1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

যেভাবে নতুন জীবন শুরু করা যায় শূন্য হাতে !

আমরা জীবনের এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে উন্নীত হলেই অনেক নতুন কিছু জীবনে যুক্ত হয়। নতুন ভাবে অনেক কিছু শুরু করতে হয়। তাই বলা যায়, নতুন জীবন সবসময় নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। নতুন জীবনের নতুন নতুন প্রয়োজন মেটাতে দরকার হয় বাড়তি অর্থের। কিন্তু এই অবস্থায় যদি হাত শূন্য থাকে, তাহলে কী করণীয়?

শূন্য হাতে নতুন জীবন শুরু করা বেশ কঠিন। তাই শূন্য হাত বা স্বল্প পুঁজিতে জীবনের সকল প্রয়োজন মেটাতে সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর একটি তালিকা তৈরি করুন এবং তা বাস্তবায়নে নিজেকে সবসময় ইতিবাচক রাখুন। আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ এবং সঞ্চয়ের ব্যাপারে আরো বেশি সচেতন হোন। প্রয়োজন হলে নতুন চাকরি নিন, অথবা আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে সহযোগিতা নিন।

জীবনযাপনের ধারা: ধরা যাক, আপনি সদ্য বিয়ে করেছেন এবং স্ত্রীকে সাথে নিয়ে আপনার নতুন জীবন শুরু হয়েছে। এই নতুন জীবনকে সুখী, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং অর্থপূর্ণ করে তুলতে নতুন জীবনের শুরুতে সিদ্ধান্ত নিন, আপনি কেমন জীবনযাপন করতে চান। কেননা আপনার জীবনযাপনের ধরনের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ আপনি যেমন জীবন যাপন করতে চান, ঠিক তেমন প্রচেষ্টা আপনাকে চালাতে হবে।

প্রয়োজন নাকি ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেবেন: নতুন জীবন শুরু করার আগে স্পষ্ট হয়ে নিন, কেন আপনি নতুন জীবন শুরু করতে চান! প্রয়োজনীয়তা নাকি ইচ্ছা থেকে আপনি নতুন জীবন শুরু করতে চলেছেন, তা স্থির হয়ে ভাবুন। প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে যদি নতুন জীবনের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তবে নিশ্চিত হোন আপনার জীবনের নতুন কী কী প্রয়োজনীয়তা আছে, যা পূরণ করার মাধ্যমে জীবনের উন্নতি ঘটাতে পারবেন। আবার আপনি যদি কিছু প্রত্যাশার উপর ভিত্তি করে নতুন জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তবে আগে নিশ্চিত হোন, আপনার আদর্শ জীবন কেমন হবে।

যেমন, আপনি যদি পরিবারের কিছু নেতিবাচক সদস্য বা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য নতুন জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তবে, শুরুতেই আপনাকে সেসব নেতিবাচক পারিবারিক সদস্য বা আত্মীয়স্বজনের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিতে হবে। অথবা বিয়ে করার কারণে যদি আপনার নতুন জীবন শুরু করতে হয়, তবে শুরুতেই নিশ্চিত হয়ে নিন নতুন জীবনের প্রয়োজনে কী কী নতুন জিনিস এবং অভ্যাস আপনাকে আয়ত্ত করতে হবে। নতুন মানুষ সংসারে আসার কারণে নতুন কী কী খরচ যুক্ত হবে।

অথবা আপনি যদি দেশের সার্বিক পরিবেশ ও প্রতিবেশীদের সাথে মিথস্ক্রিয়া বিবেচনা করে একটি উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় নতুন জীবন শুরু করতে চান, তবে অবশ্যই আপনাকে উন্নত কোনো দেশে বসবাস করা শুরু করতে হবে। সুতরাং নতুন জীবনে প্রয়োজনীয়তা না ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেবেন, সে ব্যাপারে সবার আগে ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন।

স্থান পরিবর্তন: নতুন জীবন শুরু করতে হলে আপনাকে আবাসস্থল পরিবর্তনের যথাযথ পরিকল্পনা করতে হবে। কেননা নতুন জীবন শুরু করতে হলে অনেক ক্ষেত্রেই নতুন আবাসস্থলের প্রয়োজন হয়। তাই একই শহরে নতুন কোনো বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টে নিজের আবাসস্থল পরিবর্তন করতে পারেন, এমনকি আপনার প্রয়োজনীয়তা এবং সামর্থ্য বিবেচনা করে, দেশও পরিবর্তন করতে পারেন।

আপনি চাইলে অনলাইনে এ জাতীয় গবেষণার জন্য অনেক টুলস পাবেন। তাছাড়া বিচক্ষণ হলে আপনি নিজেই প্রয়োজনীয়তা ও সামর্থ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে হিসাব মেলাতে সক্ষম হবেন। নতুন আবাসস্থল হিসেবে এমন জায়গা বা এলাকা নির্বাচন করুন, যেখানে জীবনযাপন আগের চেয়ে উন্নত। আবার খরচও কম। একই সাথে নতুন জায়গায় নতুন চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাও যেন বেশি থাকে।

এমন শহর বা এলাকা নির্বাচন করুন, যেখানে বসবাসের জন্য আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা যথেষ্ট উপযুক্ত। আপনি চাইলে অনলাইনে অথবা সরাসরি পরিদর্শন করে উক্ত এলাকার বাড়ি ভাড়া সহ অন্যান্য খরচ জানার চেষ্টা করতে পারেন।

সম্পর্ক: জীবনের প্রয়োজনে নতুন জায়গায় বসবাস শুরু করলে আত্মীয়স্বজন এবং আপনজনদের সাথে দূরত্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। সুতারাং ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন, সম্পর্কগুলো কীভাবে সজীব রাখবেন। আপনি আত্মীয়স্বজন এবং আপনজনদের থেকে দূরে থাকবেন সত্যি, কিন্তু নিশ্চয়ই
সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইবেন না।

সুতরাং আপনার সব বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনের তালিকা তৈরি করুন, এবং সিদ্ধান্ত নিন আপনি তাদের থেকে কতটা দূরে বসবাস করতে চান। আপনি চাইলে এতদিন বসবাস করা অ্যাপার্টমেন্ট পরিবর্তন করে কাছাকাছি অন্য একটি বাড়িতে উঠতে পারেন। তাতে আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে খুব বেশি দূরে যাওয়া হবে না। সম্পর্কহানি হওয়ারও সুযোগ সৃষ্টি হবে না।

কিন্তু আপনি যদি সত্যিই আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে দূরে থাকতে চান, তবে তা একান্তই আপনার সিদ্ধান্ত। তবে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন থেকে দূরে বসবাস শুরু করলেও আপনার নতুন আবাসস্থলের খবর তাদের জানান। এবং বিশেষ উপলক্ষ সামনে রেখে নতুন বাড়িতে তাদের নিমন্ত্রণ জানাতেও পারেন।

তবে আপনি যদি শক্ত অর্থনৈতিক ভিত তৈরি করার জন্য বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে থাকতে চান, তবে কৌশলে তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলুন। পাশাপাশি নিজের অর্থনৈতিক উন্নতির দিকে বেশি মনোযোগ দিন।

নতুন জীবন শুরু করতে হলে এর বাস্তবসম্মত কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিন। আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবের সাথে সম্পর্কে সৃষ্ট প্রভাবের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। মনে রাখবেন, উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় কখনোই আত্মীয়স্বজনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত না। কেননা মানুষ বাঁচে শুধুমাত্র উন্নত জীবনযাপনের মাধ্যমে নয়, সুন্দর সম্পর্কের ভিত্তিতে।

আরো পড়ুন