1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

বৈদ্যুতিক সার্কিট কি ও বিস্তারিত আলোচনা!

বৈদ্যুতিক বিভিন্ন সংযোগের ক্ষেত্রে আমাদের তৈরি করতে হয় বৈদ্যুতিক সার্কিট!আর এটি দ্ধারা আমরা ব্যাবহার করি বাল্প, ফ্যান, মোটর এবং আরো ইলেকট্রিক্যালের কতো কি!ইলেকট্রিক্যালের কাজের ক্ষেত্রে এই সার্কিট সম্পর্কে আমদের জানাটা অব্যশক। এখন আমি এই সার্কিট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। আশাকরি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার এই আর্টিকেলটি ভালবাবে পরবেন। তাহলেই বৈদ্যুতিক সার্কিট সম্পর্কে মোটামুটি ভাল একটা ধারনা পাবেন।

বৈদ্যুতিক সার্কিট কী

বিদ্যুৎ কোনো উৎস হতে শুরু করে লোডের মধ্যে দিয়ে চলাচল করে এবং পুনরায় ফিরে আসাকে বিদ্যুতিক সার্কিট বলে। এটি কে আমরা সংক্ষেপেও আরো সহজ করে এক কথায় বলতে পারি যেমন বিদ্যুৎ চলাচলে একটি সম্পূর্ণ পথকে বৈদ্যুতিক সার্কিট বলে।

একটি সম্পূর্ণ সার্কিটের উপাদানসমূহ

একটি সম্পূর্ণ সার্কিটের উপাদান সাধারনত ৫ টি যেমন :-

(১) ভোল্টেজ উৎস : ব্যাটারি , বা জেনারেটর।

(২) রক্ষণ যন্ত্র : ফিউজ, সার্কিট ব্রেকার, ওভারলোড রিলে।

(৩) নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র : সুইচ।

(৪) বৈদ্যুতিক লোড : হিটার, বাতি, পাখা ইত্যাদি।

(৫) পরিবাহীর তার : ফ্লেক্সিবেল Cable, PVC Cable, VIR Cable।

বৈদ্যুতিক সার্কিটের প্রকারভেদ

বৈদ্যুতিক সার্কিট সাধারনত তিন প্রকার যেমন

সিরিজ সার্কিট

প্যারালাল সার্কিট

মিশ্র সার্কিট

এখন আমরা জানব কোন সার্কিট কি কাজ করে থাকে এবং কেন বা কোন কাজে ব্যবহার করা হয়।

সিরিজ সার্কিট

যে সংযোগে দুই বা ততোধিক রেজিস্ট্যান্স একটার পর একটা সংযোগ করা হয় এবং কারেন্ট চলাচলের একটি মাত্র পথ থাকে তাকে সিরিজ সংযোগ বলে। এরূপ সংযোগ যুদি কোনো বর্তনীতে ব্যবহার করা হয় তবে তাকে সিরিজ সার্কিট বা সিরিজ বর্তনী বা সমবেত বর্তনী বা শ্রেণী সমবায় বর্তনী বলে।

সিরিজ সার্কিটের বৈশিষ্ট্য

এ সার্কিট প্রতেক্য রেজিস্টর বা পরিবাহীতে বিদ্যুৎ সব জাগায় সমান থাকে ( I = I1 = I2 = I3) এবং বিদ্যুৎ চলার একটি পথ থাকে। সিরিজ সার্কিটে রেজিস্ট্যান্স ( Rt = Rs) হবে প্রতেক্য আলাদা মানের মোট রেজিস্ট্যান্সের সম্মিলিত যোগফলের সমান, Rt = Rs = (R1 + R2 + R3 +….Rn) লোডের রেজিস্ট্যান্সের মানের উপর নির্ভর করে প্রত্যেক লোডের মধ্যে ভোল্টেজ বিভক্ত হয়ে যায়। প্রত্যেক লোডের আলাদা ভোল্টেজ ড্রপগুলোর যোগফল সাপ্লাই ভোল্টেজের সমান। অর্থাৎ V= ( V1 + V2 +V3 +….+Vn

সিরিজ সার্কিটের ব্যবহার

সিরিজ সার্কিট বিভিন্ন আলোক সজ্জায় ব্যাবহার করা হয়।

ভোল্টমিটারের সাথে মালটিপ্লায়ার হিসেবে সিরিজসিরিজ সার্কিট ব্যাবহার করা হয়।

বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর প্রভৃতি কয়েলসমূহে সিরিজ সংযোগ ব্যবহার করা হয়।

