1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

যদি এই মুহুর্তে শুনতে পান আপনি ক্যান্সারে আক্রান্ত, আর এক সপ্তাহ বাঁচবেন!

যদি এই মুহুর্তে শুনতে পান আপনি ক্যান্সারে আক্রান্ত, আর এক সপ্তাহ বাঁচবেন। তখন আপনার কি একবারের জন্যও দুঃখ হবে?

কেন আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাননি,কেন অক্সফোর্ডে পড়তে পারেননি,কেন আপনি সবচেয়ে ভালো চাকরিটা পাননি? ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করবেন,তখন আপনার কি একটিবারের জন্যও আফসোস হবে যাকে আপনি অনেক বেশি ভালোবাসতেন তাকে কেন আপনার হারাতে হলো এটা ভেবে! এসব কিছুই তখন মাথায় আসবেনা। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া রোগীর কাছে দেশসেরা ভার্সিটিতে চান্স না পাওয়ার দুঃখ থাকেনা,বন্ধুর অপমানের প্রতিশোধ নেয়ার চিন্তাটাও তখন মাথায় আসেনা। ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটিকে ভালোবেসে বিয়ে করতে না পারাটাকেও তখন কোনো আফসোসই মনে হয়না।

তখন আর একটা বছর,আর একটা মাস বেঁচে থাকতে পারাটাই স্রষ্টার কাছে তার শ্রেষ্ট চাওয়া হয়ে যায়। আজ কতশত রোগীই তো মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে হাসপাতালে, আজকে আপনি আমিও হয়তো এসব রোগীর লিস্টে থাকতে পারতাম। আজকের দিনটাতে যে এখনো বেঁচে আছি এটাই তো অনেক।

একজন অন্ধলোক পৃথিবীর সবাইকে নিজের চেয়ে বেশি সুখি ভাবে শুধু অন্যরা দেখতে পায় বলে। একজন পঙ্গুর কাছে তার জীবনটাই অর্থহীন। তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া লোককে সে সবচেয়ে সুখি ভাবে। বোবার কাছে জীবনটাই এক বোঝা। সবই সে বুঝে কিন্তু আফসোস সে কাউকে কিছু বুঝাতে পারেনা। অথচ আপনি আমি দেখতে পাই,হাঁটতে পারি,কথাও বলতে পারি কিন্তু এতসব কিছুর পরও নিজেকে সুখি ভাবতে পারিনা।

বিশ্বাস করেন,পৃথিবীতে অন্তত এমন লাখখানেক মানুষ আছে যারা আপনার মত একটা লাইফ চায়। তারা আপনার মত অনেক সুখে বাঁচতে চায়। পৃথিবীর সব অন্ধ চায় আপনার মত দেখতে,সব পঙ্গু চায় আপনার মত হাঁটতে,সব বোবা চায় আপনার মত কথা বলতে। শুধু এটুকু পেলেই তারা জীবনকে স্বর্গ সুখের মত উপভোগ করবে। কিন্তু আফসোস আপনি নিজে যেখানে এত লক্ষ লক্ষ মানুষের টার্গেট,এত কোটি কোটি মানুষ যেখানে আপনার মত একটা লাইফ চায়ছে,ঠিক সেখানে আপনার সুখ অনুভব করতে না পারাটা সত্যিই আফসোসের।

সুখী মানুষেরা কেন সুখী জানেন? সবাই তাকে সুখ দেয় বলে সে সুখী না,বরং সবকিছুতে সে সুখ অনুভব করে বলেই সে সুখী। জীবন তো একটাই। তাহলে কেন প্রতিটা দিন আমাদের আফসোস করে কাটাতে হবে? জীবনে অনেক কিছুই পাবেন না,অনেক কিছু পেয়েও হারাবেন, আবার অনেক কিছুর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেও তার ধারেকাছে পৌঁছাতে পারবেন না। তবে এই জীবনে যা কিছু পেয়েছেন সেটুকু এই সামান্য না পাওয়ার কাছে কিছুই না।

আজ আপনি গ্র‍্যাজুয়েট বলে সবচেয়ে ভালো চাকরিটা না পেয়ে আফসোস করছেন,কিন্তু আজ যদি আপনি গ্র‍্যাজুয়েটই না হতেন তবে এই দুঃখ থাকতো না। তাহলে গ্র‍্যাজুয়েট যে হতে পেরেছেন শুধু এটুকু ভেবেই তো হেসে খেলে জীবন পার করা যায়। যাকে ভালোবেসেছন তাকে না পেয়ে জীবনটাকেই বৃথা মনে হচ্ছে,অথচ ঘরে বাইরে আপনি নিজে যে কত মানুষের ভালোবাসা সেটাই টের পাননি। মেডিক্যালে সেই রোগীটির কথা একবার ভাবুন, যাকে প্রতিদিন অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে বাঁচতে হয়। আপনি আমি যে এখনো ফ্রিতে অক্সিজেন পাচ্ছি শুধু এটুকু সুখেই তো হেসে খেলে বাঁচা যায়।

এপেক্সের দামি জুতা জোড়া কিনতে না পেরে মন খারাপ করার আগে বড়লোক পঙ্গু লোকটার কথা ভাবুন,যার জুতার ফ্যাক্টরি দেয়ার সামর্থ্য আছে অথচ সামান্য সেন্ডেল পড়ার মত তার পা দুটোই নেই। ব্র‍্যান্ডের ঘড়ি কিনতে না পেরে জীবনটাই বৃথা বলার আগে প্যারালাইজড রোগীর কথাটা চিন্তা করুন,শুধু হাত দুটো ঠিকমত নাড়াতে পারলেই সে সেরা সুখি হয়ে যেত,ঘড়ির চিন্তা তার মাথায়ই নেই। অথচ সুস্থ হাত দুটো নিয়েও আপনি সুখি না। সবচেয়ে দামি ড্রেসটা কিনতে না পেরে জীবনকে অর্থহীন ভাবার আগে একবার মেডিকেলের বার্ন ইউনিট ঘুরে আসুন। দেখবেন সারা শরীরে ব্যান্ডেজ পরে কিভাবে কাতরাচ্ছে আগুনে পুড়ে যাওয়া রোগীরা। তার কাছে শরীরে দামি পোশাকের চাহিদা নেই,শুধু সুস্থ শরীরে বাঁচতে পারলেই সে সুখি। অথচ এতসব কিছু আপনার থাকার পরও আপনি সুখি না।

সুখে আছি আমরা সবাই। অযথা জটিল চিন্তা করে জীবনকে দুর্বিষহ করে লাভ কী। আমি নিজে সুখ অনুভব করলে আমাকে দুঃখী করবে কে? এই এক জীবনে যা পেয়েছেন,তা সামান্য কিছু না পাওয়ার চিন্তায় জীবনের আনন্দ মাটি করে দিবেন না। আজকে ভার্সিটিতে চান্স না পাওয়ার দুঃখটা বুড়ো বয়সে থাকবেনা,আজকে ভালোবাসার মানুষকে হারানোর দুঃখটাও মাঝবয়সে এসে আর থাকবেনা। কোনো দুঃখই বেশি দিন থাকেনা। কাজেই আজকের সুন্দর সময়টা কেন অযথা দেশসেরা ভার্সিটিতে চান্স না পাওয়ার চিন্তায়,দামী ক্যারিয়ার গড়তে না পারার দুঃখে,ভালোবাসার মানুষকে কাছে না পাওয়ার কষ্টে শেষ করে দিচ্ছেন? প্রতিটা দিনই আনন্দের,সুখের।

আরো পড়ুন