1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

বিমানবন্দরে ব্যাগের তালা ভাঙ্গা পেলে কিংবা ব্যাগের মালামাল খোয়া গেলে কী করবেন !

বিদেশ ভ্রমণ ইদানিং কালে আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি হারে বেড়ে গিয়েছে, সেই সাথে নানান হয়রানি আর না জানার ফলে অনেকেই অনেক সমস্যায় পড়েন। এজন্য আমাদের সংশ্লিষ্ট এসব বিষয় সম্পর্কে জানা উচিত।

বিমানবন্দরে ব্যাগের তালা ভাঙ্গা পেলে কিংবা ব্যাগের মালামাল খোয়া গেলে কী করণীয়

আপনার টিকেটিং এর নিয়ম অনুযায়ী কোন কিছু হারানো গেলে চুরি হলে বা লাগেজ ড্যামেজ হলে আপনি অভিযোগ করতে পারবেন, সে অধিকার আপনার আছে।

মালামাল হারালে , লাগেজ ড্যামেজ হলে, বা চুরি হলে সেটা অবগত হওয়ার সাথে সাথেই আপনি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স অথবা হারানো প্রাপ্তি অভিযোগ কেন্দ্রে লিখিত ভাবে অভিযোগ জানাতে পারবেন, এবং তার ২১ দিনের মধ্যে আপনি একটা প্রতিকার পাবেন। সেক্ষেত্রে একটা ডকুমেন্ট থাকে লিখিত অভিযোগ থাকে, যেটা নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করা হয়। এবং আপনি যথাযথ একটা ক্ষতিপুরন পাবেন। এয়ারলাইন্স গুলোর সব কিছু ইন্স্যুরেন্স করা থাকে, তারা তখন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে রিপোর্ট জমা দেয়, সেই সাথে বিস্তারিত জানাতে হয় কিভাবে হয়েছে সভাবতই সব কিছু একটা তদন্তের আওতায় চলে আসে।

শুধু একটা ফরম ফিলাআপ করে আপনাকে রিপোর্ট করতে হবে সাথে কি কি জিনিস ছিল তার একটা লিস্ট।

এতে করে একটা সিস্টেম রান করে। দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত হয়। সিকিউরিটি সিস্টেম আপডেট হয়। একটা কার্যকর ব্যাবস্থা নেয়া হয়। উভয়পক্ষের ই লাভ। চুরির পরিমাণ ও আস্তে আস্তে কমবে।সাতদিনের মধ্যে লাগেজ না আসলে এয়ারলাইন্স ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে, এবং পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবে।এমন ও অভিজ্ঞতা দেখা গিয়েছে যে ২৫ দিন পরেও অভিযোগ করে একটা মিসিং ব্যাগ পাওয়া গিয়েছে।দরকার আমাদের সচেতনতার। আপনাকে রিপোর্ট করতে হবে। হাত গুটিয়ে বসে থাকলে দিন দিন এদের দৌরাত্য বাড়বেই আর আমাদের ও ভোগান্তি কমবে না।সাময়িক আটকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে : শুল্ক পরিশোধ করে খালাসযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে তাৎক্ষনিক শুল্ক পরিশোধ করার মত টাকা সাথে না থাকলেও ভয়ের কিছু নেই। সেক্ষেত্রে কাস্টমস তা সাময়িকভাবে আটক করবে।আপনাকে যে আটকের রশিদ (DM) দেয়া হবে সেটা রাখবেন। সাময়িকভাবে আটককৃত পণ্য ২১ দিনের মধ্যে যথাযথ শুল্ক পরিশোধ সাপেক্ষে ফেরত নিতে পারবেন।

বিদেশ থেকে কি কি জিনিস আনা যাবে ও এর শুল্কঃ

টিভিঃ

২৯” ইঞ্চি পর্যন্ত ফ্রি কোন শুল্ক দিতে হবে না।

৩০-৩৬ ইঞ্চি পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা।

৩৭-৪২ ইঞ্চি পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা।

৪৩-৪৬ ইঞ্চি পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা

৪৭-৫২ ইঞ্চি পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা

৫৩-৬৫ ইঞ্চি পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকা

স্বর্ণঃ

যদি অলঙ্কার আনেন সে ক্ষেত্রে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত ফ্রিতবে একক ভাবে ১০০ গ্রাম হতে পারবে না। ছোট ছোট আকারের হতে হবে।তবে একই আইটেম ১২ টার বেশি হতে পারবেনা।এর পরে আসবে প্রতি গ্রামে ১৫০০ টাকা ট্যাক্স।

