1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

সাবধান হটাৎ ঢাকা ডেংগু জ্বরের প্রকোপ !

অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর হঠাৎ করেই রাজধানীতে বেড়েছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। বিশেষ করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা, হাতিরপুল, আজিমপুর কলোনি, পুরাতন ঢাকা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, বাসাবো, খিলগাঁও, মানিকনগর ও যাত্রাবাড়িতে এর প্রকোপ বেশি। হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে আক্রান্তই সর্বাধিক। দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে হেমোরেজিকের সংখ্যা বেশি। এটাতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোন ওষুধ না খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব অনেক আগে থেকে। প্রায় প্রতি বর্ষাতেই কমবেশি ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরের মৌসুম। ঘনঘন বৃষ্টিপাতে ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা বংশ বিস্তার করে থাকে। শীত আসার আগ পর্যন্ত এই জ্বরের প্রাদুর্ভাব থাকবে। শীতকালে এডিস মশা তেমন একটা বংশ বিস্তার করে না। এ কারণে শীত মৌসুমে ডেঙ্গু জ্বরে তেমন কেউ আক্রান্ত হয় না। এ বছর এ পর্যন্ত ১০ জন ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেছে।

এডিস মশা দ্বারা ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাস ছড়ায়। চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস আছে। এগুলো হলো ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪। এবার সবচেয়ে ঝুঁকি বেশি হেমোরেজিক। সঠিক চিকিত্সা পদ্ধতি গ্রহণ করা না হলে এতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদারের দুই মেয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একটি মেয়েকে ইতিমধ্যে বিদেশে উন্নত চিকিত্সার জন্য পাঠানো হয়েছে। এদিকে এবার চিকুনগুনিয়ার তেমন প্রাদুর্ভাব নেই। কারণ কারো একবার চিকুনগুনিয়া হলে দ্বিতীয়বার আর হয় না। গত বছর ব্যাপক হারে চিকুনগুনিয়া হয়েছিল। তবে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু হয় একই মশার কামড়ে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান ও চিকিৎসক অনুষদের ডিন প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ জানান, সঠিকভাবে চিকিত্সা করা হলে সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত প্রায় শতভাগ রোগীই ভালো হয়ে যায়। যদিও বলা হয় যে ডেঙ্গু হেমোরেজিকে মৃত্যুর হার ৫ থেকে ১০ শতাংশ, কিন্তু বাস্তবে নিজ অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে এই হার ১ শতাংশেরও কম। তাই ডেঙ্গু নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার কারণ নেই। ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় দিন থাকে এবং তারপর জ্বর সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। তবে কখনো কখনো দুই বা তিন দিন পর আবার জ্বর আসতে পারে। জ্বর কমে গেলে বা ভালো হয়ে গেলে অনেক রোগী এমনকি অনেক চিকিত্সকও মনে করেন যে রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে গেছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গু জ্বরে মারাত্মক সমস্যা হওয়ার সময় এটাই। এ সময় প্লাটিলেট কাউন্ট কমে যায় এবং রক্তক্ষরণসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। জ্বর কমে যাওয়ার পরবর্তী কিছুদিনকে তাই বলা হয় ঝুকিপূর্ণ সময়। এ সময়টাতে সবারই সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বর থেকে রেহাই পেতে হলে বাসা বাড়িতে জমাট পানি রাখা যাবে না। বাসন-কোসন, ঘরের ভিতরে এসি, ফ্রিজের পানি যাতে জমাট না থাকে। কারণ জমাট বাধা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে। তিনি বলেন, দিনের বেলায় ফুল পাতা শার্ট ও পায়ে মোজা পড়ে থাকতে হবে। দিনে ঘুমাতে গেলে অবশ্যই মশারি টাঙাতে হবে। কারণ এডিস মশা দিনে কামড়ায়, রাতে কামড়ায় না। শুধু প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোন ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দিয়ে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গু জ্বর হলে প্রচুর পানি সেবন করতে হবে। অবস্থা খারাপ হলে কিংবা অন্য কোন ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খেতে হবে। অভিযোগ উঠেছে, মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম রাজধানীতে তেমন একটা চোখে পড়ে না। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে এ ধরনের অভিযোগ প্রতিদিনই টেলিফোন করে ইত্তেফাককে বাসিন্দারা জানাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, যেহেতু ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত রোগ, এতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। তবে মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গুর সঙ্গে অন্য ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগও থাকতে পারে, যেমন টাইফয়েড ফিভার বা অন্য কোনো ইনফেকশন, যার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিত্সক প্রয়োজন মনে করলে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।

