1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন




যে সকল কারনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশুনা করা উচিৎ

জাতিসংঘ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হতে বাংলাদেশ সরকার আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২০০০ ডলার করার লক্ষ্যে নানামুখি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নাই এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে একজন ইঞ্জিনিয়ারের ভূমিকা অপরসীম। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের তাকালে দেখা যায়, বিশ্বের যে সব দেশ কারিগরি শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সেই সব দেশ তত বেশি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে।

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কি? ইঞ্জিনিয়ার মানে হচ্ছে প্রকৌশলী। আর ইঞ্জিনিয়ারিং মানে হচ্ছে প্রকৌশলের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা। যে কাজ খুব সহজ ভাবে, কম সময়ে, কম খরচে এবং কম জনশক্তিতে করা যায় তাকে প্রকৌশল বলে। আর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর অর্থ হলো ৪ বছর মেয়াদি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স। যা করতে একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পাশ করার পর বাকাশিবো’র নিবন্ধিত যে কোনো পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে করতে পারে।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমগুলো হলো ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন মেরিন টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন হেল্থ টেকনোলজি, টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও এসএসসি (ভোকেশনাল)। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর দ্বারা পরিচালিত সারা দেশে বিভিন্ন জেলা শহরে মোট ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাড়াও বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংখ্যা পাঁচশতের বেশী।

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ কেন পড়বেন: একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একমাত্র প্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষাই পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য নিরসন ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করে দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে একটি শক্তিশালী পর্যায়ে নিয়ে যেতে। আর এদিকে আমাদের দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে কারিগরি শিক্ষার চাহিদা ব্যাপক। বর্তমান বিশ্বে দক্ষ ও টেকসই প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রয়োজন হাতে কলমে শিক্ষা বা বাস্তবমুখী শিক্ষার। আর হাতে কলমে বা বাস্তবমূখী শিক্ষার একমাত্র কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একজন শিক্ষার্থীকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে হলে HSC বা উচ্চ মাধ্যমিকের পর যে কেবল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হলেই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্ভব। যেখানে উচ্চ মাধ্যমিক বা HSC দু বছর এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এর মেয়াদ ৪ বছর। অর্থাৎ ইঞ্জিনিয়ার হতে হলে ৬ বছর সময় লেগে যায়। এবং দেশে পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র কয়েকটিম আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে প্রচুর টাকা লাগে। আমাদের দেশের বেশি ভাগ মানুষ মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত। মোটামুটি বেশিরভাগ পরিবারেই অর্থনৈতিক টানা পড়ন আছে। তো সবার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়ে উঠে না।

একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পাশ করার পর পরই ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী লাভ করে খুব দ্রুত ক্যারিয়ার শুরু করতে পারে। আর এদিকে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে একজন শিক্ষার্থীকে এসএসসির পর চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের মাধ্যমে অন্যদের চেয়ে ২ বছরের কম সময়ে নিজেকে একজন গর্বিত ইঞ্জিনিয়ার বলে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। দেশে ৪৯টির বেশি সরকারী পলিটেকনিকে যে কেউ সহজে ভর্তি হতে পারে। এছাড়া বেসরকারী পলিটেকনিকে পড়তে বেশি টাকাও লাগে না।

কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার: বিশ্বায়নের এ যুগে ইঞ্জিনিয়ারদের চাকুরীর সুযোগ অনেক বেশি। আর ফোর্থ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভুলেশনের ফলে ইন্ড্রাস্ট্রি সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে যা কিনা ইঞ্জিনিয়ারদের দ্বারা পলিচালিত হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর সব চাকুরি মিলায়ে দেড় লক্ষ নিয়োগ হয়। যার বেশির ভাগ ইঞ্জিনিয়ারদের, আর ডিপ্লোমা শিক্ষার্থিদের জন্য সরকারী চাকুরীর সার্কুলার অন্যান্য সেক্টরের চাইতে কয়েক গুন বেশি। শুধু দেশেই নয় দেশের বাহিরেও চাকুরী করার অনেক সুযোগ সুবিধা আছে একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের।

আত্মমর্যাদা এবং সম্মানের কথা বললে, বেশিরভাগ ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারীরা চাকুরীর ক্ষেত্রে শুরুতে সরাসরি ১০ম গ্রেডে যোগদান করেন। প্রায় সকল ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা চাকরিতে ২য় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা পদে এন্ট্রি করেন। বেতন স্কেলে মূল বেতন ১৬০০০ টাকা এবং সর্বসাকুল্যে ৩৮৬৪০ টাকা। তারা ক্রমে ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা হতে পারেন। অনেকে জেনারেল এডুকেশন থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর করেও চাকরিতে ১০ ম গ্রেডের নিচে যোগদান করেন। আর চাকুরির বাজারে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারের তুলনায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াদের সার্কুলার বেশি হয়ে থাকে।

উচ্চ শিক্ষার জন্য ডিপ্লোমা পাশ করার পর B.Sc ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ ছাড়াও ২ বছরের A.M.I.E তে পরে IEB মেম্বারশিপ অর্জন করার সুযোগ আছে যে কোনো ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের। এছাড়া উচ্চ শিক্ষার জন্য নিয়ে চীন, তুরুষ্ক, জার্মানী ছাড়াও আরও কয়েকটি দেশে ফুল ফ্রি হাফ ফ্রি স্কলারশীপের ব্যবস্থা আছে।

সবচেয়ে মজার বেপার হলো ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং-এ সেশন জটের কোন সম্ভাবনা নেই। জেনারেল শিক্ষার চেয়ে কারিগরি শিক্ষা বেশ জনপ্রিয় এবং মর্যাদাপূর্ণ। এছাড়া কর্মমুখী এই শিক্ষায় পাশ করার পর যে কেউ পছন্দমত ব্যবসা করতে পারে।




আরো পড়ুন













© All rights reserved © 2021 power of people bd
Theme Developed BY Desig Host BD