1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন

সফল হতে জীবন থেকে বিদায় করে দিন ৮ শ্রেণির মানুষ!

যেসব নেতিবাচক লোকেরা আপনাকে পিছন থেকে টেনে ধরে এবং আপনার ওজন কমিয়ে দেয় তাদেরকে জীবন থেকে বিদায় করে দিন। এরা হতে পারে সহকর্মী, বন্ধু বা পরিবারের সদস্য। এদের সঙ্গে একটা সীমানা দেয়াল টেনে নিন বা জীবন থেকে পুরোপুরি ত্যাগ করুন। কাজটি হয়তো কঠিন হতে পারে। কিন্তু এটা করলেই আপনি সফল হবেন।

আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই সকল ৮ শ্রেণির মানুষ সম্পর্কে:

১. যারা আপনাকে নিচে নামিয়ে রাখে: 

আপনার জীবনে যারা থাকবে তাদের উচিৎ আপনাকে ওপরের দিকে টেনে তোলা এবং আপনার অর্জনগুলোকে উদযাপন করা, তাতে ছিদ্র তৈরি করা নয়। কিন্তু এমন কিছু লোক আছে যারা আপনার ভালো খবরগুলোর মধ্যেও নেতিবাচক বিষয় খুঁজে বের করবে। যেমন, আপনার হয়তো বেতন বেড়েছে। কিন্তু এরা বলবে, আপনি আরো বেশি পাওয়ার যোগ্য। আপনাকে কম দেওয়া হচ্ছে। এদের কথা শুনে মনে হবে এরা বুঝি আপনার ভালো চায়। কিন্তু না, এরা আসলে ভণ্ড। শুভাকাঙ্খীর ছদ্মবেশে এরা আসলে আপনার মধ্যে নেগেটিভ চিন্তা ঢুকিয়ে দিতে চান।

২. যারা আপনার মধ্যে নিজেকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে:

বাস্তবতা সম্পর্কে আপনার যে বুঝ আছে তাকে এরা আক্রমণ, অবমূল্যায়ন বা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করবে এবং আপনার মধ্যে নিজের সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। এর মধ্য দিয়ে এরা আপনার ওপর ছড়ি ঘুরানোর চেষ্টা করবে। এরা শুধু আপনাকে দিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করার চেষ্টা করবে। এদের কথা ও কাজে মিল থাকে না। এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আপনাকে বিভ্রান্ত করবে। এরা আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে যে আপনি নিজেই সমস্যা। এবং অন্যদেরকে আপনার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিবে। এরা অনেক সময় বুঝেনা কী করেছে। তবে বুঝলেও কোনো পরোয়া করে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এরা নিজেদের কাজের দায় স্বীকার না করছে ততক্ষণ এদের এড়িয়ে চলুন।

৩. যারা আপনাকে শুধু নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়: 

এরা আপনার সময়, শক্তি এবং সম্পদ তাদের নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। কিন্তু আপনার নিজের চাওয়া বা প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিবে না। আর এরা আপনাকে কিছু দিলেও তা দিবে শুধু আপনি যেন তাদেরকে ছেড়ে চলে না যান সে জন্য এবং ভবিষ্যতে আপনাকে যেনো কাজে লাগানো যায়। এরা সাধারণত পছন্দনীয় এবং বেশ আকর্ষণ ক্ষমতাসম্পন্ন টাইপের মানুষ হয়ে থাকেন। এর নিজেদের সুবিধা আদায় করে নেওয়ার জন্য আপনাকে নিজের সম্পর্কে মূল্যবান হওয়ার অনুভূতি এনে দিবে। এবং ভালোবাসায় সিক্ত করবে। কিন্তু প্রয়োজন ফুরালে আপনাকে ফেলে রেখে যাবে। তখন আপনার মধ্যে প্রত্যাখ্যাত হওয়া, নিরাপত্তাহীনতা এবং মূল্যহীনতার অনুভূতি আসবে।

৪. অকার্যকর পারিবারিক সদস্য: 

আপনার কাছের কোনো মানুষও যদি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন এবং মাদকাসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সহযোগিতা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান তাহলে তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করে দেখার এখনই সময়। কারণ এরা নিজেরা তো রসাতলে যাবেই সাথে আপনাকেও টেনে নামাবে। এরা শুধু আপনার ওপর সুবিধা নিবে এবং ব্যবহার করবে। কিন্তু আপনাকে সম্মান করবে না।

