1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন




৬ টি বিস্ময়কর জিনিস ঘটে যখন তুমি নিজের উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করো

তুমি কি একবার চিন্তা করেছো, তোমার প্রতিটি দিন যদি সেই কাজগুলো করে কাটতো যেগুলোতে তোমার সবচেয়ে বেশী উৎসাহ, তাহলে কত রোমাঞ্চক হতো জীবনটা? তোমার মানসিক উত্তেজনা ঠিক সেই সময়ের মত হতো যখন তুমি জীবনের লক্ষ্য ঠিক করতে গিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে মনের শ্রেষ্ঠ ইচ্ছার কথা ভাবতে।

কিন্তু এইরকমটা হয়না, কারণ আমরা বাস্তবতার মাঝে আমাদের উৎসাহগুলো পেছনে ফেলে আসি। কিন্তু এই “বাস্তবতা” বিষয়টা আসলে কি? এবং কেনই না বাস্তবতার কারণে আমাদের স্বপ্ন এবং মনের ইচ্ছাগুলোকে ভুলে যেতে হয়?

একটা জবাব প্রায়ই আসে যে সমাজ আমাদের স্বপ্নগুলো নিয়ে আমাদের বেশিদূর আগাতে সাহায্য করে না। তাই আজকে তোমাকে জানাই, সমাজ যখন তোমার স্বপ্ন আর তোমার উৎসাহকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে বিভ্রান্ত করবে, ১০টি বিস্ময়কর জিনিস তোমার মধ্যে ঘটবে যখন তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী জীবন ঠিক করবে।

১. আত্মবিশ্বাস বাড়ে

সবাই জানে যে মানুষ তার নিজের পছন্দের কাজের মাধ্যমে সকলের কাছে পরিচিত হতে পছন্দ করে। কিন্তু এটাও সত্যি যে মানুষ নিজের পছন্দের কথা সকলের কাছে প্রকাশ করতে পারে না। যখন তুমি অন্যের অভিমতগুলো উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারবে, তোমার নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করতে কোন দ্বিধা বোধ করবে না।

প্রায় সময়েই তুমি যখন অন্যের অভিমতগুলো উপেক্ষা করতে পারো না, তোমাকে এমন একটা জীবন গ্রহণ করতে হয় যা অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য। তোমার নিজের উপর বিশ্বাস ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তুমি সমাজ, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের কথামত চলতে শুরু করো। এটা হয় কারণ তুমি যা করছ তাতে তোমার খুবই কম নিয়ন্ত্রন থাকে। খুব সহজের এই কাজগুলো তোমার কাছে বোঝা বলে মনে হয় এবং ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার কারণে সমাজে টিকে থাকার ভয় সবসময় তোমার মধ্যে তাড়া করতে থাকে।

কারণটা খুব সহজ, তুমি যখন এমন কাজ করে জীবন পাড় করছ যা তোমাকে মানসিক শান্তি দিচ্ছেনা, সেই কাজে তুমি কখনোই তোমার সর্বোচ্চ দিতে পারবে না। ফলাফল, সাধারন এবং ভীত একটা জীবন তোমাকে সারাক্ষণ পীড়া দিতে থাকবে।

২. মানসিক অশান্তি কমে যাবে

চাকরী জীবনের অশান্তি হচ্ছে প্রাপ্ত বয়স্কদের হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য রোগের মূল উৎস।

প্রথমেই মানসিক অশান্তির ব্যাপারটা তোমাদের কাছে একটু পরিষ্কার করি। ব্যাপারটা এমন নয় যে তোমার মনের ইচ্ছা মত কাজ করলে মানসিক অশান্তি হবে না। কিন্তু, নিজের ইচ্ছা থেকে যে কাজ তুমি করো, সে কাজে কোন চ্যালেঞ্জ আসলে সেটা মোকাবেলা করার একটা ইচ্ছাও তোমার মধ্যে জন্ম নেয় এবং সেটাই সফলতার জন্য সবচেয়ে বেশী কার্যকর।

আর যারা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করেনা তাদের কাছে প্রত্যেকটা কাজই বিরক্তিকর মনে হয় এবং কাজ করার দিকে মনোযোগ না দিয়ে কাজ শেষ হবার সময়ের দিকে বেশী নজর দেয়। চিন্তা করে দেখো, এরকম মানসিক অশান্তি আর আক্ষেপ নিয়ে প্রতিটা দিন পাড় করা কতটা যন্ত্রনাদায়ক।