ডেঙ্গু চিকিৎসায় যা মনে রাখা উচিত:

১. ডেঙ্গু কোনো মারাত্মক রোগ নয় এবং এতে চিন্তার কিছু নেই। রোগী ও রোগীর লোকদের অভয় দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

২. ডেঙ্গু জ্বর নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়, এমনকি কোনো চিকিত্সা না করলেও। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়েই চলতে হবে, যাতে কোনো মারা্তক জটিলতা না হয়।

৩. ডেঙ্গু রোগে কী কী করা দরকার, তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ; কী কী করা যাবে না, তা জানাও গুরুত্বপূর্ণ। যা যা করা যায়, তা প্রয়োজন অনুযায়ী করতে হবে, অতিরিক্ত করা যাবে না।

৪. রক্ত বা প্লাটিলেট পরিসঞ্চালন অপরিহার্য-এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। ডেঙ্গু মশা ও তার বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ দুটোই আমাদের চারপাশে বিদ্যমান। তাই ডেঙ্গু জ্বরকে ঠেকিয়ে রাখা কঠিন। ডেঙ্গু আগেও ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই ডেঙ্গু জ্বরকে ভয় না পেয়ে এর সঙ্গে যুদ্ধ করেই এবং একই সঙ্গে প্রতিরোধ করেই চলতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার:

ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে এবং এই ভাইরাসবাহিত এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে হয়ে থাকে। সাধারণত মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস, বিশেষ করে গরম ও বর্ষার সময় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়।

আর এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশাটি ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে। এই জ্বর এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরে জটিলতা সৃষ্টি করে। তবে জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে কয়েক দিনেই ডেঙ্গু পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।

লক্ষণ: ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর এবং সেই সঙ্গে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়। শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়। এ ছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়।

জ্বর হওয়ার চার বা পাঁচ দিনের সময় সারা শরীরে লালচে র‌্যাশ দেখা যায়। যাকে বলা হয় স্কিন র‌্যাশ, অনেকটা অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমি হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়।

এই অবস্থাটা যেকোনো সময় জটিল হয়ে উঠতে পারে। যেমন অন্য সমস্যার পাশাপাশি যদি শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া শুরু হয়। যেমন: চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সঙ্গে, রক্ত বমি, পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে ও চোখের বাইরে রক্ত পড়তে পারে।

এই রোগের বেলায় অনেক সময় বুকে পানি, পেটে পানি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন: ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে এই জ্বর সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তাই উপসর্গ অনুযায়ী সাধারণ চিকিৎসা যথেষ্ট। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো। যেমন-

১. শরীরের যেকোনো অংশে রক্তপাত হলে

২. প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে

৩. শ্বাসকষ্ট হলে বা পেট ফুলে পানি এলে

৪. প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে

৫. জন্ডিস দেখা দিলে

৬. প্রচণ্ড পেটে ব্যথা বা বমি হলে।

চিকিৎসা: ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। এমনকি কোনো চিকিৎসা না করালেও। তবে ডেঙ্গুজনিত কোনো মারাত্মক জটিলতা এড়াতে রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে হবে।

১. সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকতে হবে।

২. যথেষ্ট পরিমাণে পানি, শরবত, ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল-জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।

৩. খেতে না পারলে দরকার হলে শিরাপথে স্যালাইন দেয়া যেতে পারে।

৪. জ্বর কমানোর জন্য শুধু প্যারাসিটামল-জাতীয় ব্যথার ওষুধই যথেষ্ট। এসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক-জাতীয় ব্যথার ওষুধ কোনোক্রমেই খাওয়া যাবে না। এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়বে।

৫. জ্বর কমানোর জন্য ভেজা কাপড় দিয়ে গা মোছাতে হবে এবং মাথায় পানি দিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের মশাটি এ দেশে আগেও ছিল, এখনো আছে। মশা প্রজননের ও বংশবৃদ্ধির পরিবেশও আছে। তাই একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর হাত থেকে বাঁচা সম্ভব। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে, যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে। তাই ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোলা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। ঘরের বাথরুমে বা কোথাও জমানো পানি পাঁচ দিনের বেশি যেন না থাকে। অ্যাকুয়ারিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ারকন্ডিশনারের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে।