৫. যে বন্ধুরা বোঝা হয়ে উঠেছে: 

বন্ধুত্ব হওয়া উচিত পারস্পরিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ। যদি তা না হয় তাহলে এখনই সময় এমন বন্ধুকের ত্যাগ করার। আপনার যদি এমন কোনো বন্ধু থাকে যারা আপনার কোনো কাজে না লেগে বরং বোঝা হয়ে উঠেছে, অথবা যারা শুধু নিজের ব্যাপারেই বলতে আগ্রহী বা অতিবেশি সমালোচক অথবা নেতিবাচক তাহলে এখনই তাকে ত্যাগ করুন।

৬. যারা শুধু আপনার দোষ ধরে: 

এরা সারাক্ষণই শুধু আপনার দোষ ধরবে এবং আপনার প্রতিটি ভুলের খতিয়ান রাখবে। যাতে ভবিষ্যতে সেসব আপনার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা যায়। এরা শুধু আপনি তাদের জন্য কখন কী করেননি, বা তাদেরকে সমস্যায় ফেলেছেন বা কী ভুলভাবে করেছেন সেসব নিয়ে কথা বলবে। এবং আপনাকে ছোট করবে। কিন্তু এরা নিজের কোনো কাজের দায় নিবে না।

৭. অতি সমালোচক: 

আমাদের কেউই নিখুঁত নয়। এজন্য আমরা প্রায়ই কোনো খাঁটি বন্ধুকে আমাদের দুর্বলতাগুলো সততার সঙ্গে ধরিয়ে দেওয়ার কথা বলি। কিন্তু যারা সমসময়ই আপনার সমালোচনা করবে এরা কখনো খাঁটি বন্ধু নয়। এরা আপনি যা কিছুই করেন না কেন তাতেই খুঁত ধরবে। এরা কখনো আপনার প্রতি যত্ন বা ভালোবাসা থেকে এসব করেনা বরং দোষ চাপানো এবং অভিযোগ করার জন্য করে। এরা আপনাকে বুঝাতে চাইবে আপনিই সমস্যা। এ ধরনের মানুষদের অনেক সময় আত্মবিশ্বাস কম থাকে। এবং নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার বোধগুলো অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়।

৮. জীবন সঙ্গীর ক্ষেত্রে সতর্কতা: 

বিষাক্ত রোমান্টিক সম্পর্ক শেষ করা হয়তো একটু কঠিনও হতে পারে। কিন্তু এ ধরনের লোককে নিজের জীবন থেকে বিদায় করে দেওয়া আপনার জন্য অনেক সময় সবচেয়ে সেরা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে।

কোনো সম্পর্কে যদি মিথ্যা, টাকা-পয়সার সমস্যা বা মাদক সেবন জনিত নিপীড়ন, সহিংসতা, পুরোনো সম্পর্কজনিত সমস্যা, অপরাধ রেকর্ড, বেআইনী কাজ করা এবং মাদক সেবনের মতো সমস্যা থাকে তাহলে কোনো অজুহাত বা পরিবর্তনের প্রতিজ্ঞায় বিশ্বাস না করে বরং যত দ্রুত সম্ভব তা থেকে বের হয়ে আসুন।

সফল হতে চাইলে…

তরুণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে মধ্যবয়স্ক একজন উদ্যোক্তাও চান সফলভাবে নিজের ক্যারিয়ার দাঁড় করাতে। কিন্তু অনেকেরই ধারণা, সাফল্য অর্জন বেশ কঠিন। আদতে কিন্তু কৌশল খাটিয়ে কয়েকটি ব্যাপার অনুসরণ করলেই খুব সহজে সফলতা অর্জন করা যায়। কিভাবে? যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রচারিত সাময়িকী ‘সাকসেস’ দিচ্ছে সেই পরামর্শ।

প্রতিশ্রুতির দিকে মনোনিবেশ করুন: 

আপনি আপনার লক্ষ্যের প্রতি কতোটা অটুট? এটি আপনার জন্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি অর্জন করার জন্যে আপনি কী কী করতে চান? নিজেকে সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ করুন, তবেই অনুপ্রেরণা আপনার পেছনে ছুটবে।

