1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন

ব্যবস্থাপনার যে ৭টি ভুলে সেরা কর্মীদের হারায় প্রতিষ্ঠান!

চারপাশে অসংখ্য চাকরি প্রার্থীর ভীড়! নতুন কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে বায়োডাটা জমা দেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়, অথচ দিন শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো নাকি কাঙ্ক্ষিত দক্ষ কর্মী খুঁজে পায় না। আবার যে দু-একজন দক্ষ কর্মী আছে তাদের নাকি ধরে রাখা যায় না।

কোনো কোনো ব্যবস্থাপক অভিযোগ করে থাকেন, ভালো কর্মীরা এ কোম্পানি থেকে ও কোম্পানিতে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে যায়, প্রতিষ্ঠানের কথা চিন্তা না করে তারা কেবল নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। যেসব ব্যবস্থাপক এমন মন্তব্য করেন, তারা একবার নিজেদের ভুলগুলো খোঁজার চেষ্টা করেন না। তারা একবারও ভেবে দেখেন না ভালো কর্মীরা কেন প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যায়?

কেননা, ভালো কর্মী হতে হলে তাকে নিশ্চয় কাজে মনোযোগী এবং যত্নশীল হতে হয়। আর যত্নশীল কর্মীরা কাজকে ভালোবাসেন। ‍সুতরাং কাজ ভালোবাসা মানুষ বারবার তার কাজ এবং প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে চান না।

তাহলে ভাল কর্মীরা চাকরি ছাড়েন কেন? এর জন্য অনেকাংশে দায়ী দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব। চলুন জেনে নেই আরও কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার ত্রুটি যার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হারায়!

০১. অতিরিক্ত কাজের চাপ

কোম্পানিতে যে কর্মী যত নিবেদিত ব্যবস্থাপকও তার প্রতি তত বেশি নির্ভরশীল। ব্যবস্থাপক চায় তার কাজ যেন যথাযথ ও সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়। আর তাই বড় বড় কাজের চাপ সবসময় সেই নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর কাঁধেই বর্তায়। ব্যবস্থাপক একজন দক্ষ কর্মীর হাতে কাজ দিয়ে সবসময় নিশ্চিন্ত থাকতে চায়। কিন্তু তিনি একবারও ভাবেন না, যাকে এত কাজের চাপ দেওয়া হচ্ছে তার পক্ষে নির্দিষ্ট সময়ে এই সব কাজ করা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলস্বরূপ, তিনি সব কাজ করতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠেন। এতে তার কাজের মান খারাপ হতে থাকে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা মতে, সপ্তাহে ৫০ ঘন্টার বেশি কাজ কর্মীর উৎপাদনশীলতা হ্রাস করে। আর এই সাপ্তাহিক শ্রম যদি ৫৫ ঘন্টা অতিক্রম করে তবে উৎপাদনশীলতা এমন ভাবে হ্রাস পায় যে সেই কর্মীর কাছ থেকে আর নতুন কিছু আশা করা যায় না। সুতরাং কাজের প্রতি আন্তরিক কর্মীকে দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দূর করতে হবে।

০২. যথাযথ সম্মান ও সম্মানী

ভালো কর্মীর উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ দিলে যেমন উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়, তেমনি তাকে যদি যথাযথ সম্মানী ও পদমর্যদা না দেওয়া হয় তাহলেও তিনি শেষ পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন। দক্ষ কর্মীকে দিয়ে সেরা কাজটা করাতে হলে তাকে উপযুক্ত পদমর্যাদা ও যথাযথ সম্মানী দিতে হবে। না হলে অসময়ে সেরা কর্মীকে হারাতে হবে।

০৩. খেয়াল রাখা

ভালো কর্মীদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার একটি বড় কারণ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কর্মীদের দূরত্ব ও ভালো সম্পর্ক গড়ে না ওঠা। ব্যবস্থাপক ও তার কাছাকাছি ঊর্ধ্বতন কর্তাদের পেশাদার হওয়ার পাশাপাশি আরও বেশি মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন হওয়া উচিত। তাতে কর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা ভাল কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা বাড়িয়ে দেয় ও কাজের প্রতি মনোযোগী করে তোলে। এর উল্টো ঘটলে একজন ভালো কর্মী প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দিতে পারেন।

০৪. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

প্রশংসা এক মহা অস্ত্রের নাম যা দিয়ে খুব কঠিন মনের মানুষকেও নরম করা যায়। কাজেই নিজ কোম্পানির কর্মীদের প্রশংসা করা থেকে কেন বিরত থাকবেন? অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলেও তার সাফল্যে শুভেচ্ছা জানানো ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। কেননা এটা তার প্রাপ্য। আবার কোনো কোনো কর্মী মনে মনে আশা করতেই পারেন ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নিশ্চয় পুরস্কৃত হওয়ার যোগ্য। সুতরাং ভালো কর্মীদের কাজের সাফল্যে প্রসংশা ও পুরস্কৃত করা উচিত। তা না হলে নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের মনে ভেঙ্গে পড়তে পারে।

০৫. মতামতের মূল্যায়ন

দক্ষ, প্রতিভাবান ও নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের মতামতের শতভাগ মূল্যায়ন করা উচত। কেননা তারা কোনো প্রস্তাব করলে তা ভেবে চিন্তেই করেন। সুতরাং দক্ষ কর্মীদের নতুন ভাবনা ও কাজের মূল্যায়ন করা উচিত, যাতে প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ হয়। অন্যথায়, অবমূল্যায়ন দক্ষ কর্মীদের আত্মসম্মানে আঘাত হানে যা চাকরি ছেড়ে দেওয়ার অন্যতম কারন।

০৬. ভুল ব্যক্তিকে পদোন্নতি

দক্ষ কর্মীরা সারা দিন গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন। সুতরাং পদোন্নতি তাদেরই প্রাপ্য। ব্যবস্থাপক যদি স্বজনপ্রীতি বা বিশেষ পক্ষপাতের কারণে ভুল মানুষকে পদোন্নতি দেন, তাহলে দক্ষ কর্মীদের মন ভেঙ্গে পড়ে এবং তারা চাকরি ছেড়ে দেন। সুতরাং ভুল মানুষকে নয়, নিবেদিত প্রাণ কর্মীদেরই সুযোগ দেওয়া উচিত।

০৭. সৃজনশীলতার অবমূল্যায়ন

দক্ষ কর্মীরা সবসময় সৃজনশীল হয়। তারা নতুন নতুন পদ্ধতি ও সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়। ব্যবস্থাপনার ভুলে যদি তারা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় তবে তারা কাজের প্রতি ভালবাসা হারিয়ে ফেলে এবং নিজে ভুল জায়গার কাজ করছে বলে ভাবতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত তারা চাকরি ছেড়ে দেয়।

একজন ব্যবস্থাপককে হতে হবে প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক। ঠিক যেমন পরিবারগুলোতে যত কঠিন সময়ই যাক না কেন, অভিভাবকের সুনজর ও ভালোবাসা কারো প্রতি কম থাকে না, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের দৃষ্টিভঙ্গিও তেমন হওয়া উচিত। তাহলে কর্মী চলে যাওয়ার বদলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বেড়ে যাবে বহুগুণ।

আরো পড়ুন