1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ সম্মত বাসা ও অফিসের জন্য লাইট কেনার আগে যা জানা জরুরী!

ইনক্যান্ডেসেন্ট বাল্ব/টিউবের যুগ শেষ। এখন শুরু হয়েছে এলইডি বাল্ব/টিউবের যুগ। এলইডি বাল্ব/টিউবের উপকারিতা জানার পর অনেকেই পুরনো ফ্লুরোসেন্ট আর সিএফএল বাল্ব/টিউব ফেলে দিয়ে এগিয়ে গেছেন এলইডি লাইটের দিকে। কিন্তু এলইডি লাইট লাগানোর পরেও অভিযোগের শেষ নেই। “এত ওয়াটের বাল্ব/টিউব লাগিয়েও আলো এত কম কেন?”, “আলোয় শ্যাডো কীসের?”, “এত অনুজ্জ্বল হয়ে জ্বলে কেন?”, “ভেবেছিলাম আলোটা সাদা ফকফকে হবে, এমন হলুদ টাইপের কেন?”, “যতটা স্থায়ী হবে বলেছিল, তার অনেক আগেই বাল্ব/টিউব নষ্ট হয়ে গেল কেন” ইত্যাদি অভিযোগ থেকেই যাচ্ছে কারো না কারো।

কিন্তু এলইডি লাইট যদি এত ভালোই হবে, তবে এসব অভিযোগ কেন? হয়তো বাল্ব/টিউবটি কেনার সময় যা যা মনে রাখা দরকার ছিল, তা আপনি মনে রাখেননি কিংবা আপনি হয়তো তা জানতেন না। আসুন, জেনে নিই তবে—

১. আলোর উজ্জ্বলতার জন্য দেখুন লুমেনস লাইট কিনতে গিয়ে আলোর উজ্জ্বলতার কথা চিন্তা করে আপনি কি ওয়াট-এর কথা মাথায় রাখেন?

তাহলে পুরনো লাইটের ক্ষেত্রে যা জানতেন, তা ভুলে যান। কেননা এলইডি লাইটের ক্ষেত্রে ওয়াটের থেকে লুমেনস খেয়াল করা বেশি জরুরী। একটা বিষয়ই চিন্তা করে দেখুন না, একটা ৬০ ওয়াটের ফ্লুরোসেন্ট কিংবা ১৫ ওয়াটের সিএফএল থেকে যেমন উজ্জ্বলতা পাওয়া যায়, সেই একই উজ্জ্বলতা দিতে পারে মাত্র ৫ ওয়াটের একটি এলইডি বাল্ব। আসলে, ওয়াট দিয়ে বোঝা যাবে বাল্বটা কী পরিমাণ এনার্জি ক্ষয় করবে।

তাহলে?

তাহলে এলইডির ক্ষেত্রে প্যাকেটের গায়ে লুমেনস কত লেখা আছে তাই দেখে কিনুন। লুমেনস যত ওপরের দিকে থাকবে, আলোর উজ্জ্বলতা ততো ভালো হবে।

২। কেমন আলো চান?

দেখুন কালার টেম্পারেচার সনাতন বাল্ব/টিউবগুলোর মতো এলইডি-তে কিন্তু শুধু এক ধরণের আলো হয় না। চিত্তাকর্ষক নানান ধরণের রঙ্গের আলোর এলইডি বাতি আছে বাজারে। তার মধ্যে জনপ্রিয় হল ‘’warm white’’, ‘’soft white’’ এবং ‘’bright white’’ এলইডি। এটা নির্ভর করবে বাল্ব/টিউবের কালার টেম্পারেচার কত, সেটার ওপর। কালার টেম্পারেচার যত নিচের দিকে হবে, আলোটা ততো ওয়ার্ম হবে, মানে ইনক্যান্ডেসেন্ট লাইটের মতো হলুদাভ হবে। যদি ধবধবে সাদা আলো পেতে চান,তাহলে অবশ্যই কালার টেম্পারেচার ওপরের দিকে থাকতে হবে। তাই, বাল্ব কেনার আগে প্যাকেটের গায়ে কালার টেম্পারেচার কত লেখা আছে দেখে নিন।

৩। মানিব্যাগে পর্যাপ্ত টাকা আছে তো?

বাংলাদেশে কোন একটি পণ্যের বিজ্ঞাপণে যেন একটি বাক্য ব্যবহার করা হয়- “জিনিস যেটা ভালো, দাম তার একটু বেশি”। এলইডি বাল্বের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ফ্লুরোসেন্ট কিংবা সিএফএল-এর চেয়ে এলইডি বাল্বের দাম একটু বেশি তো বটেই। একটা ৬০ ওয়াটের ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব যেখানে ৪০ টাকা, আর সিএফএল যেখানে ২২০ টাকা, একটা ৫ ওয়াটের এলইডি বাল্বের জন্য আপনাকে সেখানে ৩১০ আর ১৩০ টাকা বেশি গুনতে হবে। কিন্তু, ৫ ওয়াটের একটা এলইডি বাল্বের স্থায়ীত্ব যদি ৫৬,০০০ ঘন্টা হয়, তা আলো যদি দেয় তেমনই উজ্জ্বল, আর বাঁচায় যদি তেমনই বিদ্যুৎ বিল, তবে টাকা একটু বেশি গুনলে কি আর্থিক ক্ষতি হবে কারো?

৪। বাল্ব উপযোগী সুইচ বাছাই করুন সার্কিটের কারণে এলইডি বাল্বগুলো প্রায়ই দাদার আমলের সুইচগুলোর সঙ্গে খাপ খেতে চায় না। লাইট ফিট করার পর দেখা যায়, আলোটা তেমন উজ্জ্বল হল না, কাঁপছে কিংবা এক ধরণের ভোঁ ভোঁ শব্দ আসছে। এরকম ক্ষেত্রে বাল্ব-উপযোগী সুইচ সংযুক্ত করতে পারলেই ঠিকঠাক সার্ভিস পাওয়া যায়। বা, বাল্ব কেনার সময় ট্র্যাডিশনাল সুইচের সঙ্গে খাপ খায় এমন বাল্ব কেনার দিকে মনযোগী থাকলেও হয়।

৫। কোথায় স্থাপন করবেন সাধের এলইডি?

একেবারে বন্ধ জায়গায় নয় আপনি হয়তো জানেন, এলইডি বাল্বগুলো তাদের চাচাতো ভাই ইনক্যান্ডেসেন্ট লাইটের চেয়ে বেশি ঠান্ডা থাকে, যে কারণে এই বাল্বগুলোর স্থায়ীত্ব অনেক বেশি হয়। কিন্তু এর মানে এই না যে, এগুলো উত্তপ্ত হয় না। তবে কিনা এলইডি লাইটে এই তাপ অপসারণের একটি উপায় আছে। বাল্বের বেইজে একটা হিট সিংক থাকে; যা উত্তাপটুকু হাওয়ায় মিলিয়ে দেয়। তাই, বাল্ব বা টিউবটিকে যদি খুব বন্ধ জায়গায় ফিট করা হয়, সেই উত্তাপটুকু পুরোপুরি বিলীন হবার সুযোগ পায় না। এইজন্য কোথায় সেটা ফিট করতে চান ভালো করে ভেবে দেখুন।

আরো পড়ুন