1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

রোল নাম্বার টুয়েন্টি থ্রী।

-টুয়েন্টি থ্রী।

-টুয়েন্টি.. থ্রী…।

-প্রেজেন্ট স্যার।

-কে টুয়েন্টি থ্রী??

-মামুন উঠে দাঁড়ালো।

-এত এবসেন্ট থাকো কেন??

-মামুন উত্তর দিতে ইতস্তত বোধ করছে।

-স্যার আবার জিগ্যেস করলেন এত এবসেন্ট থাকার কারণ কি??

-মামুন নিশ্চুপ।সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

-এই তুমি কি কথা বলতে পারোনা??

কয়েকজন মুখ টিপে হাসল।একজন পাশ থেকে খোঁচাও দিল।আরেকজন স্যার কে অসুস্থ ছিল বলে বলতে বলল।

-মামুন মাথা নিচু করে বলল,”স্যার আর মিস হবেনা”।

-তুমি ক্লাস শেষে আমার রুমে দেখা করবে।

-মামুন হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ালো।

মামুন চেইন ছেঁড়া ব্যাগটা নিয়ে স্যারের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

-ভেতরে আসো।

তোমার নাম মামুন তাইনা??

-জ্বি স্যার।

-তো!মামুন।ইতোমধ্যে তুমি অনেক গুলো ক্লাস মিস দিয়ে ফেলেছো।তুমি তো বিবিএর রুলস-রেগুলেশন জানোই।এভাবে মিস দিলে হয় তোমাকে জরিমানা দিতে হবে না হয় তুমি ফাইনাল পরীক্ষায় এটেন্ড করতে পারবেনা।আমি স্টুডেন্ট সাইকোলজি বুঝি।দেখলাম ক্লাসে অনুপস্থিত থাকার কারণ বলতে বিব্রতবোধ করছো।তাই রুমে ডাকলাম।আমি তোমার টিচার সেই সাথে এই ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট এডভাইজার আর সবচেয়ে বড় কথা হলো আমি তোমার ডিপার্টমেন্টেরই বড় ভাই।কোনো সমস্যা হয়ে থাকলে খুলে বলতে পারো আর যদি মনে হয় লেখাপড়া করবেনা।তো ব্যাস!!ভালো কথা ছেড়ে দাও।

খানিকক্ষণ পর জড়তা ভেঙ্গে,-স্যার, নদীভাঙ্গনে আমরা সব হারিয়েছি।এ বছর শুধু বসতভিটাখানি বাকি ছিল। তাও গেছে এক মাস আগে।বাস্তুহারা হয়ে বাবা-মা ও ছোট ভাইটি আজ এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাসায় উঠেছে।আমার লেখাপড়া ও ভর্তিবাবদ খরচের জন্য বাবা একমাত্র আবাদি জমিটি বন্ধক রেখেছিল।তাও নদীগর্ভে গেছে।যাদের কাছে বন্ধক রেখেছিল তারা টাকার জন্য অনবরত চাপ দিচ্ছে।তিনমাস সময় চেয়ে নিয়েছি।টাকার জোগাড়,বাবা-মার খাওয়া-দাওয়া,নতুন বাসস্থান সবকিছু মিলিয়ে কাজ করতে হচ্ছে স্যার।বাবাও এই বয়সে কাজ করছে।

-কি কাজ কর তুমি???

-মামুন(সাবলীলভাবে)স্যার রিক্সা চালাই।

-রিক্সা চালাও!!কোথায়???

-স্যার ক্যাম্পাস থেকে দূরে বিভিন্ন গলিতে।ক্যাম্পাসে চালালে হয়তো অনেকে হাজারটা প্রশ্ন করবে তাই দূরেই চালাই।

-কোন সময় চালাও??

-ক্লাস শেষে সন্ধ্যার একটু আগে যাই স্যার। রাত ১১-১২ টার মধ্যে ফিরে আসি।

-লেখাপড়া কর কোন সময়??

-স্যার যখন রুমে ফিরে আসি শরীরে থাকে বিশাল ক্লান্তির বোঝা।পড়তে বসতে আর ইচ্ছা হয়না।বিছানায় শরীরটা এলিয়ে দিতেই ঘুম ধরে যায় স্যার।চোখ বন্ধ করলেই অস্তিত্বের অর্থহীনতা অনুভব করি।সকালে উঠতে ইচ্ছায় করেনা।সব কিছু যেন জাপটে ধরে।মাঝে মাঝে উঠতে দেরী হয়।পরে আর ক্লাসে আসা হয়না।সকালের ক্লাসগুলোতে শুধু এরকমটা হচ্ছে।আর হবেনা স্যার।-(ভাঙা স্বরে)সকালের নাস্তা করেছো মামুন।

-মামুন কোনো উত্তর দিতে পারলোনা।

মামুন দেখছে স্যার চশমাটা খুলে টেবিলের উপর রাখলেন।স্যারের গলার টিউন দ্রুত উত্থান-পতন করছে।স্যারের ঠোঁট আর চোখের পাতা কাঁপছে।স্যার হয়তো এখনি কেঁদে দিবেন।তা না করে স্যার বললেন–মামুন এতে তোমার শারীরিক কোনো প্রব্লেম হয়না??-স্যার,মানুষ হয়ে মানুষকে টানা অনেক কষ্টের স্যার।শরীর ও কোমড়ে মাঝেমাঝে টান পড়ে।গা-পা ব্যাথায় ভরে থাকে।কিন্তু সব সয়ে গেছে স্যার।

মামুন ভাবছে সে অতি আবেগপ্রবণ হয়ে যাচ্ছে।জীবনে সে যে কথাগুলো কারো সাথে শেয়ার করেনি আজ তা স্যারের সাথে করতে পেরে যদিও হালকা লাগছে তবুও সব বলা ঠিক না।-একটা কথা বলতাম স্যার।-বল।-স্যার দয়া করে এগুলো কাউকে বলবেন না স্যার প্লিজ।আমি কারো সিম্প্যাথির পাত্র হতে চাইনা।আর ক্লাস মিস দিবনা স্যার।আমি তাহলে যাই স্যার।স্যার কিছু হয়তো বলতো কিন্তু বলতে পারলেন না।ছলছল চোখ নিয়ে একদৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন মামুনের দিকে।

মামুন সালাম দিয়ে বেরিয়ে গেল।যাবার সময় স্যারের দিকে একবার তাকালো।স্যার রুমাল দিয়ে চোখ মুছসে।মামুনেরও একবার ইচ্ছে হলো স্যারকে জড়িয়ে ধরে গলা ছেড়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে।কিন্তু এই পৃথিবীতে মামুনদের কাঁদতে বারণ। কারণ কাঁদলেই মহাকালের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে মামুনের অস্তিত্ব আর এটেডেন্স খাতা থেকে চিরকালের মতো গায়েব হয়ে যাবে রোল নাম্বার “টুয়েন্টি থ্রী”।।।

সংগ্রিত

আরো পড়ুন