1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন

যন্ত্র প্রকৌশলীদের চাকরি বাজার!

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রকৌশল সাবজেক্ট পেয়েছে- এমন সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাই যারা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরিক্ষেত্র সম্পর্কে একদমই জানে না, তাদের একটু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে এ লেখায়।

এখানে কিছু কথা বলে রাখা প্রয়োজন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরিক্ষেত্র এতটাই বিস্তৃত যে এই একটি পোস্টে সবকিছু সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর সুযোগ থাকে না। তাই একদম বেসিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

প্রথমে কিছু মিথ দূর করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে কেন জানি লোকমুখে এটা প্রচলিত যে, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের নাকি কোনো চাকরি নেই। কিভাবে এই কিংবদন্তি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়লো সেটা জানা নেই, তবে বাস্তব পরিস্থিতি একদমই এমন না। যারা এমনটা বলেন তারা হয়তো কোোরকম তথ্য-উপাত্ত না ঘেঁটেই এমন মনগড়া কথা বলেন।

এবার আসা যাক দ্বিতীয় মিথ সম্পর্কে। অনেকেই বলবে মেকানিক্যালে নাকি পড়াশোনা বেশি করা লাগে। এটা কিছুটা সত্য। এর কারণ হচ্ছে মেকানিক্যালের পড়াশোনার ব্যাপ্তি অনেক বেশি। এই বিষয়ের ফিল্ড অফ ইন্টারেস্ট এত বেশি হবার জন্যই চাকরির বাজারে এর এত ভিন্নতা। তাই এমন সুযোগ পাওয়ার জন্য কষ্ট একটু বেশি করাই লাগবে, এটা বোঝার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

অনেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর সরাসরি চাকরিতে ঢুকে যায়, আবার অনেকে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশে-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার জন্য যায়। আমরা আমাদের আলোচনার ব্যাপ্তি শুধু চাকরিক্ষেত্রের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখবো।

আমাদের দেশে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরিগুলোকে ২টি ভাগে ভাগ করা যায় ।

১) সরকারি চাকরি

২) প্রাইভেট/বেসরকারি চাকরি

১) সরকারি চাকরি

এখনকার দিনে সদ্য পাসকৃত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের মাঝে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর পেছনের কারণ হলো ভালো স্যালারি রেঞ্জ, চাকরি নিরাপত্তা এবং সামাজিক সম্মান। জাতীয় বেতন স্কেলের অষ্টম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে একজন সরকারি বেতনভুক্ত কর্মকর্তার মাসিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। ৮ম জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী একজন সরকারি বেতনভুক্ত কর্মকর্তার মাসিক মূল বেতন হয় অনেকটা এরকম: (ছবিতে দেখুন)

সরকারি চাকরিকে আবার দুটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। একটি হচ্ছে বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) এবং অন্যটি হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি পাওয়ার প্ল্যান্ট অথবা সরকারি মালিকানাধীন কলকারখানা অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরি। এই চাকরিগুলোর ক্যারিয়ার সেফটি যথেষ্ট ভালো। তাই এসব চাকরিতে ঢুকে চাকরি শঙ্কায় পড়তে হয় না কখনই।

২) প্রাইভেট/বেসরকারি চাকরি

সরকারি চাকরিতে যাদের অনীহা তাদের মধ্যে বেসরকারি বা প্রাইভেট চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বড় অঙ্কের স্যালারির পাশাপাশি চাকচিক্যে ভরপুর অফিস, স্যুটেড-বুটেড কর্পোরেট লাইফ কে না চায়? সরকারি চাকরির মতো প্রাইভেট জব সেক্টরকেও দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রথমটিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থ চাকরি বলা যেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় অথবা কোনো সংস্থার দ্বারা গড়ে ওঠে। অটোমোবাইল সেক্টরে রানার মোটর, উত্তরা মোটর, এসিআই মোটর, নিলয় মোটর, আফতাব অটোমোবাইল, রহিমা আফরোজ গ্লোব্যাট লিমিটেডের মতো বিভিন্ন কোম্পানি আছে। অটোমোবাইল ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এসব কোম্পানিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির বেশ ভালো সুযোগ থাকে।

ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে বেক্সিমকো, স্কয়ার, রেনাটা, বেকন, একমি, রেডিয়েন্ট, ইনসেপ্টার মতো ভালো ভালো কোম্পানি রয়েছে, যারা প্রতিবছর অনেক ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেয়। সেই সাথে কিছু সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি, পাওয়ার প্ল্যান্টও আছে যেখানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নেওয়া হয়। এছাড়া টেক্সটাইল সেক্টর, আরএমজি (রেডি মেড গার্মেন্টস) সেক্টরে চাকরি করার সুযোগ অনেক। আবার হোম অ্যাপ্লায়েন্স নির্মাতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির বিরাট একটি ক্ষেত্র রয়েছে ।

দুই ভাগের দ্বিতীয়টিকে মাল্টিন্যাশনাল বা বহুজাতিক কোম্পানি বলা যেতে পারে। মূলত যে কোম্পানিগুলোর পণ্যের বাজারের ব্যপ্তি পুরো বিশ্বজুড়ে থাকে, তাদেরই মাল্টিন্যাশনাল বা বহুজাতিক কোম্পানি বলা হয়ে থাকে। এই চাকরিগুলোও অনেক আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। বহু আকাঙ্খিত কিছু মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি হলো ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, মেরিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, বাটা শু’জ, নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড, আরএকে পেইন্টস, বারজার পেইন্টস, শেভ্রন বাংলাদেশ ইত্যাদি।

কারো শিক্ষক হবার ইচ্ছা থাকলে সেই ইচ্ছা পূরণের সুযোগও রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সিজিপিএ একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। বেশ ভালো সিজিপিএ ছাড়া বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকতার জন্য আবেদন করা যায় না। এক্ষেত্রে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রথম সারির ছাত্রদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে ব্যাতিক্রমও লক্ষ্য করা যায়।

এছাড়াও নন-ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেও চাকরি করার সুযোগ রয়েছে। অনেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করে এমবিএ করে। একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির সাথে এমবিএ’র কম্বিনেশনকে অনেকক্ষেত্রে বেশ ভালো রকম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এছাড়া ব্যাংক সেক্টরে চাকরির সুযোগ থাকে অথবা বাংলাদেশ আর্মির ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে যোগদান করে (যেটি আবার একটি সরকারি চাকরি) একজন ইঞ্জিনিয়ার হবার পাশাপাশি একজন মিলিটারি সদস্য হবার গৌরব অর্জন করা যায়।

আমাদের দেশে একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের চাকরির ক্ষেত্র প্রায় এগুলোই। এর বাইরে যে থাকতে পারে না এমনটি নয়। তবে একদম প্রধান ক্ষেত্রগুলো নিয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

আরো পড়ুন