1. powerofpeopleworld@gmail.com : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. jashim_1980@hotmail.com : mohammad uddin : mohammad uddin
শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ১২:০৩ অপরাহ্ন

মানুষের ত্বকে শ্বেতী হয় কিন্তু কেন হয় ? বাচার উপায় কি !

শ্বেতী একটি চর্মরোগ। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ভিটিলিগো বলে। এই রোগের কারণ সুনির্দিষ্টভাবে এখনো জানা যায়নি।শ্বেতী রোগের সমস্যা অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এ সমস্যায় ত্বকের রং অনেক বেশি সাদা হয়ে যায়। কেন শ্বেতী হয়, এ বিষয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা.আহাম্মদ আলী। তিনি কর্মজীবনে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

একজন মানুষের ত্বকে শ্বেতী হয় কেন?

আসলে মানুষের রোগ তো সৃষ্টিকর্তা তৈরি করে দেন, কার কী রকম হবে। একেকজনের ত্বকের রং একেক রকম হয়, জেনেটিক (জিনগত) ধাঁচ একেকজনের একেক রকম হয়। তবে রোগের পর্যায়ে পড়ে তখন, যখন হঠাৎ করে অস্বাভাবিক কিছু হয়। যে রকম রং-ই থাকুক না কেন, হঠাৎ করে একটি নির্দিষ্ট জায়গা অন্য রকম হয়ে যায়। তখন দেখতে একটু দৃষ্টিকটু লাগে। এই জন্যই আসে। শ্বেতী নামটি আসলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষা নয়। আমরা একে ভিটিলিগো বলি। সাধারণ প্রচলিত ভাষায় একে শ্বেতী বলে। অনেকে আগে শ্বেতকুষ্ঠ বলত। এটিকে আমরা জোরালোভাবে আপত্তি করি। তো, এগুলো বলা ঠিক নয়। এর কারণ আসলে পুরোপুরি জানা যায়নি।

তবে আমাদের ত্বকের ভেতর যে মেলানিন উৎপন্ন হয়, সেটি যে কোষ থেকে উৎপন্ন হয়, সেটি নষ্ট হয়ে যায়। এটিই সমস্যা। এর কারণে ওই জায়গাটুকুর রং চলে যায়। তো, রং চলে গেলে স্বাভাবিকভাবে জায়গাটি সাদা হয়ে যাবে। কালচে থেকে আরো সাদার দিকে যাবে। এটি কেন হয়, তার নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। এটি যেকোনো বয়সে হতে পারে। যেকোনো সময় হতে পারে। কোনো সময় নেই, ইঙ্গিত নেই, কিছু নেই। এটি পুরোপুরি ভাগ্য। ছেলেমেয়ে উভয়ের, যেকোনো মানুষের শরীরের যেকোনো জায়গায় হতে পারে।

শ্বেতী রোগীর সন্তানদের মধ্যে কি শ্বেতী হতে পারে?

আসলে একটি বিষয় আছে, এ রোগ যেকোনো সময় হতে পারে। তবে যদি পিতামাতার থাকে, তাহলে সন্তানের হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একে জেনেটিক (জিনগত) বিষয় বলা যায়। আসলে পিতামাতার যেকোনো রোগই সন্তানের হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তবে সেটি এমন নয় যে হবেই। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে দেখেন, পিতামাতার কারো থাকলে সন্তানের হওয়ার আশঙ্কা একটু বেশি থাকে। অন্যান্য রোগ থাকলেও সেটি বেশি হচ্ছে। পিতামাতার মাধ্যমেই যেহেতু হয়, কাজেই পিতামাতার সব রোগই বাচ্চাদের হওয়ার ক্ষেত্রে একটু বেশি থাকে। তবে হবেই এমন কোনো কথা নেই।

শ্বেতী রোগ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। যেকোনো বয়সে, শরীরের যেকোনো জায়গায় এই রোগ হতে পারে। শ্বেতী রোগ কমাতে বিভিন্ন চিকিৎসা রয়েছে। তবে শ্বেতী কি সম্পূর্ণ ভালো হয়?

