1. powerofpeopleworld@gmail.com : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. jashim_1980@hotmail.com : mohammad uddin : mohammad uddin
শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ১২:৫০ অপরাহ্ন

ভেজাল দুধ চিনবেন কিভাবে?

দুধ আমাদের জীবনে একটা অত্যন্ত জরুরি খাদ্য। দুধের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। দুধে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি উপাদান। এতে সম্পৃক্ত স্নেহ পদার্থ, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘সি’ থাকে। বাংলাদেশে দুধ উৎপাদন চাহিদার ৩০% দুধ উৎপাদন হয়। ৭০ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। এর জন্য সরকার প্রতিবছর চার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়োদুধ আমদানি করে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় অধিক লাভের আশায় দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে ভেজালের কারবার। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসে বিভিন্ন ভাবে ভেজালের ব্যবহার এখন প্রতিদিনের ব্যাপার। দুধে ভেজাল দেবার জন্য জল, স্টার্চ, ইউরিয়া, ডিটারজেন্টের গুঁড়ো ইত্যাদি মেশানোর কথা তো হরদমই শোনা যায়। ভেজালের বাজারে দুধের মতো অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবারও বাদ যাচ্ছে না।

সম্প্রতি প্লাস্টিকের দুধ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়া বা সংবাদ মাধ্যমগুলির মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে প্রবাহিত হয়েছিল সেই আতঙ্ক। কিন্তু কী ভাবে চিনবেন ভেজাল দুধ? তেমন কোনও উপায় আছে কি? উপায় আছে। জেনে নিন ভেজাল দুধ চেনার সহজ উপায়-

জল মেশানো আছে কি

দুধে ভেজাল দেবার সবথেকে সহজ উপায় হল দুধে জল মেশানো। চকচকে ঢালু জায়গায় এক ফোঁটা দুধ ফেলে দেখুন। যদি দুধের ফোঁটাটি আস্তে আস্তে গড়াতে থাকে, এবং পেছনে একটি সাদা রেখা তৈরি করে, তাহলে বুঝবেন দুধে জল মেশানো নেই, অর্থাৎ দুধ খাঁটি। অন্যদিকে যদি দেখেন যে দুধের ফোঁটাটি কোনো রেখা ছাড়াই ঢালু জায়গা দিয়ে তাড়াতাড়ি গড়াতে শুরু করল, তাহলে বুঝবেন সেই দুধে জল মেশানো আছে।

ডিটারজেন্ট মেশানো হয় আজকাল

দুধে ডিটারজেন্ট পাওডার মেশানোর খবর আমরা মাঝেমাঝেই টিভিতে পেয়ে থাকি। দুধে ডিটারজেন্ট আছে কিনা তা জানার জন্য দুধের পাত্র থেকে ৫-১০ মিলি দুধ ও সমপরিমাণ জল নিয়ে ভালো করে ঝাঁকান। যদি ফেনা তৈরি হয়, তাহলে বুঝবেন দুধে ডিটারজেন্টের গুঁড়ো মেশানো আছে।

স্টার্চও মেশানো হয়

দুধে ভেজাল দেবার জন্য অনেকসময় স্টার্চও মেশানো হয়। দুধে স্টার্চ মেশানো আছে কিনা তা জানার জন্য সামান্য পরিমাণ আয়োডিনের দ্রবণ দুধের মধ্যে ফেলে দিন। বা আপনি এই পরীক্ষাটি করার জন্য দুধে নুনও মেশাতে পারেন। কারণ নুনেও আয়োডিন থাকে। আয়োডিন স্টার্চের সাথে বিক্রিয়া করে নীল রঙের হয়ে যায়। তাই নুন বা আয়োডিনের দ্রবণ মেশানোর পর দুধ যদি নীল হয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন সেই দুধে স্টার্চ মেশানো আছে।

ইউরিয়া মেশানো থাকে অনেক সময়

দুধে ভেজাল দেবার একটা সহজ উপায় হল ইউরিয়া মেশানো। অন্যান্য জিনিস দিয়ে দুধে ভেজাল দেয়া হলে দুধের রঙ বা স্বাদ খুব সামান্য হলেও পালটে যায়। কিন্তু ইউরিয়া মেশালে দুধের স্বাদ বা রঙ কোনটারই তফাৎ বোঝা যায় না। এছাড়া ইউরিয়া মেশানো দুধ পরীক্ষা করে দেখাও একটু কঠিন। দুধে ইউরিয়া মেশানো আছে কিনা দেখার জন্য হাফ চামচ দুধ একটি টেস্টটিউবে নিন। এবার ওতে এক চামচ সয়াবিন বা অড়হর ডালের গুঁড়ো মেশান ও মিশ্রণটিকে ভালো করে ঝাঁকান। ৫ মিনিট মিশ্রণটি রাখার পর ওতে এবার একটি লাল লিটমাস কাগজ ফেলুন। লিটমাস কাগজের রঙ যদি লাল থেকে নীল হয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন যে দুধে ইউরিয়া মেশানো আছে।

দুধে ভেজাল হিসেবে ফরমালিন, ডালডা বা বনস্পতি মেশানো হয়

এছাড়াও দুধে ভেজাল হিসেবে ফরমালিন, ডালডা বা বনস্পতি ইত্যাদিও মেশানো হয়ে থাকে। তবে ওগুলি চেনার জন্য পরীক্ষা আমাদের বাড়িতে বসে না করাই ভালো। কারণ ওই পরীক্ষাগুলি করার জন্য সালফিউরিক অ্যাসিড ও নানারকম জিনিসের দরকার হয়। তবুও চাইলে পরীক্ষা করতে পারেন তাতে কিছু দুধ নিয়ে তার মধ্যে সালফিউরিক অ্যাসিড মিশিয়ে দেখুন। যদি, নীল রং দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে ফরমালিন মেশানো রয়েছে দুধে।

তাছাড়া আপনি যদি ভেজাল বা ‘সিনথেটিক’ দুধ সহজে চিনতে চান, তাহলে দুধের গন্ধ ভালো করে শুঁকে দেখে নিন। সিনথেটিক দুধে নানারকম রাসায়নিক জিনিস মেশানো থাকে, ফলে খাঁটি দুধের সাথে ওর ফারাক গন্ধেই খানিক বোঝা যায়। খাঁটি দুধ খেতেও মিষ্টি হয়। অন্যদিকে ভেজাল দুধ যদি খেয়ে দেখেন, তাহলে আপনি সামান্য তেঁতো স্বাদ পাবেন।

তাহলে আজ আপনি চিনে নিলেন ভেজাল দুধ চেনার সহজ কয়েকটি উপায়। এবার থেকে দুধ ভেজাল কিনা তা পরীক্ষা করে দেখে নিন। সুস্থ্য থাকুন, খাঁটি দুধ পান করুন।

আরো পড়ুন