স্বর্ণের বারঃ

টোটাল আনতে পারবেন ২৩৪ গ্রাম। ট্যাক্স দিয়ে। এখানে ভরি হিসেবে ধরা হয় প্রতি ভরি ৩০০০ টাকা করে।ট্যাক্স ১০০ গ্রামের বারে ২৫৭০০ টাকা ১১৭ (১০ ভরি) গ্রামের বারে ৩০০০০ টাকা।৪/৫ শ গ্রাম হয়ে গেলে পেনাল্টি ।গায়ে অলঙ্কার থাকলে সে ক্ষেত্রেও ১০০ গ্রাম।এখন একটা ব্যাপার যদি আপনি বাংলাদেশ থেকে যাবার সময় নিয়ে গেছেন এখন কেন সে গুলো ধরা হবে। এ থেকে বাঁচার উপায় হল দেশ থেকে যাবার সময় ই কাস্টমসে গিয়ে এসব সোনাদানা গহনা পাসপোর্টে এন্ট্রি করে নিয়ে যাবেন। তাহলে ফেরার পথে দেশে আসতে আর এ গুলো কাউন্ট করা হবে না।

তবে একটা ওয়েতে আনতে পারবেন কিছুটা বেশিযেমন ১০০ গ্রাম গায়ে পরে অলঙ্কার আর ট্যাক্স দিয়ে ২৩৪ গ্রাম সর্বমোট ৩৩৪ গ্রাম আনা যাবে বৈধ ভাবে।

মোবাইলঃ

২ টা মোবাইল আনতে পারবেন।এর বাইরে ১-৬ টা পর্যন্ত ট্যাক্স+প্যানাল্টি৩১% ট্যাক্স এবং ট্যাক্সের ৮৩% জরিমানা দিতে হবে।

ল্যাপটপঃ আপনার ব্যবহারের টা বাদে ১ টা নতুন ল্যাপটপ আনতে পারবেন। ১ টার বেশি ২ টা হলেই মোবাইলের মতই ট্যাক্স+প্যানাল্টি

ডি এস এল আরঃ প্রতি পিস ১৫০০০ টাকা।এ ক্ষেত্রে যদি আপনি দেশ থেকে ক্যামেরা নিয়ে যান সেটা অবশ্যই পাসপোর্টে এন্ট্রি করে নিয়ে যাবেন। ফরেন কারেন্সিঃ যত খুশি আনতে পারবেন। কোন ট্যাক্স নেই। তবে ৫০০০ ডলার বা এর সমপরিমাণ পর্যন্ত কাস্টমসে ডিক্লেয়ার করতে হবে না। এর উপরে হলে ডিক্লেয়ার করা উচিত। জাস্ট জানানো যে আপনি এই পরিমাণ ফরেন কারেন্সি নিয়ে এসেছেন।ডিক্লেয়ার করলে আপনি যে সুবিধা পাবেন যে ইনভেস্ট করলে কোন রিটার্ন বা ট্যাক্স দিতে হবে না। কারণ রেমিটেন্সের উপর কোন ট্যাক্স নেই। বাংলাদেশী টাকাঃ যাওয়া আসা উভয় ক্ষেত্রেই ১০,০০০ টাকা

ফ্রি যা যা আনতে পারবেনঃ

১।পার্সোনাল কম্পিউটার ,

২।ইউ পি এস, স্ক্যানার, ফ্যাক্স,

৩।ভিডিও ক্যামেরা,

৪।ডিজিটাল ক্যামেরা,

৫।যে কোন ধরনের ওভেন, জুসার, ব্লেন্ডার , স্যান্ডউইচ মেকার,

৬।চারটা স্পীকার সহ মিউজিক সিস্টেম (এর উপরে হলে ৮০০০ টাকা ট্যাক্স)।

৭।সেলাই মেশিন

৮।রাইস কুকার/ প্রেসার কুকার

৯।সিগারেট ২০০ শলাকা/ ১ কার্টন(দেশ থেকে যাবার সময় ২/৩ কার্টন ও নেয়া যায়)

