1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন

ব্যবসার জন্য বাংলাদেশের মত এত অল্প জায়গাতে এত বড় মার্কেট বিশ্বের কোথাও নেই!

উদ্দ্যোক্তা হওয়ার জন্য তরুন কিংবা বৃদ্ধ, কোনো বয়সই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। যখনই আপনি যুগোপযোগী উদ্যোগ নিতে পারবেন, তখনই আপনি উদ্দ্যোক্তা হতে পারবেন। আপনি যদি ৬০ বছর বয়সে কোনো ব্যবসা শুরু করেন, তখনও আপনি তরুন উদ্দ্যোক্তাই হচ্ছেন। কেননা ওই ব্যবসাটা আপনার মধ্যে তারুন্য জাগিয়েছে। সুতরাং তরুন হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সের দরকার হয় না।

তরুন হিসেবে যাদের বয়স ৪০ এর নিচে, তাদের উদ্দেশ্যে আমার বলা হচ্ছে, তারা চাকরি কিংবা ভালো স্যালারি পাওয়ার আশায় বিদেশে পাড়ি না জমিয়ে, দেশেই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তরুনদের মধ্যে প্রায়ই হতাশা দেখা যায়। আমার মনে হয় তাদের মানসিকতাকে এভাবে সাজানো উচিত যে, তারা চাকরি করবে না বরং চাকরি দিবে। যদি রিস্ক বা ঝুঁকি বহন করার ক্ষমতা তাদের থাকে, তাহলে তাদের ব্যবসার দিকে পা বাড়ানো উচিত। কেননা এটা তাদেরকে স্বাধিনতা দিবে এবং ভবিষতের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে।

আবার সবাই যে ব্যবসা করবে, বিষয়টা এমনও নয়। কেননা কিছু মানুষকে চাকরিও করতে হবে। তদের উদ্দেশ্যে আমার বলা, যারা বড় একটা স্যালারিতে চাকরি করবে বলে মন স্থির করে রয়েছেন, তারা যদি তাদের কাঙ্খিত অফার না পায়, তাহলে ছোট স্যালারিতে কোথাও কাজ শুরু করা উচিত। এমনকি বিনা বেতনে হলেও কোথাও না কোথাও কাজটা শুরু করা উচিৎ। কেননা তারা যদি শুরু না করে, তাহলে অভিজ্ঞতা তৈরি হবে না। আর তারা তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতেও নানাভাবে বাধাগ্রস্থ হবে।

সুতরাং প্রাথমিক পর্যায়ে স্যালারিটা মুখ্য বিষয় না, ভালোভাবে কাজের উপর দক্ষ হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। তরুনদের ব্যবসা করার ব্যাপারে আমি সব সময় উৎসাহ দিয়ে থাকি। চাকরির ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেকটা কম হলেও আমি তরুনদেরকে ব্যবসায় আমন্ত্রণ জানাই। যদিও এখানে ঝুঁকি অনেকটা বেশী, তবুও এখান থেকে সাফল্য অর্জনের সুযোগটাও অনেক বেশী। এক্ষেত্রে তরুনদেরকে বুঝতে হবে যে, তারা ঝুঁকি নিতে পারবে কি না? আর তাদের নতুন কোনো উদ্যোগ আছে কি না?

কেননা তারা যদি ট্রাডিশনাল ব্যবসা নিয়ে মার্কেটে আসে, তাহলে তারা ভালো লাভ করতে পারবে না। কারণ, যারা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করছে, তাদের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করতে হলে, আরও ভালো উদ্যোগ নিয়ে মার্কেটে আসতে হবে। অন্যথায় তারা যদি অভিজ্ঞদের মত একই ধরণের পলিসি নিয়ে মার্কেটে আসে, তাহলে তাদের লসের সম্মুখিন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

আমাদের দেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে একটা বড় প্রবলেম হচ্ছে যে, এখানে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগীতা বিরাজ করছে। আমরা আমাদের ইন্ডাসট্রিজ সাইজ ক্যালকুলেশন করি না। আমাদের ভোক্তাদের কতটুকু চাহিদা আছে, সেই অনুযায়ি ক্যালকুলেশন করে এখানে কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়া হয় না। অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রে ভোক্তাদের চাহিদা যদি ৫০ শতাংশ হয়ে থাকে, তবে তার বিপরীতে শতভাগ কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় আমাদের সরকারের কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে।