টর্চলাইট রেডিও, গাড়ি ইত্যাদির ব্যটারিতে কারেন্ট নিয়ন্ত্রণের জন্য সিরিজ সার্কিট ব্যবহার করা হয়।

প্যারালাল সার্কিট

যুদি একাদিক রেজিস্ট্যান্সের প্রতিটির এক প্রান্ত একটি সাধারন বিন্দুতে এবং অন্য প্রান্তগুলো অন্য একটি সাধারন বিন্দুতে সংযোগ করা হয়, যাতে কারেন্ট চলাচলের একাধিক পথ থাকে তাকে প্যারালাল সংযোগ বলে। এরুপ সংযোগ যদি কোনো বর্তনীতে ব্যবহার করা হয় তবে তাকে প্যারালাল সার্কিট বা প্যারালাল বর্তনী বা সমান্তরাল সার্কিট বলে।

আরো পড়ুন : রেজিস্টর কি ( Resistor) রেজিস্টরের কাজসহ সকল কথা

প্যারালাল সার্কিটের বৈশিষ্ট্যসমূহ

কারেন্ট : প্যারালাল সার্কিটের মোট কারেন্ট ভিন্ন ভিন্ন রেজিস্ট্যান্স দিয়ে প্রবাহিত কারেন্টের মানের ফলাফল সমান। অর্থাৎ ( Is=I1 + I2 + I3+……………………+In)

রেজিস্ট্যান্স : প্যারালাল সার্কিটের মোট সমতুল্য রেজিস্ট্যান্সের বিপরীত মান প্রত্যেকটি ভিন্ন ভিন্ন রেজিস্ট্যান্সের বিপরীত মানের যোগফলের সমান।

ভোল্টেজ : প্রত্যেক রেজিস্ট্যান্সের দু’ প্রান্তে যে ভোল্টেজ পাওয়া যায় তা ভোল্টেজের সমান। অর্থাৎ ( Vs = V1 = V2 = V3 = …………….. =Vn)

প্যারালাল সার্কিটের ব্যবহার

একাধিক বাতিতে আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্যারালাল সার্কিট ব্যবহার করা হয়।

সাধারনত আবাসিক এলাকা, অফিস-আদালত, কল-কারখানা , রাস্তার লাইট ও খেলার মাঠ আলোকিত করার জন্য প্যারালাল সার্কিট ব্যবহৃত করা হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ভিতরণ ব্যবস্থায় প্যারালাল সার্কিট ব্যবহার করা হয়

মিশ্র সার্কিট

যদি কতগুলো রেজিস্ট্যান্স সিরিজে এবং কতোগুলো রেজিস্ট্যান্স প্যারালালে সংযোগ করা হয় তবে তাকে সিরিজ – প্যারালাল সংযোগ বা মিশ্র সংযোগ বলে। এরূপ সংযোগ যদি কোনো বর্তনীতে ব্যবহার করা হয় তবে তাকে সিরিজ – প্যারালাল সার্কিট বা মিশ্র সার্কিট বা জটিল সার্কিট বলে।

ব্যবহার ও বৈশিষ্ট্যসমূহ

সিরিজ + প্যারালাল = মিশ্র সার্কিট! যেহেতু এ দুটি অংশ মিলে রূপান্তিত হয়েছে মিশ্র সার্কিট। তাই ব্যবহার ও বৈশিষ্ট্যসমূহ [সিরিজ – প্যারালাল ] দুটি অনুসরন করলেই হবে।

কিছু কথা !

আমরা বিদ্যুতিক অনেক কাজের ক্ষেত্রে এই সার্কিটগুলো প্রায় ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আমরা অনেকেই শুধু ব্যবহারিক কাজগুলা দেখে আমরা আবার অনেকে ব্যবহার করি। কিন্তু পুরোটা সার্কিট সম্পর্কিত কেমন। এটা কেমন কতোটুকু কাজ করবে সেটা আমরা অনেকেই জানি না। আজকে আমি আর্টিকেলে মোটামুটি একটা আপনাদের মোটামুটি ধারনা দিতে পেরেছি। আজকে আমার এই আর্টিকেল ছিল সিরিজ সার্কিট, প্যারালাল সার্কিট, মিশ্র সার্কিট, নিয়ে।

এখানে আমি বৈদ্যুতিক সার্কিট কি এবং প্রতিটি সার্কিটের বৈশিষ্ট্য গুলো আমি তুলে ধরেছি। আমার মনে হয় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পরলে আপনারা সহযেই এই বৈদ্যুতিক সার্কিট সম্পর্কে বুজতে পারবেন।

আরো পড়ুন