ভিটিলিগোর বা শ্বেতীর চিকিৎসা করে স্বাভাবিক ত্বক আনা কি সম্ভব?

আপনারা কিন্তু শরীরের রং একটু পরিবর্তন হলেই মনে করবেন না শ্বেতী হয়ে গেছে। কারণ, ত্বকের কয়েক হাজার রোগ রয়েছে। সব রোগেই হয় একটু বেশি কালো হয় বা একটু বেশি সাদা হয়। তাই রং পরিবর্তন হলে সেটি শ্বেতী, তা নয়। অনেক রকম রোগ রয়েছে, যেগুলোর চিকিৎসা করলে ভালো হয়ে যায়।

তবে শ্বেতী রোগ হয়েছে, এ বিষয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে নিশ্চিত হতে হবে। এরপর চিকিৎসা শুরু করতে হবে। চিকিৎসা যে নেই, সেটি কিন্তু নয়। চিকিৎসা রয়েছে।

অনেক রকম চিকিৎসা রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের রয়েছে। চিকিৎসক নির্ণয় করবেন কোন ধরনের চিকিৎসা তাঁকে করবেন। বিভিন্ন ধরনের মলম দেওয়া থেকে শুরু করে অনেক জাতীয় চিকিৎসা রয়েছে। কপাল ভালো থাকলে অনেকে ভালো হয়। ভালো হয় না, সেটি নয়। তবে বেশিরভাগ রোগী ভালো হয় না। এটাও সত্যি। একে মেনে নিতে হবে।

শ্বেতী এক ধরনের জটিল চর্মরোগ। এটি কখনো কখনো সম্পূর্ণ নিরাময় করা যায়, আবার কখনো যায় না। তবে এটি কমিয়ে রাখতে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক চিকিৎসা প্রচলিত রয়েছে।

সাধারণত শ্বেতী রোগে কোন পর্যায়ে কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়?

একটি বিষয় বলে রাখি। প্রথম দিকে রোগী এলে কিন্তু ফলটা ভালো হয়। তবে যাঁরা অনেক বেশি হওয়ার পর আসেন, তাঁদের বেলায় ফল তেমন ভালো হয় না। আবার আরেকটি জিনিস আমি দেখেছি, ছোটবেলায় যাঁদের হয়, তাঁদের বেলায় বড় হতে হতে ভালো হয়ে যায়। তবে যাঁদের একটু বয়স্ক বয়সে শুরু হয়, তাঁদের বেলায় তুলনামূলকভাবে ফল অতটা ভালো হয় না।

প্রাথমিকভাবে আমরা বিভিন্ন ক্রিম দিয়ে, সহজ ওষুধ দিয়ে, কিছু খাওয়ার উপকারী ওষুধ রয়েছে, সেগুলো দিয়ে চেষ্টা করি। সার্জারি বা রে এগুলো খুব কম ক্ষেত্রে লাগে। অল্প কিছু রোগীর জন্য এগুলো প্রয়োজন হয়। তবে রোগী ভালো হবে, কোনো ওষুধের ক্ষেত্রেই ১০০ ভাগ নিশ্চিত হয়ে কথাটি বলা যায় না। আবার ওষুধ বা চিকিৎসা একেবারেই কাজ করবে না, বিষয়টি এমন নয়।

শ্বেতী একধরনের চর্মরোগ। চিকিৎসা করালে কারো কারো ক্ষেত্রে এই রোগ ভালো হয়ে যায়, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে ভালো হয় না। এই রোগের অনেক আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি এখন চালু রয়েছে আমাদের দেশে। এর মধ্যে লেজার একটি। আর লেজার এখন আধুনিক চিকিৎসার অন্যতম একটি মাধ্যম। তবে শ্বেতী রোগের চিকিৎসায় লেজার কতটা কার্যকর বা সব শ্বেতী রোগীর বেলায় কি লেজার কার্যকর?

শ্বেতী রোগের চিকিৎসায় লেজারের ভূমিকা কতখানি?

