1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

যে সকল কারণে বাবামাকে উদ্যোক্তা হওয়া উচিত!

একটি শিশু জন্মের পরেই হাঁটতে পারে না, কিন্তু পিতামাতা জানে কীভাবে তার সন্তানকে হাঁটতে শেখাতে হবে। এক পর্যায়ে শিশুটি হাঁটতে ও দৌড়াতে শিখে যায়। আর শিশুর এ সফলতার পিছনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে তার পিতামাতা। আবার কোনো ব্যবসা সাধারণত শুরুতেই সফলতার মুখ দেখে না। উদ্যোক্তা তার কর্ম ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একটি ব্যবসাকে সফলতার দিকে নিয়ে যায়। যা অনেকটাই প্যারেন্টসদের সন্তান লালনপালনের মতোই।

পিতামাতাদের এমন কিছু গুণাবলী ও দক্ষতা আছে, যেগুলো একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য খুবই কার্যকর। কিন্তু কেউ কেউ মনে করে পিতামাতা হওয়ার পরে উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব নয়। এ আর্টিকেলটিতে আমরা জানবো যে ১০ টি কারণে প্যারেন্টসদেরই উদ্যোক্তা হওয়া উচিৎ।

১. তারা তাদের সন্তানদের ভালোবাসেন

হিউম্যান ব্রেইন ম্যাপিং জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, উদ্যোক্তার ভালোবাসা ও পিতামাতার ভালোবাসার মধ্যে অদ্ভুত মিল রয়েছে। পিতামাতা তাদের সন্তানদের সাথে যেমন আচরণ করে থাকে, উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসার সাথেও তেমনি আচরণ করে থাকে। এদিক বিবেচনায় উদ্যোক্তা হওয়া ও পিতামাতা হওয়ার মধ্যে তেমনি পার্থক্য নেই। সন্তানদের লালনপালন ও দেখাশোনা করা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা উভয় স্ট্রেসপূর্ণ কাজ, প্রচুর রিসোর্সের প্রয়োজন হয় ও রাতে দেরিতে ঘুমাতে যেতে হয়।

২. তারা হলেন নেতা

সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার জন্য পিতামাতাদের নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। আর নেতৃত্বের প্রমাণ সি ভি (CV) তে সেভাবে ফুটে উঠানো সম্ভব না।

কিন্তু আপনি যদি প্যারেন্ট হোন তবে এটা নিশ্চিত যে আপনার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। আর নেতৃত্ব দিতে পারা একজন উদ্যোক্তার অন্যতম দক্ষতা। উদ্যোক্তা যদি তার স্টাফ বা কর্মীদের যথাযথভাবে পরিচালনা করতে না পারে, তবে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে না।

৩. তারা ব্যর্থতার মাধ্যমে শিখতে উৎসাহিত করেন

একটা শিশু রাতারাতি হাঁটতে বা কথা বলতে পারে না। প্রথম অবস্থায় শিশু বারবার হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়, কিন্তু তার পিতামাতা তাকে পুনরায় হাঁটার চেষ্টা করার জন্য বারবার উৎসাহিত করে থাকে। হাঁটতে ব্যর্থ হতে হতে পিতামাতার উৎসাহে শিশু সফলভাবে হাঁটতে শিখে। আর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যর্থতা দেখা দিলে উদ্যোক্তাদের উচিত কর্মীদের উৎসাহ প্রদান করা। ব্যর্থতার মধ্যে কর্মীরা উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা না পেলে হতাশ হয়ে পড়বে, যা প্রতিষ্ঠানের জন্য আরো ক্ষতিকর। আর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উৎসাহ পেলে সহজেই ব্যর্থতা কাটিয়ে সফলতা অর্জনের পন্থা আবিষ্কার করে ফেলতে পারবে, ঠিক যেভাবে একটি শিশু তার পিতামাতার উৎসাহে হাঁটতে সক্ষম হয়।

৪. তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক আছে

প্যারেন্টসরা হয়তো বারে বা আড্ডার টেবিলে কম সময় ব্যয় করে। কিন্ত তারা সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া, খেলাধুলার মাঠে নিয়ে যাওয়া কিংবা স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার মতো কাজ করে থাকে যা পিতামাতাদের শক্তিশালী সোশ্যাল নেটওয়ার্ক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

আর এসব কাজগুলো করার মাধ্যমে পিতামাতারা আয়ত্ত করে ফেলে কীভাবে নেটওয়ার্ককে বাড়াতে ও শক্তিশালী করতে হয়। আর একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য পিতামাতাদের এ দক্ষতাটি উদ্যোক্তার মধ্যে থাকা জরুরি। তাই পিতামাতাদের উদ্যোক্তা হওয়া উচিৎ।