জ্ঞান অর্জন করুন, ফলাফলের নয়: 

আপনি যদি আবিষ্কার, উন্নতি, খোঁজ এবং চর্চার দিকে পরিপূর্ণ মনোনিবেশ করেন তাহলে অনুপ্রেরণা সর্বদা ব্যপ্ত হবে। আপনি যদি শুধুই ফলাফল খোঁজেন, তাহলে কখনো ফলাফল আপনার মনোপুত হবে কিংবা কখনো আপনাকে নিরাশ করবে। সুতরাং গন্তব্যের দিকে পরিপূর্ণ মনস্থির না করে যাত্রার দিকে করুন। আপনি প্রতিনিয়ত কী শিখছেন তার প্রতি নজর দিন।

যাত্রাকে আনন্দপূর্ণ করে তুলুন: 

আপনার গন্তব্য যেখানেই হোক না কেন, যাত্রাপথ আনন্দময় করে তুলুন। এই আনন্দের সময়টুকু স্মৃতিচারণ করতে ভালো লাগবে আপনার।

অপ্রয়োজনীয় চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখুন: 

আপনার চিন্তা-ভাবনাই অনুভূতি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। আপনি যেমন চিন্তা আজ করবেন, কাল ঠিক তেমনই ফলাফল অর্জন করবেন। সুতরাং চিন্তা সর্বদা ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করুন। নেতিবাচকতাকে কোনোভাবেই কাছে ভিড়তে দেবেন না।

কল্পনাশক্তি ব্যবহার করুন: 

নেতিবাচক চিন্তাসমূহ ঝেড়ে ফেলেছেন তো? এবার তবে কল্পনাশক্তিকে ব্যবহার করুন। আপনি যদি পুরোপুরিভাবে ইতিবাচক চিন্তাভাবনায় পরিপূর্ণ হয়ে থাকতে পারেন, তাহলে কল্পনা করা আপনার জন্য মোটেও কঠিন বিষয় নয়। এর মাধ্যমেই আপনি অনেক কিছু শিখতে, বুঝতে ও জানতে পারবেন।

নিজের প্রতি ভালো ব্যবহার বন্ধ করুন: 

সফল হতে হলে আপনাকে এ গুণের চর্চা অবশ্যই করতে হবে। কোনো বিশেষ মুহূর্ত কিংবা ক্ষণের অপেক্ষা না করে প্রতিটি সময়কেই কাজে লাগান। নিজেকে মেলে ধরুন সব সম্ভাবনার সামনে। কোনোভাবেই নিজের সঙ্গে আপোষ কিংবা সমঝোতা করার দরকার নেই।

যেকোন বাধা থেকে দূরে থাকুন: 

অর্থহীন বিষয় আপনাকে সর্বদা বিরক্ত করবে, এটাই স্বাভাবিক। এগুলোকে খুব শক্ত হাতে মোকাবেলা করতে হবে। চ্যালেঞ্জ থাকবেই মানুষের জীবনে, সেগুলো কাজে লাগিয়েই আপনি সফলতা অর্জন করতে পারবেন, অন্যথায় নয়।

অন্যের ওপর নির্ভর করবেন না: 

অন্য কেউ আপনার সব কাজ সম্পাদন করে দেবে, এমন আশায় বসে থাকার কোনো দরকার নেই। সবাই সবার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। নিজের প্রয়োজ়নগুলো নিজেই মেটানো শিখুন। অন্য কেউ কখনো আপনার পথ হেঁটে দেবে না।

পরিকল্পনা করুন: 

জীবনে কী কী কাজ করতে চান কিংবা কী কী উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করুন। পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কাজ হয় না, মনে রাখবেন।

উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন না: 

কিছু সময় আমরা একেবারে উদ্যমী হয়ে কাজ করতে থাকি। কখনো আবার কোন গতিতে এবং কিভাবে কাজ শুরু করবো, তার কোনো দিশা খুঁজে পাই না। এমন যেন কখনো না হয়। আপনি ডায়েরি কিংবা ক্যালেন্ডার মেনে চলতে পারেন। তাহলে কখন-কী করতে হবে সেটি মাথায় ভালো কাজ করবে।