সব শ্বেতী রোগীর ক্ষেত্রে লেজার দিয়ে চিকিৎসা কার্যকরী নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর। তবে চিকিৎসক যদি মনে করেন তাহলে এটি দেওয়া যেতে পারে। তবে সবার বেলায় কার্যকরী হয় না। তাই এটি নিতে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে নিন।

শ্বেতী রোগ নিয়ে সমাজে কিছু ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকে ভাবেন, এটি ছোঁয়াচে রোগ। অনেক রোগীকেই এ কারণে প্রায় সামাজিক প্রতিবন্ধীর জীবন যাপন করতে হয়। এরা সামাজিকভাবে অনেকটা একঘরেই হয়ে পড়েন। ছেলেমেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই সমস্যাটি কখনো কখনো প্রকোট হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় বিয়ের বেলায় এসব রোগীদের বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তবে শ্বেতী কি আসলে কোনো ছোঁয়াচে রোগ? না কি এটি কেবলই একটি ভ্রান্ত ধারণা?

শ্বেতী রোগ কি ছোঁয়াচে?

শ্বেতী রোগ ছোঁয়াচে নয়। এটি একেবারেই অমূলক ও ভুল ধারণা। আমি সবাইকে অনুরোধ করছি এই ধরনের ধারণা থেকে মুক্ত হোন। কারণ, আমরা বিনা কারণে কিছু লোকের প্রতি অবিচার করছি। তাদের সামাজিক প্রতিবন্ধী বানিয়ে ফেলছি ভুলের কারণে। একজন শ্বেতী রোগী সারাদিন যদি কারো সংস্পর্শে থাকে তাহলেও অপরজনের শ্বেতী হতে পারবে না। এটি যার যার ত্বকের ভেতরের সমস্যা। তার ত্বকের সমস্যা তারই। কোষ মরে গেছে, রং চলে গেছে। কাজেই এই ভুল ধারণা ভাঙা উচিত। ছোঁয়াচের ভয়ে অনেকে দূরে চলে যায়। এটি ঠিক নয়।

শ্বেতী চামড়ার এক ধরনের জটিল রোগ। এই রোগে ত্বকের রং পরিবর্তন হয়ে অনেক সাদা হয়ে পড়ে। তবে ত্বকের রং পরিবর্তন ছাড়া এই রোগে কি অন্য কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়?

একজন মানুষের শ্বেতী হলে সে সামাজিকভাবে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। বিশেষ করে আমাদের সমাজের মেয়েদের এটি বেশি হয়। বিয়েশাদি সব বিষয়ে আলাদাভাবে দেখা হয়। তবে এটি আসলে কি কোনো রোগ? এটি তার কোনো শারীরিক ক্ষতি করতে পারে কি?

একে যদি আমি রোগ না বলি, তা-ও ভুল হবে না। আমি নিজে দেখেছি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেকেই এর চিকিৎসাও করে না। এটি একমাত্র রোগ, যেটি নিজের বা অন্যের কোনো ক্ষতি করে না। শুধু বাহ্যিকভাবে দেখার পরিবর্তন হয়। আমাদের দেশে সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতে এটিকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিয়েশাদি অন্যান্য ব্যাপারে খুবই সমস্যা হয়। অনেকের ধারণা, বংশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এটি একেবারে ভুল ধারণা। আমাদের একটি কুসংস্কারের কারণে এই রোগীগুলো কষ্ট করছে। আমি জনগণের প্রতি অনুরোধ করব, এই ভুল ধারণাগুলো ভাঙুন। একটি জায়গার রং চলে গেছে, আমার চোখে দেখতে হয়তো খারাপ লাগছে, এর বেশি কিছু নয় এই রোগ। কোনো চুলকানি নেই, জ্বালাপোড়া নেই, কষ্ট নেই।

এটি নিজেরও ক্ষতি করে না। অন্যেরও ক্ষতি করে না। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে, বিয়েশাদি করতে, বাচ্চা নিতে, অন্য আট-দশজনের মতো চলাফেরা করতে কোনো সমস্যা হয় না।

আরো পড়ুন