকায় বিক্রি করি। লাভও ভালো হয়। তবে, এটি স্বল্পদিনের ব্যবসা। সারা বছর এই মাল পাওয়া গেলে ভালো হতো বলেও জানান তিনি।

আরেক বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, গেলবার স্ট্রবেরি বেশি বিক্রি হলেও হরতাল-অবরোধে এবার তেমন বিক্রি হয় না। ত্রিশ কেজি মাল আনলে বিক্রি করতে দুদিন সময় লাগে। তবে, মানুষ খুব আগ্রহ করে স্ট্রবেরি কেনে বলেও জানান তিনি।

আরো পড়ুন