তৈরি করুন ৮টি তালিকা

বলাই বাহুল্য যে সবাই সফল হয়ে উঠতে পারেন না জীবনে। কারণ সবাই জানেন না চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জিনিসগুলোকে কী করে একটা ফ্রেমের ভেতরে এনে সুবিন্ন্যস্ত করতে হবে, কী করে মাথার ভেতরের চিন্তাগুলোকে কাজে লাগিয়ে সুষমভাবে সাজিয়ে নেয়া যাবে।

প্রত্যেকটি মানুষই জীবনে কিছু ব্যাপারে তালিকা করে থাকেন। একজন মানুষকেও জীবনে সফল হতে হলে এই তালিকাগুলো করা অত্যন্ত জরুরি।

১. লক্ষ্যের তালিকা: 

প্রত্যেকটি মানুষেরই উচিত নিজের লক্ষ্যসমূহের একটা তালিকা করে ফেলা। মানুষ হিসেবে আরেকটু ভালো অবস্থানে যেতে, নিজেকে আরো বেশি সফল করে তুলতে, নিজের চোখেই নিজেকে আরো বেশি সম্মানের করে তুলতে অনেক অনেক লক্ষ্যের অদৃশ্য একটা তালিকা মনে মনে সব মানুষই করে রাখেন। হতে পারে সেটা আর্থিক স্বাচ্ছল্য, ভালো ফলাফল করা, পদোন্নতি পাওয়াসহ আরো অনেক কিছু। কিন্তু সেগুলোকে দৃশ্যমান করে একটা তালিকা করে ফেলুন। কারণ এই তালিকার দিকে চোখ বুলালেই আপনার ভবিষ্যতের জন্যে কাজ করার স্পৃহা বেড়ে যাবে। সেই সাথে বাড়বে এগিয়ে যাওয়ার মনোবলও।

২. কাজের তালিকা: 

মানুষ প্রতিদিন অনেক অনেক কাজ করে। কিন্তু সেগুলোর কোনো তালিকা না থাকায় মাঝে মাঝেই হারিয়ে যায় কিছু কাজ করার স্মৃতি কিংবা মনেও থাকেনা সব কাজ করতে। আর তাই দিনে কী কী কাজ করলেন সেটার একটা তালিকা করে নিন। হতে পারে আপনার সামনের কাজটি অনেক বড়। একদিনে নয়, সেটা শেষ করতে সময় লাগবে এক সপ্তাহ বা এক মাস। কাজটিকে অনেকগুলো ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে নিন। আর প্রতিদিন সেগুলোর একটা একটা করে শেষ করে এগিয়ে যান বিশাল কাজটি সম্পূর্ণ করতেও।

৩. চেনা মানুষের তালিকা: 

মানুষের সাথে পরিচিত হওয়াটা কাজের কথা নয়, কাজের কথা হচ্ছে তাদের সাথে সেই পরিচিতির পরিধিটা ন্ধুত্বের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। দীর্ঘস্থায়ী করা। অনেকে নিজেদের মোবাইলে পরিচিত মানুষদের নাম্বার সেভ করে রেখেই নিশ্চিন্ত হয়ে যান। কিন্তু ভুলে যান যে মোবাইল জিনিসটা নশ্বর না। সেটা যে কোন সময়েই হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আর তাই নিজের পরিচিত মানুষদেরও তালিকা আর তাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা লিখে রাখুন।

৪. খরচের তালিকা: 

জনাথন সুইফট বলেছেন- বুদ্ধিমানদের টাকা তাদের হৃদয়ে নয়, মগজে থাকে। ব্যাপারটা একেবারেই সত্যি। প্রতিমাসে হিসেব করে দেখুন। আপনার খরচের খাতায় দুই ধরনের খরচ থাকে। একটি যেটা দরকারী খরচ। অন্যটি হল বিলাসিতা। মানুষ দরকারি খরচ করে বেঁচে থাকার জন্যে। বাকিগুলো ভালো এবং আরো ভালো থাকবার জন্যে। খরচের তালিকা করুন। আর নিজের আয়ের সাথে খরচের হিসেব মিলিয়ে ব্যয় করুন। নাহলে মাসের শেষে হৃদয়ের বিলাসিতা পূরণ করতে গিয়ে যেকোন সময় আপনার মাথার ভেতরটা শূন্য হয়ে যেতে পারে।