এবার আসুন কি কি ধরনের সমস্যা হয়।

• লাগেজ কাটা পাওয়া যায়।

• লাগেজ ভাঙ্গা পাওয়া যায়।

• লাগেজের মধ্যে থেকে টাকা হারিয়ে যায়।

• লাগেজের মধ্যে জিনিস পত্র ভেঙ্গে যায়।

• দলিলপত্র বা বই মিসিং

এগুলোই মূলত সবচেয়ে বেশি সমস্যা।

এবার আসুন কেন হয় এসব সমস্যাঃ

১; আমরা অনেক সময় লাগেজের সাইজ যা থাকে তার থেকে কম জিনিস নিয়ে থাকি, যাহেতু লাগেজ গুলো এয়ারক্রাফটের কার্গোতে একাটার উপর আরেকটা রাখা হয় তাই এটাতে খালি যায়গা থাকলে স্বভাবতই তা চাপ খায় এবং তা বেশ ভাল ভাবেই। এজন্য লাগেজ ভেঙ্গে যায়। এবং ভেতরের জিনিস ও তাই ভাঙ্গে যেতে পারে।

করণীয়ঃ আপনার মালপত্রের পরিমাণ বুঝে লাগেজ কিনুন। কোনরকম দায়সারা লাগেজ না কিনে একটু ভাল শক্তপোক্ত লাগেজ ব্যবহার করুন। ভেঙ্গে যাবে বা সম্ভাবনা আছে ভাঙ্গার এমন কোন জিনিস চেক ইন লাগেজ এ দিবেন না।

২; লাগেজ কাটা ভেতরের সব আছে কিন্তু টাকাটা মিসিং, এই সমস্যাটা মূলত বেশি হয় ট্রানজিট প্যাসেঞ্জার দের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে যারা অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড যান তাদের বেলায়। এদের ট্রানজিট থাকে মূলত কুয়ালালামপুর নইলে ব্যাংকক এ। এর প্রধান কারণ হচ্ছে এসব এয়ারপোর্টে যারা গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং কাজ করে তারা বেশিরভাগ ই আমাদের সাউথ এশিয়ার মানুষ।

করণীয়ঃ লাগেজে কখনোই টাকা রাখবেন না, এই চুরিটা হয় মূলত আপনার লাগেজের উপর যে ছোট্ট আরেক পাতলা পকেট থাকে সেটার চেইন খুলে ভেতর টা কেটে নেয়, তারপর হাত দিয়ে খোঁজে কোথায় টাকার খাম আছে। আপনি খুব সহজেই পাসপোর্টে ৫০০০ ডলার পর্যন্ত এন্ডোরস করে নিয়ে হাত ব্যাগে করে নিয়ে যেতে পারছেন।

৩; দলিল দস্তাবেজ বা পুরনো/নতুন বই অনেক সময় আপনি গন্তব্যে পৌঁছে দেখেন যে লাগেজে নেই। এটা হয় কারণ এগুলো অনেক সময় রাষ্ট্রীয় ব্যাপারের বা অনেক গোপন কোন কিছুর সাথে যোগাযোগ থাকতে পারে এই আশংকায়। অনেক এয়ারপোর্ট আপনার এ গুলো রেখে দেয় সেটা আপনার অজান্তেই হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তারা ছোট্ট একটা নোটিশ আপনার লাগেজে রেখে দিবে। যাতে আপনি জানতে পারেন কি হয়েছে। এটা এয়ারপোর্ট অথোরিটি ই করে থাকে।

করণীয়ঃ দলিল দস্তাবেজ এছাড়া আরও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হ্যান্ড লাগেজে রাখুন।

সো আমাদের অবশ্যই করণীয় যে

• কখনোই কোন মূল্যবান জিনিস চেকইন লাগেজ এ রাখা যাবেনা।

• ভেঙ্গে যাবে এমন কিছু রাখবেন না।

• তরল জাতীয় কোন কিছু থাকলে সেটা ভালমত মুখ আটকিয়ে স্কচটেপ দিয়ে ভালভাবে মুড়িয়ে নেবেন।

• ফ্রোজেন খাবারের ক্ষেত্রে প্রথমে বক্স লাগিয়ে নিউজপেপার দিয়ে মুড়িয়ে তারপর পলিথিনে তারপর স্কচটেপ লাগিয়ে দেবেন।

• দলিল পত্র সার্টিফিকেট টাকা পয়সা এগুলো হ্যান্ড লাগেজে রাখবেন।

• ডি এস এল আর/ গহনা এছাড়া কোন অতি মূল্যবান বস্তু আগেই এয়ারপোর্ট কাস্টমস থেকে পাসপোর্টে এন্ট্রি করে নিয়ে যাবেন।

• লাগেজ র‍্যাপিং করে নিয়ে যাবেন এতে যথেষ্ট সুরক্ষিত থাকবে, পরিষ্কার থাকবে ও নিরাপত্তা বাড়বে।

আরো পড়ুন