1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

বিদ্যুৎ চুরির শাস্তি জেনে রাখুন!

বিদ্যুৎ যেকোন দেশের অত্যন্ত মূল্যবান একটি সম্পদ। তবে অনেক ব্যক্তিই ইচ্ছাকৃত বা অবহেলার কারণে এই মূল্যবান সম্পদটির ক্ষতিসাধন করে থাকেন। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ বা আইনের আওতায় আনতে তৈরি করা হয়েছে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত আইন। এই আইনের ধারা বিভিন্ন সময়ে পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে অপরাধী ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদান করা হয়। বিদ্যুৎ সংক্রান্ত এই আইনের বিভিন্ন

ধারা সম্পর্কে নিম্নে আলোকপাত করা হলোঃ

কোন ব্যক্তি বাসা বাড়ির জন্য বিদ্যুৎ চুরি করলে ৩ বছর এবং কেউ যদি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ চুরি করে তাহলে তাকে ৫ বছরের শাস্তি প্রদান করা হবে, এ সংক্রান্ত একটি বিদ্যুৎ বিল গতবছর ২০১৭ সালে জাতীয় সংসদে পাস হয়।

বিলের অপরাধ ও দন্ড অধ্যায়ে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি বাসগৃহ বা অন্য কোন স্থানে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ চুরি করে থাকলে তাকে অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড অথবা চুরিকৃত বিদ্যুতের মূল্যের দ্বিগুণ অথবা ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এছাড়া এ বিলে কোন শিল্প ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিদ্যুত চুরি করলে ৫ বছরের কারাদন্ড বা ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।

কোন ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বা স্থাপনার কোন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি অথবা বিদ্যুৎ লাইন সামগ্রী, যেমন- পোল, টাওয়ারের অংশ বিশেষ, কন্ডাক্টর, ট্রান্সফরমার, বৈদ্যুতিক তার, ইত্যাদি চুরি, অপসারণ, নষ্ট বা ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিসাধন করলে তা একটি অপরাধ বলে গণ্য করা হবে। তার জন্য তিনি অন্যূন ২ (দুই) বৎসর এবং অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড এবং অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার এবং অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এছাড়া অবৈধ ও ক্রটিযুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করাও একটি অপরাধ। কেউ সরবরাহ এলাকার বাইরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে অথবা যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করলে অথবা ক্রটিযুক্ত বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণকে অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

বিদ্যুৎ আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ হলেও দিনের ২৪ ঘণ্টার সবসময়ই আমাদের বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না। তবু অনেকসময় আমরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করি – এটাই মূলত বিদ্যুতের অপচয়। যেমন, প্রয়োজন শেষ হলেও আমরা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ করি না, যার ফলে বাড়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি, সৃষ্টি হয় লোডশেডিং এর।

এ সমস্যা উত্তরণে বাংলাদেশের আইন মোতাবেক, কোন ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে যদি বিদ্যুৎ অপচয় করে, তাহলে তাকে অন্যূন ১ (এক) বৎসর থেকে অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড বা ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। তাই আসুন আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হই। একটি সুন্দর বাংলাদেশ পেতে এখন থেকেই বিদ্যুৎ অপচয় ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যেকোন অপরাধ থেকে নিজেদের প্রতিহত করি।

আরো পড়ুন