৩. কাজের পরিপূর্ণতা

“বাঁচার জন্য কাজ করা” – এর থেকে ভয়ংকর বাস্তবতা আর হতে পারে না। তোমার নিজেকে সারাক্ষণ বন্দি মনে হবে কারণ, তোমার কাজ পাওয়া অর্থ থেকেই তোমার বাড়ি ভাড়া, খাওয়া দাওয়া থেকে সবকিছু নির্ভরশীল। তাই কাজ যতই অপছন্দের হোক না কেন, আমাদের নিজেকে সেই কাজের মধ্যেই রাখতে হয় আর যা করতে উৎসাহ ছিল সেটা জীবন থেকেই দূরে সরিয়ে দিতে হয়। এটা বাস্তবতা মেনেই সারাটা জীবন পাড় করে ফেলছি তাই না? কিন্তু একবারও কি এভাবে চিন্তা করে দেখেছো, তোমার এই কাজের কোন পরিপূর্ণতাই পাচ্ছে না শুধুমাত্র তুমি তোমার কাজটি উপভোগ করতে পারছ না তাই।

যারা নিজের উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করে তাদের দিকে লক্ষ্য করে দেখো, কাজ থেকে প্রাপ্তি কি হচ্ছে সেটা তাদের মূল মনোযোগের বিষয় নয় বরং সেটা আরও কিভাবে ভালো করা যায় সেটা নিয়ে তারা চিন্তা করতে থাকে। কাজের এই পরিপূর্ণতাই সময়ের সাথে এর সঠিক মূল্যায়ন করে।

৪. কর্ম জীবনে ভারসাম্য আনার দক্ষতা

বলা হয়, যদি তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করো, তাহলে তোমার আর কর্ম জীবনের ভারসাম্য নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। তার মানে হলো কর্ম জীবনের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে সমস্যা তখনই আসে, যখন আপনার কাজের সময়টা আপনাকে মানসিকভাবে তৃপ্তি দেয় না।

যখন তুমি তোমার উৎসাহ অনুযায়ী কাজ করবে, তখন তোমার মনেই হবে না তোমার কাজের সময় তোমার জীবন থেকে আলাদা। আর এই মানসিকতাই তোমাকে শান্ত আর সুখী রাখবে।

৫. জীবন নিয়ে আক্ষেপ কম হবে

দিন শেষে, মানুষ সেই সকল কাজ নিয়ে আক্ষেপ করে না যা তারা করেছে, বরং সেই কাজগুলো নিয়ে আক্ষেপ করে যা তারা করতে পারেনি।

ভেবে দেখো, তুমি কাজের মাধ্যমে তোমার স্বপ্ন আর উৎসাহের পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছো। এবার ভেবে দেখো, তুমি অন্য কারো কাছে কি কি কারণে তোমার স্বপ্ন আর উৎসাহগুলো থেকে সরে আসতে হয়েছে এই নিয়ে আক্ষেপ করছো। যা বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষের সাথেই হয়ে থাকে। সমাধান এখন তোমার কাছে। জীবন একটাই আর এই জীবন নিয়ে আক্ষেপ করে বেঁচে থাকাটা কোন সমাধান হতে পারে না।

৬. আত্ম উন্নতি ঘটবে

নিজের উৎসাহ এবং স্বপ্নের পেছনে না ছোটার মূল কারণ হলো অনিশ্চয়তা। অনেক সময়ই আমরা নিশ্চিত হতে পারি না যে নতুন কিছু করে দেখানোর স্বপ্নটা বাস্তবায়নের জন্য আমি উপযুক্ত কি না অথবা আমার এই স্বপ্ন অর্থনৈতিকভাবে আমাকে স্বাবলম্বী রাখবে কি না।

তোমার এই চিন্তা সঠিকও হতে পারে কিন্তু, এর মানে এই না যে সত্যিটা মেনে নিয়ে তোমাকে হাল ছেড়ে দিতে হবে। তার বদলে তুমি তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজেকে যতভাবে প্রস্তুত করা যায় সেদিকে সময় বেশী দিলে আত্ম উন্নতির মাধ্যমে অনেক অনিশ্চয়তা মোকাবেলা করতে পারবে।

নিজের উৎসাহকে প্রাধান্য দিয়ে তালিকা করে নাও তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তোমাকে কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং নিজেকে উপযুক্ত করে এগিয়ে যাও।

পরিশেষে আমার দিক থেকে আমি একটা কথাই বলবো, জীবনে আমাদের অস্তিত্ব অসীম সময়ের জন্য নয়। তাই নিজের উৎসাহকে গুরুত্ব কম দিয়ে এবং ভয়কে প্রাধান্য দিয়ে যদি তুমি এমন কোন একটা জীবন কাঁটিয়ে দাও যা আসলে তোমার জন্য নয়, তাহলে সেই আক্ষেপ থেকে পাওয়া কষ্ট থেকে তুমি কখনো মুক্তি পাবে না।




আরো পড়ুন













© All rights reserved © 2021 power of people bd
Theme Developed BY Desig Host BD