1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন

৫ সেকেন্ডে ব্লাড গ্রুপ নির্নয় ‘ ডিভাইস’ তৈরী করেছে তরুন ইঞ্জিনিয়ার!

সূর্য দাসের উদ্ভাবিত ‘ব্লাড গ্রুপ ডিটেকটিং ডিভাইস’ সেকেন্ডে বলে দেবে রক্তের গ্রুপ

স্বচ্ছ কাচের ওপর রক্তের ফোঁটা। তার ওপর কেমিক্যাল মিশিয়ে নাড়াচাড়া। কিছুক্ষণ পর চোখে দেখে গ্রুপ নির্ণয়। অভিজ্ঞদেরও ৫ মিনিট সময় তো লাগবেই। কিন্তু মিনিটের কাজটি নির্ভুলভাবে কয়েক সেকেন্ডে করে দেবে সূর্য দাসের উদ্ভাবিত ছোট্ট একটি ডিভাইস।

২৪ বছর বয়সী সূর্য বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ তম ব্যাচের ছাত্র। তার আরেকটি পরিচয় তিনি রক্তদাতাদের সংগঠক।

২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২১ বার রক্ত দিয়েছেন সূর্য। ২০১২ সালে ফেসবুকে ‘সিটিজি ব্লাড ব্যাংক’র মাধ্যমে সংগঠিত করেন রক্তদাতাদের। স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ঝুঁকি, সময়ক্ষেপণ তাকে পীড়া দিচ্ছিল। নতুন ডিভাইস উদ্ভাবনে প্রেরণা জুগিয়েছেন প্রিমিয়ারের শিক্ষক সরিৎ ধর ও সাইফুদ্দিন মুন্না। সরিৎ ধর ছিলেন প্রজেক্ট সুপারভাইজার।

সূর্য দাস বলেন, সনাতন পদ্ধতিতে চোখে দেখে ম্যানুয়ালি ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় প্রক্রিয়ায় ভুল হওয়ার যেমন আশঙ্কা থাকে তেমনি সময়ও লাগে বেশি। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, তৈরি পোশাক কারখানা কিংবা কোনো মেলা-খেলার মতো বড় আয়োজনে যখন আমরা অনেক মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করি তখন বিষয়টি পীড়াদায়ক।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে রক্তের ছবি তুলে ইমেজ প্রসেসিং করে কম্পিউটারাইজড রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের পদ্ধতি চালু হলেও তা ব্যয়বহুল। কম খরচে মানুষের কল্যাণে দ্রুত রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ই আমার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল। এক বছর গবেষণার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহেদ আহমেদ চৌধুরীর দিকনির্দেশনায় ‘ব্লাড গ্রুপ ডিটেকটিং ডিভাইস’ উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছি।

প্রজেক্ট সুপারভাইজার সরিৎ ধর ও প্রভাষক সাইফুদ্দিন মুন্নার সহযোগিতার কথা জানিয়ে সূর্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, স্বয়ংক্রিয় ডিভাইসটি দিয়ে ইতিমধ্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকে দেড়শ মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করেছে। শতভাগ সফল হয়েছি আমরা। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে নির্ভুল রেজাল্ট দিচ্ছে ৭৫০ গ্রাম ওজনের ডিভাইসটি।

সরিৎ ধর  বলেন, এক বছরে বেশি সময় ধরে সূর্য দাস রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের ডিভাইস নিয়ে কাজ করেছেন। এ ডিভাইসে দেড়শ মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় হয়েছে। ওই স্যাম্পলগুলো স্লাইডে নিয়ে ম্যানুয়ালি পরীক্ষাও করা হয়েছে। একই রেজাল্ট এসেছে। প্রথম দিকে কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। সেগুলো আমরা উতরে এসেছি। আশাকরি, দ্রুততম সময়ে নির্ভুল রেজাল্টের নিশ্চয়তা ও সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় এ ডিভাইসটি মানুষের কল্যাণে কাজে লাগবে।

সাইফুদ্দিন মুন্না বাংলানিউজকে বলেন, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্বখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেনের এবং ইইই বিভাগে প্রধান টুটন চন্দ্র মল্লিকের অনুপ্রেরণায় এ ধরনের একটি জনহিতকর প্রকল্প সাফল্যের মুখ দেখেছে। রক্তের সঙ্গে এন্টি এ, এন্টি বি, এন্টি ডি কেমিক্যাল মিশিয়ে আইআর সেন্সরের এনালগ ডাটার সাহায্যে কয়েক সেকেন্ডে ব্লাড গ্রুপিং করাটা বিস্ময়কর। মাত্র তিন সেকেন্ডে পজেটিভ রক্তের রেজাল্ট পাচ্ছি। নেগেটিভ রক্তের বিশেষ করে এবি গ্রুপের জন্য সর্বোচ্চ ৫ সেকেন্ড। আমরা আশা করছি কয়েক মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় রূপে ডিভাইসটি বিশ্বব্যাপী বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

তথ্য সূত্রঃ বাংলা নিউজ ২৪

আরো পড়ুন