উদ্যোক্তাদের জন্য আমি বলবো, বাংলাদেশে ব্যবসা করার জন্য তাদেরকে মোস্ট ওয়েলকাম। বাংলাদেশের মত এত অল্প জায়গাতে এত বড় মার্কেট বিশ্বের কোথাও নেই। ইউরোপের ১৫-২০টি দেশ মিলেও আমাদের দেশের মত এত ভোক্তা বা মানুষ নেই। সুতারং আমদের দেশের এই বিপুল জনসংখ্যাকে কেন্দ্র করে এখানে ব্যবসা করার অনেক বড় সুযোগ রয়েছে। তবে অবশ্যই ব্যবসা করার জন্য নতুন কিছু পলিসি নিয়ে মার্কেটে আসতে হবে। নতুবা এখান থেকে লাভবান হওয়া কষ্টকর হয়ে দাড়াবে।

তরুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা নিয়ে প্রাথমিক গবেষণার দায়িত্ব অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষনা দিতে হবে। কিন্তু, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা নেই বললেই চলে। একজন উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে গবেষণা করা অনেকটাই অসম্ভব। কেননা, গবেষণা প্রক্রিয়ায় অনেক খরচ হয়ে থাকে। যা বহন করতে গেলে হয়তো তার পক্ষে ব্যবসা করাই সম্ভব হবে না। তা সত্তেও নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে মার্কেটের অবস্থার বিচার করা যেতে পারে।

আমরা ব্যবসায়ীরা আসলে নিজেদেরকে কখনোই সফল বলতে পারি না। কেননা, আমরা যদি নিজেদেরকের সফল বলি, তাহলে আমাদের গতিপথ সেখানেই থেমে গেলো। তবুও যতটুকু অর্জন করতে পেরেছি, তা আর্জনের পেছনে ছিলো নানা প্রতিবন্ধকতা। ব্যবসার ক্ষেত্রে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জটা ছিলো অবকাঠামো। অর্থাৎ যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, গ্যাস প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিদ্যুতের সমস্যাটা এখন অনেকটা দূর হলেও গ্যাসের সমস্যাটা পুরোপুরি এখনও দূর হয় নি। অনেক ফ্যাক্টারিতে কানেকশন থাকা সত্যেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

এরপর আছে সরকারের ডকুমেন্ট সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঝামেলা। একটা নতুন প্রতিষ্ঠান গড়তে গেলে ১৫-২০টি কাগজপত্র বিভিন্ন দফতর থেকে কালেকশন করতে হয়। ডকুমেন্ট সংগ্রহের এই প্রয়োজনীয়তাকে আমরা কখনো অগ্রাহ্য করি না, তবে সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে কিছুটা সহজীকরণ করা দরকার বলে মনে করি। অর্থাৎ ওয়ান স্টপ সার্ভিস হওয়া উচিত। মনে করেন, আমি ট্রেড লাইসেন্স যেখান থেকে করাবো, সেখান থেকেই ভ্যাটের কাগজ, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর, পরিবেশ অধিদপ্তরের কাগজসহ সব কাগজপত্র পেলে কাজটা আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে। এই জায়গাগুলোতে এখনও আমাদের অনেক সমস্যা আছে।

ডুয়িং বিজনেসে ১৯০টি দেশের মধ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ ১৬৮তম হয়েছে। এটা নিয়ে মিডিয়া ও দেশের লোকজনকে উল্লাস করতে দেখেছি। এখানে কথা হলো যে, ১৯০ টি দেশের মধ্যে ১৬৮ তম হওয়া কিন্তু খুশির কথা না। কেননা, ক্লাসে ১০জন স্টুডেন্টের মধ্যে ৯ম অথবা ৮ম হওয়াটা কোনো খুশির বিষয় হতে পারে না। সুতারং ডুয়িং বিজনেসে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি।

আমরা এই ধাপে ৫০ এর মধ্যে উন্নিত হওয়ার আশা করি। কিন্তু আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যেও সেখানে পৌঁছাতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এই ধাপে ৫০ এর মধ্যে না আসতে পারলে দেশে ফরেন ইনভেস্টরদের ভিড়ানো এবং নিজেদের বিজনেস টিকিয়ে রাখাটা অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © 2021 power of people bd
Theme Developed BY Desig Host BD