1. powerofpeopleworld@gmail.com : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. jashim_1980@hotmail.com : mohammad uddin : mohammad uddin
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন

”বিশ্বের সেরা ৫০০ ইউনিভার্সিটির মধ্যে বাংলাদেশের কোন ইউনিভার্সিটির নাম নেই’ !

কি হচ্ছে বুয়েট,কুয়েট,চুয়েট,রুয়েট,ডুয়েট,ঢাবি, রাবি,শাবি,জাবি আর ইবি গুলোতে। এবারের তালিকায় মালোয়েশিয়ার আছে,ব্রাজিলের আছে,আর্জেন্টিনার মত গরিব দেশ আছে,কোরিয়ার আছে,তুরস্কের আছে, ভারতের আছে এমনকি পাকিস্তানেরও একাধিক ইউনিভার্সিটি এই তালিকায় আছে।

আসুন এবার কারনগুলো দেখি। এ ব্যাপারে একজন স্যারের লেখা পড়লাম। নোবেল বিজয়ী ‘মালালা ইউসুফ জাঈ’আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিলেন।ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ বলেছে তাকে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই উত্তীর্ন হতে হবে,নোবেল কোটা কোন কাজে আসবে না।

এখন আমাদের দেশের কথা চিন্তা করুন।উপজাতি কোটা,খেলোয়াড় কোটা,মুক্তিযোদ্ধা কোটা,পোষ্য কোটা, নারী কোটা।আমি এমনও জানি,এক মেয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেও,শুধুমাত্র টিচারের মেয়ে হওয়ায় সে এখন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ে!লেখক বলেন: বিদেশের ইউনিভার্সিটি গুলোর লাইব্রেরীতে গেলে মনে হয় এটা কোন গুরুস্তান,পিনপতন নীরবতায় সবাই যার যার পড়াশোনা করছে।

আর আমাদের দেশের ইউনিভার্সিটি গুলোর লাইব্রেরী তো একেকটা’ক্যাফেটেরিয়া’। বাদাম বিক্রি থেকে আাইসক্রিমের ব্যবসাও লাইব্রেরীতে চলে।রাত দশটার পর কেন হলের বাইরে থাকতে পারবে না,এর প্রতিবাদে আমাদের মেয়েরা মিছিল করে।(সম্ভবত রাত দশটার পর তারা বাইরে গিয়ে গ্রুপ স্টাডি করতে চায়)।

ভার্সিটি কর্তৃপক্ষের এরকম অমানবিক সিদ্ধান্তের আমিও নিন্দা জানাই।আমাদের সোনার ছেলেরা ভার্সিটির পবিত্র জমিনে দাড়িয়ে দাড়িয়ে প্রশ্রাব করা,মদের বোতল আর গাঁজার পুটলি কিংবা তাবলা আর ঢোল নিয়ে গাছ তলায় বা বট তলায় টাইমপাস করাকে ভার্সিটি কালচার বুজেন ।মাথায় টুপি আর গায়ে বোরকা দেখলেই সোনার ছেলেদের গাঁয় জ্বালা পোড়া করে।

শিক্ষক পেটানো আর প্রতিপক্ষ পটানো যেন ভার্সিটি গুলোর দৈনন্দিন রুটিন ওয়ার্কে পরিনত হচ্ছে।এবার আসি উচ্চশিক্ষায় গবেষণা প্রসঙ্গে।বিদেশের ইউনিভার্সিটি গুলোতে গবেষণা খাতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়।আর আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলোতে এ খাতে কোন বরাদ্দ নেই।বলবেন,আমরা গরীব রাষ্ট্র? না জনাব।

কোটি টাকা খরচ করে জাতীয় সংগীত গাওয়া যায়।। ( যেখানে দেশাত্মবোধ মুখ্য নয়,উদ্দেশ্য গিনেস বুকে নাম তোলা),লাখ লাখ টাকা খরচ করে আলপনা (রোড পেইন্টিং) আঁকার মতো কাজ করা যায়, সাকিব আল হাসানদের কোটি টাকা দেওয়া যায়,কিন্তু উচ্চশিক্ষায় গবেষনা কাজে টাকা নেই।

ইউনিভার্সিটিকে এগিয়ে নিতে হলে,দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ইউনিভার্সিটির রিসার্চের বিকল্প নেই।শিক্ষকদের অবস্থা দেখুন। ফাইভ পাশ করা কাউকে যদি প্রাইমারী স্কুলের টিচার বানানো হয় কিংবা এসএসসি পাশ করার পরদিনই যদি কাউকে হাইস্কুলের টিচার বানিয়ে দেওয়া হয়,অবস্থা কেমন হবে? বর্তমানে অনার্স শেষ করতেই অনেকে ইউনিভার্সিটির টিচার হয়ে পড়েন।

না আছে কোন মৌলিক গবেষনাগ্রন্থ,বিশেষ প্রবন্ধ,না আছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন! আর ব্যাক্তিত্বহীনতা তো আছেই। এরা স্টুডেন্টদের কী শিখাবেন? আর যারাঅপেক্ষাকৃত ভালো তারা বিদেশ চলে যান। সিএনজি ড্রাইভারের মত বেতনে কে চাকরি করতে চায়?

বছরে কয়েকবার শিরোনামহীন,জেমস,আইয়ুব বাচ্চুকে এনে কনসার্ট করানো যায় (ভার্সিটি কর্তৃপক্ষের অনুদান থাকে),কিন্তু বিদেশের বিখ্যাত কোন প্রফেসর/বিজ্ঞানী/গবেষক এনে বক্তৃতা দেওয়ানো যায় না! স্টুডেন্টরা শিখবে কীভাবে? যেমন কর্তৃপক্ষ,তেমন স্টুডেন্ট!

সবচেয়ে বড় কথা হলো এ নিয়ে কারো মাথাব্যাথা নেই।শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় কিংবা শিক্ষাবিদরা এ নিয়ে চিন্তাই করেন না। দরিদ্র রাষ্ট্র হওয়ার পরও বুয়েন্স আয়ার্স কিংবা কায়েদে আজম ইউনিভার্সিটি পারলে আমরাপারবো না কেন? এটা “ধর তক্তা,মার পেরেক” টাইপের কিছু না।

প্রয়োজন ৫০/১০০ বছর মেয়াদী মাস্টার প্লান। ভুলে গেলে চলবে না,একটা দেশের উন্নতি জাতীয় সংগীত গাওয়া, ক্রিকেট খেলা কিংবা সুন্দরবনকে ভোট দেওয়ার উপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে সে দেশের শিক্ষার উপর।

আরো পড়ুন