1. [email protected] : jashim sarkar : jashim sarkar
  2. [email protected] : mohammad uddin : mohammad uddin
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৩২ অপরাহ্ন

DUET এ এ্যাডমিশান এবং ডিপ্লোমার সকল শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু পরামর্শ !

DUET এ এ্যাডমিশান কোচিং নিয়ে যারা কনফিউশনে আছেন তাদের জন্য এবং পলিটেকনিকের সকল পর্বের ডুয়েট ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু পরামর্শঃপ্রথমেই কনফিউশনে থাকা ডুয়েট ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কিছু কমন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার প্রায়াস পাবো,

১। একটা বছর কোচিং করে যদি চান্স না পাই?

জ্বী, খুব ই যৌক্তিক প্রশ্ন!! কারন অধিকাংশ প্রতিযোগী ই চান্স পাবে না,কিন্তু তাদের কাছে আমার পাল্টা প্রশ্ন, কোচিং না করে এই এক বছরে আপনি এমন কি করতে পারবেন??বড়জোর ১০ হাজার টাকা স্যালারীর একটা জব, এইতো??আর আপনাদের যেসব বড় ভাইয়েরা গত সেশনে গ্রাজুয়েশান কমপ্লিট করেছেন তাদের কতজন এখন মানসম্মত কোন জব করতে পারছে??যদি আপনি চান্স না ও পান, তবুও প্রায় একটা বছরের কোচিং একেবারে জলে যাবে না, যেকোন প্রতিযোগিতা মূলক চাকুরীর বাজারে আপনি এগিয়ে থাকবেন অন্যদের চেয়ে!!!তাহলে কনফিউশনে কেন??

২। ডুয়েটে আমার টেকনোলজির কোন B.Sc নেই,আমাকে মেক্যানিক্যাল অথবা রিলেটেড সাব্জেক্টর জন্য কোচিং করতে হবে,এতে কোন সমস্যা হবে না??

উত্তরঃ আপনার টেকনোলজির ফাস্ট বয় কে প্রথম সেমিস্টারের বই থেকে একটা প্রশ্ন করুন, দেখি তিনি উত্তর দিতে পারেন কিনা!! আসলে কি পড়া আছে এটা কোন ব্যাপার না, বরং কোচিং এর সময়টাকে কতটা কাজে লাগাতে পারবেন সেটাই মূল কথা!

৩। অমুক ভাই এত্ত লেখাপড়া করে,সে সেকেন্ড টাইম ট্রাই করে ও চান্স পায়নি আমি কি করে পাবো?

উত্তরঃ হতাশাবাদী না হয়ে আশাবাদী হন, তাদের কে দেখুন যারা শুধুমাত্র শর্ট কোর্স করেই চান্স পেয়েছে, আর তাদের সংখ্যা ও কম না!! জগতে আশাবাদী রাই জয়ী হয়!!

৪।আমার CGPA তেমন ভালো না, এটা আমার চান্স পাবার পথে কি কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে??

উত্তরঃ নাহ্‌, একদম ই না, কারন গতানুগুতিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মত ডুয়েট কোন শিক্ষার্থী কে তার GPA দিয়ে বিঁচার করে নাহ, শুধু মাত্র এ্যাডমিশান টেস্ট এর ভিত্তিতেই ভর্তি নিয়ে থাকে। যদি GPA এর উপর কোন নম্বর নির্ধারিত থাকতো তাহলে অনেক নিন্মমানের ইন্সটিটিউটের ছাত্র রাও এগিয়ে থাকতো, কারণ তারাই প্রাক্টিক্যাল ও কন্টিনিউয়াস এ্যাক্সেসে ভালো নম্বর পেয়ে থাকে!!

৫। আমি পলিটেকনিক লাইফে তেমন স্টাডি করিনি, সেটা কি এখন পুষিয়ে নিতে পারবো??

উত্তরঃ একটি প্রশ্নের জবাব দিন তো? পরীক্ষার জন্য কয়দিন লেখাপড়া করছেন? সামান্য প্রস্তুতিতেই যদি পলিটেকনিক লাইফ টা শেষ করতে পারেন তাহলে একটি বছর কঠোর সাধনা কি পারবে না আপনাকে ডুয়েট পর্যন্তি নিয়ে যেতে??জ্বী, এখানে আপনার পরিশ্রম করার মানষিকতা টাই হলো আসল কথা!!

৬। কোচিং করে এত্ত টাকা খরচ করেও যদি চান্স না পাই??