৫. জরুরী জিনিসের তালিকা: 

যন্ত্রপাতির এই যুগে আমাদের সবার জীবনই হয়ে গিয়েছে যন্ত্রকেন্দ্রিক। এরা আমাদের জীবনকে করে দিয়েছে অনেক বেশি আরামদায়ক আর সহজ। আর তাই সুইধাভোগের বিনিময়ে আমাদের সবারও উচিত এই জিনিসগুলোর একটা তালিকা করে ফেলা। প্রতিদিনে টুকিটাকি কাজে জরুরী ব্যবহার্য জিনিসগুলোর তালিকা করে ফেলুন এখুনি। তাহলে দরকারি সময়ে সেসবের জন্যে আলাদা সময় বা শ্রম দেওয়া লাগবেনা।

৬. উন্নতির তালিকা: 

মানুষের মনে কাজের ইচ্ছা ও আগ্রহ অনেক বেশি বেড়ে যায় যখন সে তার নিজের উন্নতিগুলো দেখে। অতীতে কাজের বিনিময়ে যতটা ভালো ফলাফল পাবে কেউ, সে তত বেশি আরো ভালো কাজ করতে আগ্রহী হবে। আর তাই নিজের সাফল্যের একটা তালিকা করুন আর নিজেকে পড়ে শোনান প্রতিদিন একবার করে। তাতে নিজের সাফল্য অনেক বেশি উত্সাহী করবে আপনাকে। বেড়ে যায় কাজের পরিমাণ ও গুনগত মান। বাড়বে সফলতা।

৭. নতুন চিন্তা টুকে রাখুন:

ভবিষ্যত মানুষের কাছে অনেকটা অধরা হলেও এবং বর্তমানই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সময় হওয়া সত্ত্বেও তৈরি করুন ভবিষ্যতের একটা তালিকা। তাতে লিখুন কী কী করবেন আপনি আগামীতে। নতুন কোন চিন্তা মাথায় এলেই সেটাকে টুকে রাখুন। কে জানে আজ কাজে না এলেও কালকে হয়তো পুরোপুরি কাজে আসবে সেটা। শুধু তাই নয়, প্রতিটি পরিকল্পনার সাথে সাথে ভবিষ্যতে সেটার অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে আরেকটি পরিকল্পনাও তৈরি করে রাখুন। এতে করে পরে কোন সমস্যা হলেও নতুন পরিকল্পনা দিয়েই পার পেয়ে যেতে পারেন আপনি। আর তাও খুব সহজেই।

৮. সাফল্যের তালিকা: 

কেবল সফলতা পেয়ে হাঁটার গতি আরো বেশি বাড়ালেই হবেনা। এর সাথে সাথে একটা তালিকা করুন যেখানে লেখা থাকবে আপনি এখন অব্দি ঠিক কোন কোন সাফল্য অর্জন করলেন। কাজের আগ্রহ বাড়াতেই কেবল নয়। এই সাফল্যের তালিকাটি একটা সময়, জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতেও হাসি ফোটাবে আপনার মুখে।

না বলুন ৬ টি কাজকে

সবসময় সবাই এটা বলে যে সফল হতে হলে ঠিক কোন কাজটা করতে হবে, কোন পথে আর কি করে করলে দ্রুত সফলতার মুকুটকে মাথায় তোলা যাবে। কিন্তু একজন সফল মানুষ হতে গেলে কেবল কিছু কাজ করলেই হয়না, এর পাশাপাশি কিছু কাজ থেকে বিরতও থাকতে হয়। আর তাই সফল হবার মূলমন্ত্র হিসেবে জেনে নিন সফল হতে হলে কোন কাজগুলোকে না বলতে হবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

১. দোষারোপ করা বন্ধ করুন: 

মানুষ প্রতিদিন নানারকম কাজ করে। কোনোটা থেকে সফলতা আসে, কোনোটায় ব্যর্থতা। সফল হলে অবশ্যই খুশি হবেন আপনি। সফলতার স্বাদ নেবার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু তাই বলে দশবারের ভেতরে একবার ব্যর্থ হলে সেটা নিয়ে মানসিক চাপ নেওয়া বা নিজেকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকুন। কারন, জীবনে এমনটা হবেই। ব্যর্থ হলে তাই নিজের সফলতাগুলোকে সামনে রেখে আবার নতুন করে কাজ শুরু করুন।

