1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

মোটর মেকানিক থেকে উদ্ভাবক আবিষ্কার-পাগল মিজান!

মিজান মিস্ত্রি নামে পরিচিত মিজানুর রহমান মিজান। বুদ্ধিমত্তা ও নিত্যনতুন আইডিয়ার কারণে উদ্ভাবকের তকমা জুটেছে তার কপালে। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে ইতোমধ্যে দেশসেরা উদ্ভাবকসহ জিতে নিয়েছেন ২৮টি সনদ। সাধারণ যন্ত্রপাতি দিয়ে তৈরি করেছেন অটোমেটিক অগ্নিনির্বাপক, পরিবেশ দূষণ ও স্বয়ংক্রিয় সেচযন্ত্রসহ ১০টি যন্ত্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ছোট একটি ডিভাইসের মাধ্যমে শিশুদের পানিতে ডোবা রোধ করা।যশোরের শার্শা উপজেলার এই মোটরসাইকেল মেকানিকের কোনো প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও আজ তিনি নিজের আলোয় আলোকিত। নতুন চিন্তা আর গবেষণা তার ধ্যান-জ্ঞান। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রায়ই থমকে যায় তার উদ্ভাবন প্রক্রিয়া।

দারিদ্র্যতার কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি। আট থেকে ৯ বছর বয়সে বেঁচে থাকার তাগিদে নেমে পড়েন মজুরের কাজে। এক সময় মাঠে শ্যালো মেশিন চালানো ও মেরামতের কাজ করতেন। পরবর্তীকালে নাভারন বাজারে একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজে কাজ পান তিনি। সেখানই মোটর মেকানিক হিসেবে র্কমজীবন শুরু করেন। বর্তমানে শার্শা বাজারে ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজ রয়েছে তার। ছোটবেলা থেকেই তার শখ ছিল নতুন কিছু করা, নতুন কিছুর উদ্ভাবন।

বর্তমানে তিনি কাজ করছেন ছোট একটি ডিভাইস নিয়ে, যা কাছে থাকলে কোনো শিশু পানিতে ডুবে মরা থেকে বেঁচে যাবে। পানিতে পড়ার পর ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত ঘরে থাকা মেশিনটি জোরে শব্দ করে বেজে উঠবে। যে স্থানে শিশুটি ডুবে থাকবে, সেখানে পানির ওপর একটি সাংকেতিক চিহ্ন ভেসে উঠবে।ইতোমধ্যে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন দিয়ে তৈরি মিনি অ্যাম্বুলেন্স তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র যা বাসাবাড়ি, কল-কারখানা, অফিস-আদালতে আগুন লাগলে যানমালের ক্ষয়ক্ষতি থেকে পাঁচ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে আগুন নেভাতে শুরু করে। এটি বিদ্যুৎ না থাকলেও চলবে। তারপর একই সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল ফোন থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ফোন করে দেয়, পাশাপাশি যন্ত্রটি পানির পাম্পের সুইচ অন করে দেয়, যা আগুনের অবস্থান নিশ্চিতের পাঁচ থেকে সাত সেকেন্ডের মধ্যেই সম্ভব। অতঃপর পানির পাম্পের সঙ্গে সংযুক্ত পাইপের মাধ্যমে আগুনের অবস্থানে পৌঁছে দেয় এবং অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত ফাঁপা বলয়ের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আগুন নিভে যায়। এটি বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

দেশে পেট্রোলবোমায় যখন মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল, ঠিক সে সময়ে মিজান উদ্ভাবন করেন তার তৃতীয় উদ্ভাবন অগ্নিনিরোধক জ্যাকেট। এ জ্যাকেটটি পরে ড্রাইভার বা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিরাপদে কাজ করতে পারবেন। এতে আগুনের মাঝে গিয়ে জান-মাল রক্ষার সময় তার শরীরে আগুন স্পর্শ করবে না।

চতুর্থ উদ্ভাবন অগ্নিনিরোধ হেলমেট। এটি ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার সময় আগুনে গলার শ্বাসনালি পুড়বে না।পঞ্চম উদ্ভাবন হলো প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে মোটরকার। এটি বিদ্যুৎ বা পেট্রোলচালিত।কৃষকের জন্য স্বয়ংক্রিয় সেচযন্ত্র উদ্ভাবন হলো তার ষষ্ঠ উদ্ভাবন। কৃষক দূরদূরান্তের জমিতে পানি দিতে আর তদস্থলে যেতে হবে না। বাড়িতে বসেই সেচযন্ত্রটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বন্ধ বা চালু করতে পারবেন। তাছাড়া এ যন্ত্রটি জমিতে পানির প্রয়োজন হলে নিজে নিজেই চালু হয়। পানির প্রয়োজন না থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যন্ত্রটি উদ্ভাবনের পর ২০১৬ সালের ৫ জুন জাতীয় পর্যায়ে মিজান পরিবেশ পদক লাভ করেন।

জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে তিনি এখন পর্যন্ত ১৭টি সনদ ছাড়াও পেয়েছেনে অনেক ক্রেস্ট ও পুরস্কার।মিজানের উদ্ভাবিত দেশীয় প্রযুক্তির মোটরকার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হয়েছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ছোট ছোট অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।মিজান জানান, তার স্বপ্ন দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা। তার বর্তমান উদ্ভাবন গবেষণা চলছে দূষিত বায়ুশোধন যন্ত্র তৈরি করা।

মহসিন আলী

 

আরো পড়ুন