উত্তরঃ আমার জানামতে খরচ খুব বেশী না, কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়, খরচ টা আপনার জলে যাবে না, আশা করি পলিটেকনিকে চার বছর এ যা শিখেছেন তারচেয়ে কয়েক গুন শিখতে পারবেন কোচিং থেকে, আর সেটা আপনাকে যেকোন PSC সহ যেকোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে!!

৭। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং শেষ করে ই কি কোচিং শুরু করবো?? নাকি আগে থেকেই??

উত্তরঃ হ্যা, এটা একটা যৌক্তিক প্রশ্ন। তবে যারা একদম ই কাজ জানেন না তাদের বলছি, দেখুন মাত্র তিন মাসের ট্রেনিং আপনাকে বিদ্যাসাগর করে দিবে না!!! সাড়ে তিন বছর যখন ব্যার্থ হয়েছে তখন তিন মাস এর আর কি ভরসা?? ডুয়েট কোচিং এ গেলে তারাই আপনার ট্রেনিং এর সার্টিফিকেট এর ব্যবস্থা করে দিবে, তাই এখন ই কোচিং শুরু করে এগিয়ে যেতে পারেন, মনে রাখবেন আপনাকে উচ্চ মাধ্যমিক লেভেলের পদার্থ, রসায়ন গনিত শেষ করতে হবে!!! তবে যারা ট্রেনিং করতে আগ্রহী তাদের কে না করতে পারি না কারন এটার ও গুরুত্ব আছে। তবে ডুয়েট ই যাদের লক্ষ্য জন্য ট্রেনিং করে সময় নষ্ট করাটা বোকামী,

৮। আমি বেসরকারী ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী, এটা কি কোন সমস্যা??

উত্তরঃ জ্বী না, ডুয়েট চায় মেধাবীদের, সরকারী বা বেসরকারী এখানে কোন বিবেচ্য বিষয় না

৯। প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে B.Sc শুরু করলে সময় কম লাগবে, এটাই ভালো না???

উত্তরঃ আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন ডুয়েট আর প্রাইভেট ভার্সিটির ইভিনিং শিফ্‌ট কি এক হলো???

১০। আমার ৭ম পর্বে রেফার্ড থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে কি??

উত্তরঃ জ্বী, থাকতেই পারে, কিন্তু আপনি কি চান না অষ্টম পর্বেই সেই রেফার্ড কাটিয়ে উঠবেন??? অবশ্য ই চান এবং আপনি সে ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ও বটে, যদি ৮ম পর্বে পরিপূরক পরীক্ষা দিয়ে কাটিয়ে উঠতে পারেন তাহলে তো আর কোন সমস্যা ই থাকছে না, আর সে ব্যাপারে ডুয়েট কোচিং অবশ্যই আপনার সহায়ক হবে।যারা এখন পলিটেকনিকে পড়ছেন তাদের কে সংক্ষেপে বলবো, এখন থেকেই ডিপার্টমেন্টাল সাব্জেক্টের পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থ, গনিত ও রসায়ন বই অধ্যয়ন শুরু করুন, আপনার ইন্সটিটিউটের যেসব বড় ভাইয়েরা ডুয়েট কোচিং করেছে তাদের সহযোগিতা নিন, প্রশ্ন পত্র সম্পর্কে ধারনা পেতে একটি ভর্তি গাইড সংগ্রহ করুন!

জানিয়ে রাখি, ডুয়েটে ৩০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা হয় যার মধ্যে ১৫০ টেক আর ১৫০ ফিজিক্স, ক্যামিস্ট্রি ও ম্যাথ! ডিপার্ট্মেন্ট এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট সাব্জেক্ট গুরুত্বপূর্ণ, বড় ভাইদের কাছ থেকে জানে নিয়ে সেই বিষয় গুলোর প্রতি অধিক গুরুত্ব দিন।

একটি_কথাঃ মনে রাখতে হবে দক্ষতা হীন সার্টিফিকেট মূল্যহীন, তা সে সার্টিফিকেট DUET এর হোক অথবা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হোক! অবশ্যই একজন দক্ষ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার একজন অদক্ষ বিএসসি ইওঞ্জিনিয়ার এর চেয়ে উত্তম, তা সে যেখান থেকেই গ্রাজুয়েশান করু না কেন!!

পরিশেষে বলবো, ডুয়েট উপমহাদেশের মধ্যে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়!! ৮ বছর ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা নেওয়ার ফলে সর্ব ক্ষেত্রেই ডুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। আপনাদের ডুয়েটের যাত্রা শুভ হোক।

আরো পড়ুন