৫. তারা সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানেন

যেকোনো কাজে সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিকভাবে সময় ব্যবস্থাপনা করতে না পারার কারণেই কোনো কোনো উদ্যোক্তা সফলতার মুখ দেখতে ব্যর্থ হয়। তাই একজন উদ্যোক্তাকে সময় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। প্যারেন্টস যদি উদ্যোক্তা হয় তবে সময় ব্যবস্থাপনার এ কাজটা করা তার জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়। কারণ শিশুদের কখন খাওয়াতে হবে, কখন পড়তে বলতে হবে, কখন ঘুম পাড়াতে হবে এসব কাজ সময় মতো করতে হয়। আর পিতামাতারা এসব কাজ প্রতিনিয়ত করার মাধ্যমে সময় ব্যবস্থাপনার প্রতি সচেতন হয়ে ওঠেন।

৬. তারা জানেন কীভাবে একটি গল্প বলতে হয়

আপনি যদি প্যারেন্ট হোন তবে আপনাকে একজন দক্ষ গল্প কথক হতে হবে। কারণ গল্পের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা প্রদান করা বেশ কার্যকর উপায়।

আবার একজন উদ্যোক্তা যদি মার্কেটে টিকে থাকতে চায়, তবে তাকে তার পণ্য সম্পর্কে এমন স্টোরি তৈরি করতে হবে, যাতে কাস্টমাররা আকৃষ্ট হয়। আর একজন প্যারেন্ট যদি উদ্যোক্তা হয়, তবে এ কাজটা খুব ভালোভাবেই পরিচালনা করতে পারবে।

৭. তারা ঝুঁকি গ্রহণ করেন

সন্তানদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য পিতামাতারা বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি গ্রহণ করে থাকে। সন্তানদের লেখাপড়া করাতে অনেক সময়ই পিতামাতাদের বড় অংকের আর্থিক লোন নিতে হয়। সন্তানের জন্য প্রয়োজন না হলে হয়তো তারা এই ঝুঁকি নিতেন না। এভাবে সন্তান লালনপালন করতে গিয়ে পিতামাতারা ঝুঁকি নিতে শেখে।

একজন উদ্যোক্তারও ঝুঁকি নেওয়ার দক্ষতা থাকতে হবে। ব্যবসায় ঝুঁকি গ্রহণ করতে না পারলে সফলতা অর্জন করা অনেকাংশই অসম্ভব। তাই পিতামাতা উদ্যোক্তা হয়ে সহজেই সফলতার মুখ দেখতে পারে।

৮. তারা সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠেন

সকাল সকাল ঘুম থেকে না ওঠা একধরনের অলসতার লক্ষণ। পিতামাতারা সাধারণত খুব ভোরেই ঘুম থেকে উঠে উৎপাদনমুখী কাজ শুরু করে দেয়। পিতামাতাদের ভিতরে অলসতা ভর করে না। আর একজন উদ্যোক্তার জন্যও এ বিষয়টা খুবই জরুরি। একজন উদ্যোক্তাকে প্রতিদিন ইমেইল চেক করতে হয়, ক্লাইন্টদের সাথে যোগাযোগ করতে হয় এবং যেকোনো ইস্যুর সমাধান করতে হয়। প্যারেন্ট উদ্যোক্তা হলে এ কাজগুলো করা তার জন্য সহজ হয়ে যায়।

৯. তারা হলেন অকৃত্রিম

কেউই পিতামাতা হওয়ার আগে জানে না কীভাবে পিতামাতা হয়ে উঠতে হয়। তেমনি কোনো ব্যবসা শুরু না করা পর্যন্ত কেউ জানে না কীভাবে উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে হয়।

প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার পর সন্তানকে হ্যান্ডেল করা ও প্রথম ব্যবসা হ্যান্ডেল করা প্রায় একই। ফলে পিতামাতাদের উদ্যোক্তা হওয়া উচিৎ।

১০. তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে

সন্তানদের মঙ্গলের জন্য পিতামাতাদের সব সময় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করার প্রয়োজন দেখা দেয়। আর পিতামাতারা এটা ভালোভাবেই সম্পাদন করে থাকেন। তেমনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ক্রমাগত উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে হলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিকল্প নেই।

প্রথমে পরিকল্পনা করতে হয়, তারপর সে পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মপন্থা গ্রহণ করতে হয়। তবেই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সাফল্যের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এজন্য কোনো প্যারেন্ট উদ্যেক্তা হলে তার জন্য ব্যবসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হয়ে যায়।

পিতামাতাদের এ ১০টি দিক বিশ্লেষণ করে বলা যায় পিতামাতাদের উদ্যেক্তা হওয়া উচিৎ। পিতামাতারা উদ্যোক্তা হলে, সফল হতে পারবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

লেখক: আমিনুল ইসলাম

তথ্য সূত্র: ইযুথ কারনিভাল।

আরো পড়ুন