২. হ্যাঁ বলা বন্ধ করুন: 

জীবনে অনেকের সাথে পরিচিত হতে হয় পথে চলতে গেলে। আর সেই সাথে বাড়তে থাকে আশপাশের মানুষদের চাহিদাও। হয়তো কোন একটা কাজ ভালো লাগছে না আপনার। কিন্তু কেবল কাছের মানুষেরা কষ্ট পাবে ভেবে হ্যাঁ বলছেন তাদেরকে। করছেন কাজটা। এরকম না হলে ভাল। তবে যদি এমনটাই হন আপনি আর আপনার জীবন তাহলে এখনই পাল্টে যেতে চেষ্টা করুন। অন্যকে শক্তভাবে না বলতে শিখুন। অপছন্দের মানুষ কিংবা অসৎ মানুষদের কাছ থেকেও দূরে থাকুন। স্পষ্ট ভাষায় না বলে হ্যাঁ বলা থেকে বিরত থাকুন প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে।

৩. নিজেকে ছোট করা বন্ধ করুন: 

অনেকে অন্যদের সামনে নিজেকে নিয়ে অনেক রসিকতা করবার চেষ্টা করে। হয়তো সেটা ভালো। তবে সবসময় নয়। কারন একটা কথা দু থেকে তিনবার বললে সেটা আপনার মনের আর মগজের ওপরে একটু হলেও প্রভাব ফেলে। একটু হলেও আপনাকে ভাবতে সাহায্য করবে যে আপনি আসলেই অদক্ষ বা খারাপ। তাই নিজেকে ছোট করা বন্ধ করুন।

৪. বর্তমানকে প্রাধান্য দেওয়া বন্ধ করুন: 

হ্যাঁ, যদি সেটা হয় কিছুদিনের জন্যে, প্রয়োজনীয় কাজ বা নিজের কষ্টকে ভুলে থাকার জন্যে তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু সবসময়কার জন্যে কেবল বর্তমান নিয়ে থাকলে ভবিষ্যৎ কখনোই ভালো ফল বয়ে আনবে না আপনার জন্যে। এমনকি অতীত নিয়ে না ভাবায় অনেক ভূল থেকে যাবে আপনার বর্তমানে। আর তাই কেবল বর্তমান নিয়ে না ভেবে অতীত আর ভবিষ্যতকেও পাশে রাখুন। তবে এটাও মনে রাখুন যে অতীতকে মনে রাখা মানে এই নয় যে অতীতের খারাপ ব্যাপারগুলোকেও সবসময় মনে রাখবেন আপনি।

৫. অবহেলা করা বন্ধ করুন: 

এই অবহেলাটা কেবল কাছের মানুষকেই নয়, বরং নিজেকেও। অনেকে কাজের চাপে কাছের মানুষদেরকে অবহেলা করেন। অবহেলা করেন নিজের শখ আর ভালোলাগাকেও। কিন্তু সফলেরা তা করেনা। তারা কাজের পাশাপাশি সব ব্যাপারকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। নিজের ভাবনা, নিজের ইচ্ছা, শখ আর লক্ষ্যকে এগিয়ে রাখে তারা নিজেদের জীবনে।

৬. তুলনা করা বন্ধ করুন: 

অনেকেই অন্যদের সাথে নিজেকে তুলনা করেন। ফলে কখনো অহংকারী আবার কখনো হীনমন্ম্যতায় ভোগেন। কিন্তু সফল মানুষেরা কখনোই সেটা করেন না। তারা তুলনা করেন। তবে অন্য কারো সাথে নয়। নিজের সাথেই। আজকের আপনি আর গতকালের আপনিকে তুলনা করুন। দেখুন গতকালের ভুল থেকে একটু হলেও এরিয়ে আসতে পেরেছেন কিনা আপনি। অন্যের নয়, নিজের খুঁতগুলো বের করার চেষ্টা করুন। তাহলেই সফলতা ধরা দেবে আপনার হাতে।

আরো পড়ুন