এডিস মশা সাধারণত সকালে ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য কোনো সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলা শরীরে ভালোভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে বের হতে হবে, প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের দরজা-জানালায় নেট লাগাতে হবে।

মশা নিধনের স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে করে কোনো মশা কামড়াতে না পারে।

ডেঙ্গু জ্বর থেকে দূরে থাকার উপায়: প্রায় প্রতিবছরই এমন সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় ডেঙ্গু জ্বর। অতীতে মানুষ সাধারণ জ্বরের সঙ্গেই বেশি পরিচিত ছিল। ডেঙ্গু জ্বর সম্বন্ধে পরিচয় ঘটে গত নববইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে। তখন কারো ডেঙ্গু জ্বর হলে চিকিৎসকরাও মনে করতেন তা সাধারণ জ্বর। রোগীকে দেয়া হতো সনাতনী চিকিৎসা। ফলে কিছুতেই ভাল হতে চাইতো না এ জ্বর। যার কারণে অনেক রোগীর মৃত্যুও হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানী তথা ডাক্তাররা বলে থাকেন, এই জ্বর হলে রোগীর শরীরের অনুচক্রিকা বা প্লাটিলেট অনেক কমে যায়। ফলে শরীরে অনেক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর উপসর্গ হলো প্রচন্ড জ্বর। জ্বর হলে শরীরে র‌্যাশ ওঠে ও রক্তক্ষরণ ঘটে। এ জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। অতএব রোগীর সেবা করলে সেবাকারীর শরীরে রোগীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না মোটেই।

এক সময় এ জ্বর নিয়ে নানাজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলেও এখন তা মোটেই আতঙ্কের নয়। কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে এ জ্বর থেকে দূরে থাকা যায়। অর্থাৎ এ জ্বরে আক্রান্ত হলে সহজে তা থেকে মুক্তিও পাওয়া যায়। অবশ্য এজন্য প্রয়োজন যথাসময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা। আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ খেলে শিশুর ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। ঠান্ডা, কাশি ইত্যাদিতে আক্রান্ত মায়ের দুধ খেলেও শিশুর শরীরে এর প্রভাব পড়ে না। অথচ আমাদের সমাজে একটি ভ্রান্ত ধারণা এখনো রয়েছে। তা হলো- মা যে রোগে আক্রান্ত শিশু সেই মায়ের বুকের দুধ খেলে শিশুও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ডেঙ্গু জ্বর দেখা দিলে পাঁচ-ছয় দিন পর আক্রান্ত রোগীর রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। এর আগে রক্ত পরীক্ষা করলে না-ও আসতে পারে সঠিক ফলাফল। অর্থাৎ যথাযথ সময়ে রক্ত পরীক্ষা করার ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এজন্য এ জ্বর দেখা দিলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সেই অনুযায়ী চলা উচিত। একটি বিষয় জেনে রাখা ভাল। তা হলো- সব ডেঙ্গু রোগীর রক্তের চিনির মাত্রা পরীক্ষা করা দরকার।

এ রোগে আক্রান্ত হলে রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খেতে দিতে হয়। এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো প্রয়োজনীয়তা বা ভূমিকা নেই। মূলত এডিস মশার কামড়ে হয় ডেঙ্গু জ্বর। স্যাঁতসেঁতে পানিতে জন্মায় এডিস মশা। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড় দেয়। দিনে শোয়ার প্রয়োজন হলে মশারি টাঙিয়ে নিলে নিরাপদে ঘুম আসা যায়। এডিস মশা নির্মূল করতে হলে আগে এর বসবাসের স্থানের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থাৎ যেসব স্থানে এর প্রজনন ঘটে সেসব স্থানে যেমন নারিকেলের মালা, টায়ার, কৌটা বা বোতল, বিভিন্ন স্থানের কোণা-কানচি ইত্যাদি স্থানে জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে। ফুলের টব, ফ্রিজের পানি জমার ট্রেতে যাতে পানি জমতে না পারে সেদিকেও নজর দিতে হবে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের পানি যাতে করে বা ঘরের বারান্দায় জমতে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। বাড়ি-ঘরের সব জায়গা পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে। বৃষ্টির পর জমানো পানি সরিয়ে দিতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের সাবধানতা সম্বন্ধে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো উচিত বিভিন্ন মাধ্যমে। তা হওয়া উচিত সহজ সরল ভাষায়।

আরো পড়ুন