1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন

আঁতেল কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি?

আঁতেল :

ইহা এক বিশেষ শ্রেনীর প্রানী যাহারা প্রচুর পড়াশোনা করতে ভালবাসে এবং অক্সিজেন ছাড়া বাচতে পারলেও পড়াশোনা ছাড়া বাচতে পারেনা।

নামকরনের সার্থকতা :

আরবের তেল যেমন কোনদিন শেষ হওয়ার নয়, পড়াশোনার প্রতি এদের আগ্রহও কোনদিন শেষ হবার নয়। আরবের তেলের সাথে মিল রেখে তাদের নাম দেওয়া হইয়াছে আ+তেল=আতেল।

প্রকারভেদ: আঁতেল মূলত ৯ প্রকার যথা:-

১।নিরুপায় আঁতেল :

এই শ্রেনীর ভদ্রলোকেরা সারা বছর আকাজে-কুকাজে সময় ব্যায় করে পরীক্ষার আগের রাতে নিরুপায় হয়ে আতেল হইতে বাধ্য হয় এবং সিলেবাস দেখিয়া খুব দ্রুতই হতাশ হইয়া পড়া ছাড়িয়া ঘুমিয়ে পড়ে। যথারীতি পরীক্ষার একঘন্টা আগে ঘুম হইতে উঠিয়া শুধুমাত্র ভাগ্যের উপর ভরসা করিয়া পরীক্ষা দিতে যান।

২।Idiopathic আঁতেল :

এই শ্রেনীর আতেলরা নিজেরাও জানে না তারা কেন এত পড়াশোনা করে। কেন করছে কি জন্য করছে এগুলা ভাবার সময়ও তাদের হয়না।তাদের কাজই শুধু পড়াশোনা করা। অজানা কারনে আতলামির জন্য ইহারা idiopathic আতেল।

৩।হতাশ আঁতেল :

এই শ্রেনীর আতেলরা সারা বছর কোপায়ে পড়াশোনা করবে এবং পরীক্ষার আগের রাতে এসে “কিছু মনে থাকছেনা, আমার কি হবে??” এইরকম মেয়েমানুষ মার্কা ডায়লগ দিবে এবং হতাশ হওয়ার ভান ধরবে। এদের পরীক্ষা খারাপ হয়েছে এমন কোন রেকর্ড নাই।

৪।ভন্ড আঁতেল :

এই শ্রেনীর আতেলরা খুবই ডেঞ্জারাস হয়ে থাকে। তারা সারাদিন পড়াশোনা করে এবং দিনশেষে অন্যদেরকে আতেল বলে পৈশাচিক আনন্দ পায়। তারা দাবি করে তারা কিছু পড়েনি, বই সামনে রেখে শুধু ফেসবুক গুতিয়েছে কিন্তু পরীক্ষা রেজাল্টের সময় এদেরকেই উপরের দিকে দেখা যায়।নিজে আতলামি করে অন্যকে আতেল ডাকার জন্য এরা ভন্ড আতেল।

৫।ঘুমন্ত আঁতেল :

এরা মনেপ্রানে আতেল কিন্তু তাদের একমাত্র শত্রু হল তাদের ঘুম। তাদের মনে সবসময় পড়াশোনা আর ঘুমের মধ্যে একটা চাপা স্নায়ুযুদ্ধ চলে এবং এই স্নায়ুচাপ সহ্য না করতে পেরে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। এরাও নিরুপায় আতেলের মত পরীক্ষার আগের রাতে সারারাত ঘুমিয়ে সকালে ভাগ্যের উপর ভরসা করে পরীক্ষা দিতে যায়।

৬।প্রেমিক আঁতেল :

এই শ্রেনীর আতেলদের কাজ দুইটা। পড়াশোনা আর প্রেম। লাইব্রেরীতে এই দুইটা কাজের এক অপুর্ব সংমিশ্রন হয় বলে প্রায়ই এই শ্রেনীর আতেলদেরকে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইব্রেরীতে দেখা যায়, সমস্যা হল তাদের পাশের সিটটা কখনই ফাকা থাকেনা!! এনারা জোড়ায় জোড়ায় থাকেন

৭।শৈল্পিক আঁতেল :

এরা আতলামীকে একটা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এরা একই সাথে পড়াশোনা এবং এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটি সমানে চালিয়ে যায়। যেমন সন্ধ্যা থেকে পড়ে ১২ টার পর তারা টিভি সিরিয়াল দেখতে বসে অথবা ক্লাস অফ দ্যা ক্লানে অ্যাটাক দেয়। তারা সহজে নিজেকে আতেল বলে স্বীকার করতে চায়না। এরা বাটপার টাইপ হয়।

৮।লোভী আঁতেল:

এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এরা কুত্তার মত পড়াশোনা করতে ভালবাসে। কনকনে শীত কিংবা ঠাডা রোদ কোনকিছুই এদেরকে দমাতে পারেনা। শীতকালে দেখা যায় দৌড়িয়ে ৮ টার ক্লাস ধরছে আবার এই গরমের ঠাডা রৌদেও দুপুরবেলা ছাতা মাথায় দিয়ে লাইব্রেরীতে ছুটছে। এরা কখনই পড়াশোনা নিয়ে সন্তষ্ট হয় না, এরা যত পায় তত চায়। রাত ২টায় ঘুম ভেংগে গেলে তারা লাইট জালিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। হোক ৫ মিনিট তবুও তার পড়া লাগবে। তাদের লোভের কোন শেষ নাই তাই এরা লোভী আতেল।

৯।Ideological আঁতেল বা আর্দশিক আঁতেল:

এরা আতেল হওয়ার সকল আদর্শ বুকে লালন করে এবং তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। একজন প্রকৃত আতেল হওয়ার সকল গুনাবলি ইনাদের মধ্যে বিদ্যামান। এরাই আতেল সমাজের গর্ব। ইনারা শিক্ষক দের প্রিয়পাত্র।

বি.দ্র. আতেলরা  ছাত্রসমাজের গর্ব এবং দেশের অমূল্য রত্ন। তারা অত্যন্ত সম্মানের পাত্র। আতেল কোন গালি নহে ইহা এক উপাধি যা অর্জন করা সহজ কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। সেই প্রস্তর যুগ হতে আতেলরা যুগে যুগে ঝাকে ঝাকে আবির্ভূত হয়েছে, এখনো আছে এবং সামনেও থাকবে।

আরো পড়ুন